মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আগামীকাল কুড়িগ্রাম যাচ্ছেন এনসিপির ৩ নেতা ময়মনসিংহে ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষ, নিহত ৩ মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি : ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে সবসময় থাকার প্রতিশ্রুতি ডা. জুবাইদা রহমানের প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে যোগ দিলেন রাশেদ খাঁন দিল্লিমুখী হাজারো কৃষক, নতুন চাপে মোদি সরকার ভিডিও ইস্যুতে এবার মুখ খুললেন জামায়াত এমপির ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ পারফর্ম করতে না পারলে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন স্বাভাবিক-তথ্য উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘বার্থা’ সরকারের ঋণ বেড়েছে ২৩ হাজার ৫৩২ কোটি টাকা আফগানিস্তানে আকস্মিক বন্যায় নিহত ২০, নিখোঁজ শতাধিক

ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্টরা কে কোথায়

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৪১৯ বার

২৬ বছর বয়সী তিউনিসীয় ফেরিওয়ালা মোহাম্মদ বৌআজিজি পুলিশের হয়রানি ও রাষ্ট্রীয় অবহেলার প্রতিবাদে নিজের গায়ে আগুন দেন। ১৫ বছর আগের এ ঘটনার মধ্য দিয়েই শুরু হয় আরববিশ্বের ইতিহাস বদলে দেওয়া গণআন্দোলন, যা পরিচিতি পায় ‘আরব বসন্ত’ নামে।

বেকারত্ব, দুর্নীতি, দমন-পীড়ন ও দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা শাসকদের বিরুদ্ধে ক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে তিউনিসিয়া। মাত্র ২৮ দিনের আন্দোলনে ২৩ বছর ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট জিন এল আবিদিন বেন আলি ক্ষমতাচ্যুত হন। এ অভ্যুত্থান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ২০১১ সালে মিশর, লিবিয়া, ইয়েমেন ও সিরিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে গণবিক্ষোভ। এর ফলে পাঁচজন দীর্ঘদিনের শাসক ক্ষমতা হারান। সেই নেতারা এখন কোথায়—তা নিয়েই আলজাজিরার এ প্রতিবেদন।

তিউনিসিয়া: ১৯৮৭ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আজীবন প্রেসিডেন্ট হাবিব বুরগিবাকে শাসনের অযোগ্য ঘোষণা করে ক্ষমতা দখল করেন বেন আলি। সাবেক নিরাপত্তা প্রধান হিসেবে তিনি কঠোর দমননীতি, নিরাপত্তা

সংস্থা-নির্ভর শাসন ব্যবস্থা ও অনুগত রাজনৈতিক দল গড়ে তোলেন। অর্থনীতি কিছুটা খুলে দিলেও দুর্নীতি, বৈষম্য ও গণমাধ্যম সেন্সরশিপ তীব্র আকার ধারণ করে। ২০১০ সালের ১৭ ডিসেম্বর বৌআজিজির আত্মাহুতির পর দেশজুড়ে ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়। ২০১১ সালের ১৪ জানুয়ারি সরকার ভেঙে দিয়ে জরুরি অবস্থা জারি করে বেন আলি সৌদি আরবে পালিয়ে যান। পরে তিউনিসিয়ার আদালত তার অনুপস্থিতিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলেও তা কার্যকর হয়নি। ২০১৯ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের জেদ্দায় নির্বাসিত অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মিশর: ১৯৮১ সালে আনোয়ার সাদাত হত্যাকাণ্ডের পর প্রেসিডেন্ট হন সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান হোসনি মোবারক। জরুরি আইন, সেনাবাহিনীর প্রভাব ও দমননীতির মাধ্যমে তিনি তিন দশক ক্ষমতায় থাকেন। দুর্নীতি, বেকারত্ব ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ২০১১ সালের ২৫ জানুয়ারি দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়।

১৮ দিনের আন্দোলনের পর ১১ ফেব্রুয়ারি মোবারক পদত্যাগে বাধ্য হন। বিপ্লব চলাকালে বিক্ষোভকারীদের হত্যার অভিযোগে তাকে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হলেও পরে তা বাতিল হয়। দুর্নীতির মামলায় কিছুদিন আটক থাকলেও ২০১৭ সালে তিনি মুক্তি পান। ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি কায়রোতে তার মৃত্যু হয়।

ইয়েমেন: উত্তর ইয়েমেন ও পরে একীভূত ইয়েমেন শাসন করা সালেহ উপজাতীয় ও সামরিক রাজনীতির কৌশলী খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০১১ সালের আন্দোলনের পর ২০১২ সালে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন। তবে পরে সাবেক শত্রু হুথিদের সঙ্গে জোট বেঁধে ২০১৪ সালে রাজধানী সানা দখলে সহায়তা করেন। ২০১৭ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করলে হুথিদের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভেঙে যায়। ওই বছরই হুথি বাহিনীর হাতে নিহত হন সালেহ।

লিবিয়া: ১৯৬৯ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে রাজতন্ত্র উৎখাত করে ক্ষমতায় আসেন গাদ্দাফি। তেলসম্পদের ওপর ভর করে ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলেন তিনি। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে বেনগাজিতে মানবাধিকারকর্মী গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু হয়, যা দ্রুত গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়।

ন্যাটো অভিযানের সহায়তায় বিদ্রোহীরা আগস্টে ত্রিপোলি দখল করে। অক্টোবরের ২০ তারিখ নিজ শহর সির্তে পালানোর সময় বিদ্রোহীদের হাতে ধরা পড়ে নিহত হন গাদ্দাফি।

সিরিয়া: ২০০০ সালে বাবার মৃত্যুর পর বিশেষ সাংবিধানিক সংশোধনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট হন বাশার আল-আসাদ। ২০১১ সালে দেরা শহরে স্কুলের দেয়ালে সরকারবিরোধী গ্রাফিতি লেখাকে কেন্দ্র করে যে আন্দোলন শুরু হয়, তা ভয়াবহ গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। প্রায় ১৪ বছর ধরে চলা যুদ্ধে দেশটির অর্ধেকের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়।

২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর হায়াত তাহরির আল-শামের (এইচটিএস) নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহীদের আকস্মিক অভিযানে সিরীয় সেনাবাহিনী ভেঙে পড়ে। দামেস্কে বিদ্রোহীরা ঢোকার পর বাশার

আল-আসাদ পরিবারসহ প্লেনে করে রাশিয়ার মস্কোতে পালিয়ে যান এবং সেখানে আশ্রয় নেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ