নবম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হলে সরকারি চাকরিজীবীদের সব গ্রেড মোবাইল ভাতার আওতায় আসবে। সরকারি দাপ্তরিক কাজে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে এ সুবিধা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রথম থেকে পঞ্চম গ্রেড পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীরা এ ভাতা পেয়ে থাকেন।
গত ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুমোদনের পর অর্থ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মোবাইল ভাতার আওতা বাড়ানোর বিষয়টি জানানো হয়।
বর্তমান ব্যবস্থায় প্রথম থেকে তৃতীয় গ্রেডের কর্মকর্তারা মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং চতুর্থ ও পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তারা ১ হাজার টাকা করে মোবাইল ভাতা পান।
কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ভাতা বাস্তবায়ন করা হলে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও করপোরেশন বাদে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় প্রায় ৬০৬ কোটি টাকা হওয়ার সম্ভাবনা ছিল।
সচিব কমিটির এক কর্মকর্তা বলেন, সরকারি দাপ্তরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে এখন সব স্তরের কর্মচারীকেই মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে হয়। ফলে সব গ্রেডকে ভাতার আওতায় আনা যৌক্তিক। তবে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ভাতার হার কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
ধাপে ধাপে কার্যকর হবে নতুন বেতন স্কেল
জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর্থিক সংশ্লেষ এবং মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে চলতি ২০২৬-২৭ এবং পরবর্তী ২০২৭-২৮ অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে নতুন বেতন স্কেল কার্যকর করা হবে।
নতুন বেতন স্কেলের সুবিধা পাবেন প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক সরকারি কর্মচারী। পাশাপাশি প্রায় সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগীও এর আওতায় আসবেন।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য ভাতা
নতুন বেতনস্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আরও কিছু নতুন সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য ভাতা।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীরা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রতি সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন। নতুন বেতন স্কেলে প্রথমবারের মতো এ ধরনের ভাতা চালুর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।