দেশে এখন সাক্ষরতার হার ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ। বিপরীতে এখনও ২২ শতাংশের বেশি মানুষ নিরক্ষর। তাদের মধ্যে রয়েছে বিদ্যালয়বহির্ভূত ও ঝরে পড়া শিশু-কিশোর, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং শিক্ষাবঞ্চিত প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ। সাক্ষরতার এমন পরিস্থিতির মধ্যেই আজ ৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্যের সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশে দিবসটির প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয়েছে— ‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা।’
নিরক্ষরতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (ইউনেস্কো) ১৯৬৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ৮ সেপ্টেম্বরকে ‘আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। সাক্ষরতার গুরুত্ব সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা সৃষ্টি এবং এখনও নিরক্ষরতার সঙ্গে লড়াই করে যাওয়া লাখো মানুষের সংগ্রামকে তুলে ধরতে দিবসটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
দিবসটি উপলক্ষে গতকাল সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, বর্তমানে দেশের ৫৮ জেলার সদর উপজেলায় ‘কার্যকর সাক্ষরতা ও ব্যবহারিক কর্মদক্ষতা প্রশিক্ষণ (প্রাক্?-বৃত্তিমূলক পর্যায়)’ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রথম ধাপে প্রতি জেলায় ঝরে পড়া ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী ৪ হাজার ৪৪০ জন কিশোর-কিশোরীকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে। প্রতিটি কোর্সে ৪৬০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১০০ ঘণ্টা কার্যকর সাক্ষরতা এবং ৩৬০ ঘণ্টা দক্ষতা প্রশিক্ষণ।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই কার্যক্রমের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো শিক্ষা থেকে কর্মে উত্তরণের সুযোগ সৃষ্টি করা। ইতোমধ্যে বিশেষ কার্যক্রমের আওতায় নিবন্ধিত ৪ হাজার ৩১২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪ হাজার ১৯৮ জন দক্ষ হিসেবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩ হাজার ৮৮২ জন দক্ষ শিক্ষার্থী কোনো না কোনো ধরনের চাকরির সংযোগ পেয়েছেন। এর মধ্যে ৬০৩ জন সরাসরি কর্মসংস্থানে যুক্ত হয়েছেন।
সরকার বলছে, ২০৩১ সালের মধ্যে দেশের সাক্ষরতার হার ৮৬ থেকে ৯০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ৪৫ লাখ নিরক্ষর নারী-পুরুষকে প্রায়োগিক সাক্ষরতার আওতায় আনার পাশাপাশি বিদ্যালয়বহির্ভূত শিশু-কিশোর ও তরুণদের শিক্ষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৭ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর সাক্ষরতার হার ৭৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ। গত কয়েক দশকে বাংলাদেশ সাক্ষরতা বিস্তারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করলেও এখনও বিদ্যালয়বহির্ভূত ও ঝরে পড়া শিশু-কিশোর, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং নিরক্ষর প্রাপ্তবয়স্কদের একটি বড় অংশ শিক্ষা ও দক্ষতার সুযোগের বাইরে রয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো আজ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করেছে।