শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:১০ অপরাহ্ন

জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে দলীয় নয়, জাতীয় ইতিহাস থাকতে হবে: নাহিদ ইসলাম

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ২ বার

জুলাই স্মৃতি জাদুঘরকে কোনো দল বা গোষ্ঠীর ইতিহাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রকৃত ও পূর্ণাঙ্গ জাতীয় ইতিহাস হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

আজ শনিবার জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ই জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের কাজ প্রায় শেষ হয়েছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় পাঁচ মাস পর জাদুঘরটি উদ্বোধন করেছে। এ সময়ের মধ্যে জাদুঘরের কিছু বিষয় পরিবর্তন করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, সীমান্ত হত্যা ও ফেলানী হত্যার মতো গুরুত্বপূর্ণ কিছু স্মৃতি জাদুঘর থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। কী কারণে এগুলো সরানো হয়েছে, তা তিনি জানেন না।

তবে ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক দেখাতে গিয়ে এসব বিষয় বাদ দেওয়া হয়ে থাকলে তা গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এখানে আপসের কোনো সুযোগ নেই। আপস করে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।’

জাদুঘরের বিভিন্ন প্রদর্শনীতে বিএনপির ওপর নির্যাতনের কিছু বিষয় নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ। একই সঙ্গে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্ব আরও বিস্তৃত ও জোরালোভাবে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা এবং ঢাকার বাইরের মানুষের যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল, তা যথাযথভাবে জাদুঘরে উঠে আসেনি। বরং পরিচিত কিছু মুখকে বারবার সামনে আনা হয়েছে। ফলে গণ-অভ্যুত্থানের সামগ্রিক চিত্র এতে পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘরকে দলীয় ইতিহাস না করে জাতীয় প্রকৃত ইতিহাস হিসেবে রাখা হোক। এর আগে আমরা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসও পরিবর্তিত হতে দেখেছি। জুলাইয়ের ইতিহাসের ক্ষেত্রেও যেন একই ধরনের ঘটনা না ঘটে।’

জাদুঘরের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, জাদুঘরের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। জনবলের অভাবে প্রতিষ্ঠানটি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

জুলাই স্মৃতি জাদুঘরকে স্বায়ত্তশাসিত করার দাবি জানিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে রেখে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করলে এর কার্যক্রম যথাযথভাবে এগিয়ে নেওয়া কঠিন হবে। গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে জাদুঘর পরিচালনার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, পর্যাপ্ত জনবল ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না গেলে জাদুঘরের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা কঠিন হবে। এ বিষয়ে সরকারের প্রতি প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগসহ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পর জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের প্রদর্শনীতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতি যথাযথভাবে সেখানে নেই। বিষয়টি নিয়ে তারা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করেছেন বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর শুধু একটি স্থাপনা নয়; এটি দেশের একটি ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ইতিহাস তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তাই এখানে কোনো রাজনৈতিক পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি নয়, বরং আন্দোলনের সামগ্রিক বাস্তবতা, ত্যাগ ও মানুষের অংশগ্রহণের নির্ভুল ইতিহাস সংরক্ষণ করা জরুরি।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ