বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৪:৪৯ অপরাহ্ন

সেরা ২০ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ

সেরা ২০ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ

স্বদেশ ডেস্ক: উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা বিব্যাংকের ইজ অব ডুয়িং বিজনেসে বা ব্যবসা সহজীকরণ সূচকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণের কারণে সহজে ব্যবসা শুরু করা যাবে এমন ২০ দেশের তালিকায় বাংলাদেশ রয়েছে। সংস্থাটি বলছে, আগামী মাসের শেষ দিকে সহজে ব্যবসা সূচক প্রকাশ করবে সংস্থাটি। এতে বাংলাদেশের র‌্যাংকিংয়ের উন্নয়ন হবে। এর পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেছে সংস্থটি। এর ফলে বিনিয়োগ বা উদ্যোক্তা সৃষ্টির ক্ষেত্রে বাংলাদেশে ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। তবে সুফল পেতে ব্যবসার অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সংস্থার কার্যক্রম জোরদারের পরামর্শ দিয়েছেন।
সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ উন্নতিতে সেরা ২০ দেশের মধ্যে থাকবে। কারণ হিসেবে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া সহজ করেছে। বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া ও ঋণপ্রাপ্তির দিক দিয়ে উন্নতি করেছে। নতুন কোম্পানি নিবন্ধনে বাংলাদেশ খরচ কমিয়েছে। ডিজিটাল সনদে ফি বা মাশুল আর নিচ্ছে না। ঋণ তথ্য ব্যুরো (সিআইবি) ঋণ তথ্যের আওতা বাড়িয়েছে। যেখানে এখন পাঁচ বছরের তথ্য পাওয়া যায়, সেটা ঋণের পরিমাণ যা-ই হোক না কেন।
এ বিষয়ে বিশ^ব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ব্যবসা শুরু করার জন্য যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, তা দূর করতে বাংলাদেশ অনেকগুলো পদক্ষেপ নিয়েছে, যা বিশ^ব্যাংকের প্রতিবেদনেরও স্বীকৃতি পেয়েছে। এর ফলে আগামীতে এ সংক্রান্ত যে সূচক প্রকাশ করা হবে, তাতে অবশ্যই বাংলাদেশের অবস্থান এগোবে। তবে কত এগোবে সেটা বলা যাচ্ছে না। এর ফলে বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের মর্যাদা বাড়বে।
তিনি বলেন, যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়ন হলে দেশে ব্যবসা শুরু করা ও অনুমোদন সংক্রান্ত ব্যয় কমে আসবে। কিন্তু দেশি-বিদেশি কাক্সিক্ষত বিনিয়োগ পেতে হলে ভ্যাট আইন ও আর্থিক খাতে সংস্কার, খেলাপি ঋণ কমিয়ে ব্যাংকে তারল্য সংকট কমানোসহ বিদ্যমান অন্যান্য সমস্যা সমাধানে কাজ করতে হবে। এগুলো করতে পারলে বিনিয়োগে দীর্ঘমেয়াদে সুফল মিলবে।
সহজে ব্যবসা সূচকের মাধ্যমে কোনো দেশে ব্যবসা করা কতটা সহজ, তা প্রকাশ পায়। মনে করা হয়, বিদেশি বিনিয়োগ করার আগে দেশ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংকের এ সূচকটি বিবেচনায় আসে। মোট ১০টি ভিত্তির ওপর বিশ্বব্যাংক ডুয়িং বিজনেসের র‌্যাংকিং বা ক্রমতালিকা তৈরি করে। এগুলো হলো ব্যবসা শুরুর অনুমোদন, ভবন নির্মাণের অনুমতি, বিদ্যুৎ সংযোগ, ভূমি নিবন্ধন, ঋণপ্রাপ্তি, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা, কর প্রদান, বৈদেশিক বাণিজ্য, চুক্তির বাস্তবায়ন ও দেউলিয়া ঘোষণার প্রক্রিয়া। এসব প্রক্রিয়ায় জটিলতা, ব্যয় বেশি হওয়া ও দীর্ঘসূত্রতা একটি দেশের পিছিয়ে থাকার কারণ।
ব্যবসা সহজীকরণ বিষয়ে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছেন বিনিয়োগ উন্নয়নের জন্য ব্যবসা সহজ করার বিষয়ে কাজ করতে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) সে কাজ শুরু করেছে। দেশে কীভাবে বিনিয়োগ বাড়াতে পারি, সে দায়িত্ব দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর যে লক্ষ্য, তা অর্জন করতে হলে আমাদের বিনিয়োগ দরকার। শুধু দেশি বিনিয়োগই নয়, বিদেশি বিনিয়োগও দরকার। এর জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ দরকার। অনুকূল পরিবেশ অনেকটা তৈরি হয়েছে। এটাকে কীভাবে আরও এগিয়ে নেওয়া যায়, তা দেখভাল করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা ও নির্দেশনার কারণেই ব্যবসা সহজকরণ সংক্রান্ত সমস্যা সমাধান করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী চাচ্ছেন, বেসরকারি খাত যেন আরও ভালোভাবে অবদান রাখতে পারে। আমাদের লক্ষ্য আছে ২০৪১ সালে উন্নত দেশে উন্নীত হব। সেজন্য বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ আরও বাড়াতে হবে।
বাংলাদেশের পাশাপাশি উন্নতিতে সেরা ২০ দেশের তালিকায় রয়েছে চীন, ভারত, পাকিস্তান, আজারবাইজান, বাহরাইন, জিবুতি, জর্ডান, কেনিয়া, কসোভো, কুয়েত, কিরগিজ প্রজাতন্ত্র, মিয়ানমার, নাইজেরিয়া, কাতার, সৌদি আরব, তাজিকিস্তান, টোগো, উজবেকিস্তান ও জিম্বাবুয়ে। এ তালিকায় কোন দেশ বেশি উন্নতি করেছে, তা প্রকাশ করেনি বিশ্বব্যাংক। ওয়েবসাইটে দেওয়া প্রতিবেদনে ক্রমতালিকা করা হয়েছে দেশের নামের আদ্যাক্ষর অনুযায়ী।
র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ এখন এ সূচকে ১৯০টি দেশের মধ্যে ১৭৬তম। এবার বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন প্রকাশের পর এই অবস্থানের উন্নতি হতে পারে। এ সূচকে মালয়েশিয়া ১৫, চীন ৪৬, ভিয়েতনাম ৬৯, শ্রীলঙ্কা ১০০ ও পাকিস্তান ১৩৬তম। আফগানিস্তানের অবস্থান ১৬৭তম।
বিডা সূত্রে জানা গেছে, সহজে ব্যবসা সূচকে উন্নতির জন্য ব্যবসা শুরু করতে অনুমোদনের প্রক্রিয়াগত কাজ করার সময় ১৯ দিন থেকে কমিয়ে ১১ দিনে আনা হয়েছে। কারখানা করার জন্য নির্মাণকাজের অনুমতি পেতে আগে ২৮১ দিন সময় লাগত। এখন সেটা কমিয়ে ৭৬ দিনে আনা হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ প্রাপ্তির ভোগান্তিও কমানো হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে ১৪৮ দিন লাগত। এখন সেটা কমে ১০৭ দিন লাগছে। ভূমি নিবন্ধনও সহজ করেছে বাংলাদেশ। জমির নামজারি বা মিউটেশনের সময় কমে ৫৬ দিনে নামানো হয়েছে, আগে যা ১০৬ দিন ছিল।
বিডা দাবি করেছে, রপ্তানিতে বন্দরে নথিগত কাজ শেষ করতে সময় ১৬৮ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে ৩৬ ঘণ্টা, আমদানিতে ২১৬ ঘণ্টা থেকে ৭২ ঘণ্টায় নামিয়ে আনা হয়েছে। একইভাবে কমানো হয়েছে ব্যয়। আগে যেখানে রপ্তানিতে বন্দরের প্রক্রিয়াগত ব্যয় ৪০৮ মার্কিন ডলার ছিল, এখন সেটা ২০০ ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে। আবার একইভাবে আমদানিতে ব্যয় ৯০০ ডলার থেকে কমিয়ে ২০০ ডলারে আনা হয়েছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

© All rights reserved © 2019 shawdeshnews.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
themebashawdesh4547877