নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে এক রাইড-শেয়ারিং মোটরসাইকেল চালকের আত্মাহুতিকে কেন্দ্র করে আবারও বিক্ষোভে নেমেছে দেশটির তরুণ প্রজন্ম। প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র (বালেন) শাহের সরকারের বিরুদ্ধে জবাবদিহি ও মানবাধিকার রক্ষার দাবিতে রবিবার (১২ জুলাই) শত শত মানুষ সিংহদরবার সচিবালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন।
বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিল ‘গরিবদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করো’ এবং ‘মানবাধিকারকে সম্মান করো’ লেখা প্ল্যাকার্ড। পাশাপাশি অবৈধ গ্রেপ্তার বন্ধ এবং উচ্ছেদ হওয়া বস্তিবাসীদের পুনর্বাসনের দাবিও তোলা হয়।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার ২৫ বছর বয়সী রাইড-শেয়ারিং চালক গণেশ নেপালি যাত্রীর অপেক্ষায় ছিলেন। এ সময় মহানগর পুলিশের সদস্যরা তার মোটরসাইকেলের চাকার সঙ্গে হুইল লক লাগিয়ে দেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এর প্রতিবাদে তিনি নিজের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। হাসপাতালে নেওয়া হলেও শুক্রবার তিনি মারা যান।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, মহানগর পুলিশ তাদের সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করছে। দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট-এর বরাতে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রাজু চাপাগাই বলেন, মহানগর পুলিশের মূল দায়িত্ব প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়া, বলপ্রয়োগ বা দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ নয়। রাস্তা বা যান চলাচল সংক্রান্ত সমস্যা হলে তা ট্রাফিক বা নেপাল পুলিশের কাছে হস্তান্তর করার কথা। কিন্তু বাস্তবে তারা ফেরিওয়ালাদের ধাওয়া, ব্যক্তিগত সম্পত্তি জব্দ এবং নাগরিকদের ওপর শারীরিক নির্যাতনের মতো বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছে।
অবসরপ্রাপ্ত ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল পূর্ণ চন্দ্র জোশি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে আইন অনুযায়ী নেপাল পুলিশের সহায়তা নেওয়ার কথা, মহানগর পুলিশ নিজেরা বলপ্রয়োগ করতে পারে না।
তবু আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বালেন শাহ প্রশাসনের অধীনে মহানগর পুলিশ নিয়মিত দিনমজুর ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও সেই অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে এবং দেশের অন্যান্য শহরেও একই ধরনের কঠোর নগর ব্যবস্থাপনার প্রবণতা ছড়িয়ে পড়ছে।