সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:০৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
স্ত্রীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বন্যা মোকাবিলায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা ও ৯ হাজার টন চাল বরাদ্দ ছাত্রশিবির থেকে বিদায় নিলেন সাদিক কায়েম জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী, বন্যাকবলিত ১১ জেলায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল যে কারণে আর্জেন্টিনার চেয়ে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে রাখছেন বিশ্লেষকরা ‘ঢাকার জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ পলিথিন, ব্যবহার না কমলে সমাধান কঠিন’ হরমুজ প্রণালীতে ‘মুক্ত’ ও ‘নিরাপদ’ জাহাজ চলাচলের আহ্বান চীনের প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও কার্যকর করতে কাজ করছে সরকার : গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ব্যয় কমাতে সহযোগিতার আশ্বাস সৌদি রাষ্ট্রদূতের মডেল মসজিদ প্রকল্পে দুর্নীতি অত্যন্ত গর্হিত ও ন্যক্কারজনক কাজ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্ত্রীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬
  • ০ বার

‎ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার দায়ে লালন মোল্যা (৫৪) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

‎‎আজ সোমবার দুপুর ২টায় ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন৷ অভিযুক্ত ব্যক্তি জেলার মধুখালী উপজেলার কামারখালী গ্রামের আবুল হোসেন মোল্যার ছেলে। রায় ঘোষণার পর তাকে পুলিশ পাহাড়ায় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

‎রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি গোলাম রব্বানী ভূইয়া রতন বলেন, এ মামলায় স্বাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত রায় দিয়েছেন। এ রায়ের কারাদণ্ডাদেশ আগের কারাবাস থেকে গণ্য করা হবে

‎আদালত সুত্রে জানা যায়, প্রায় ১৬ বছর পূর্বে অভিযুক্ত লালন মোল্যার সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় সাজেদা বেগম (৪০) নামে এক নারীর। পরে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই ফরিদপুর শহরের আলীপুর এলাকায় একটি বাসায় বসবাস শুরু করেন এবং ওই বাসায় নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন লালন মোল্যা।

‎বিয়ের পর থেকে যৌতুকের জন্য বিভিন্ন সময় স্ত্রী সাজেদা বেগমকে নির্যাতন করতেন লালন মোল্যা। একপর্যায়ে তার দাবি করা ৫০ হাজার টাকা না দেওয়ায় ২০২২ সালের ২৩ আগস্ট ভোরে হাতুড়ি দিয়ে মুখমণ্ডলে আঘাত করে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয় সাজেদা বেগমকে। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার পুলিশ গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে এবং স্থানীয়রা অভিযুক্তকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। এ ঘটনায় ২৬ আগস্ট কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের বোন মাজেদা বেগম।

‎ওই মামলায় একমাত্র আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা, উপপরিদর্শক (এসআই) জগন্নাত দাস। অভিযোগপত্রে তিনি হত্যাকাণ্ডের রোমহষর্ক বর্ণনা দেন। তাতে উল্লেখ করা হয়, যৌতুকের টাকা না পেয়ে ঘটনার দিন ভোর রাতে স্ত্রী সাজেদা বেগমের বাম গাল, বাম চোখের ভ্রু, বাম চোখ, নাক, কপাল, ডান কাঁধ সহ পুরো মুখমণ্ডল ও শরীরে বিভিন্নস্থানে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখম করে ফেলে রাখেন। পরে বাড়ির মালিককে ফোন করে জানান, ‘তিনি ঝামেলায় পড়েছেন।’ তখন বাড়ির ম্যানেজার ছুটে গেলে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখলন সাজেদা বেগমকে। পরে ৯৯৯- এ ফোন পেয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ এবং অভিযুক্তকে আটক করা হয়।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ