কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টি থেকে করা একমাত্র গোলে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ১–০ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ আটে উঠেছে ফ্রান্স। শনিবার ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে শক্তিশালী ও শারীরিক ফুটবলের মাধ্যমে ফ্রান্সকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছিল প্যারাগুয়ে। তবে শেষ পর্যন্ত ব্যবধান গড়ে দেন এমবাপ্পে।
দ্বিতীয়ার্ধে দিয়েগো গোমেজের হাঁটুর সঙ্গে ফ্রান্সের দেজিরে দুয়ের সংঘর্ষ হলে ভিডিও সহকারী রেফারির সহায়তায় মাঠের রেফারি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন। ম্যাচের ৭০তম মিনিটে স্পট কিক থেকে নিখুঁত শটে জয়সূচক গোল করেন এমবাপ্পে।
শেষ আটে আগামী বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ফক্সবরোর জিলেট স্টেডিয়ামে মরক্কোর মুখোমুখি হবে ফ্রান্স। এর আগে শনিবারই যৌথ আয়োজক কানাডাকে ৩–০ গোলে হারিয়ে শেষ আট নিশ্চিত করে মরক্কো।
এই গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে এমবাপ্পের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাত, ফলে সর্বোচ্চ গোলদাতার দৌড়ে তিনি আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির সমতায় পৌঁছেছেন। তবে বিশ্বকাপে সর্বমোট ২০ গোল করা মেসির সর্বকালের রেকর্ড ছুঁতে এমবাপ্পের এখনও একটি গোল প্রয়োজন।
ম্যাচের শেষ দিকে ব্যবধান বাড়ানোর একাধিক সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি এমবাপ্পে। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার দুই মিনিট আগে তার দূরপাল্লার শট দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরলান্দো গিল। এরপর যোগ করা সময়েও পরপর দুটি নিশ্চিত সুযোগ নষ্ট করতে বাধ্য করেন তিনি।
এমবাপ্পে ও মেসিই বিশ্বকাপের ইতিহাসে একমাত্র দুই ফুটবলার, যারা দুটি পৃথক আসরে অন্তত সাতটি করে গোল করেছেন।
চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জিতেছিলেন এমবাপ্পে। তবে সেই আসরের ফাইনালে তার ফ্রান্সকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল মেসির আর্জেন্টিনা।
শুক্রবার রাতে কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩–২ গোলের জয়ে বিশ্বকাপে নিজের ২০তম গোল করেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি। একই সঙ্গে টানা আটটি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার বিরল কীর্তিও গড়েছেন তিনি।
চলতি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় এমবাপ্পে ও মেসির পর রয়েছেন নরওয়ের আরলিং হলান্ড এবং ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন। তাদের প্রত্যেকের গোলসংখ্যা পাঁচ।
টুর্নামেন্ট শেষে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় একাধিক খেলোয়াড়ের গোলসংখ্যা সমান হলে প্রথমে বেশি গোলে সহায়তার হিসাব বিবেচনা করা হবে। এরপরও সমতা থাকলে কম সময় মাঠে খেলা ফুটবলারকে এগিয়ে রাখা হবে। বর্তমানে গোলে সহায়তার হিসাবে এমবাপ্পে ২–০ ব্যবধানে মেসির চেয়ে এগিয়ে আছেন।