রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি শেষ হয়েছে।
আজ বুধবার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইবুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে এ সংক্রান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আগামীকাল বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্কের জন্য তারিখ ধার্য করেন আদালত।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ।
ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পেয়ে সোহেল রানা নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। এ সময় বিচারকের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি নির্দোষ স্যার। আমার সঙ্গে যে ছিল-ডলার, তাকে আপনারা ধরেন। আমি দোষ করি নাই তা-না, আমিও দোষ করেছি। আমারে মাফ করে দিয়েন, আমার একটা ছোট ছাওয়াল আছে, আমার বউটা একদম নির্দোষ।’
এরপর স্বপ্না আক্তার আদালতকে বলেন, ‘আমি কিছু করি নাই, আমি নির্দোষ।’
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু আগামীকাল বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্কের জন্য দিন নির্ধারণ করার আবেদন করলে আদালত সেটি মঞ্জুর করেন। পরে ১১টা ২৫ মিনিটে আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি শেষ হয়। এরপর ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি শেষে আদালত থেকে এ আদেশ আসে।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের এ মামলার বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু শুনানি করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী।
এদিন সকালে সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার এবং স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকার আদালতে আনা হয়। তাদের মহানগর হাজতখানায় রাখা হয়। পরে ১০টা ৪৭ মিনিটে সোহেল রানাকে ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ১০টা ৫৭ মিনিটে হাজতখানা থেকে আদালতে তোলা হয়। সকাল ১১টা ১০ মিনিটে কোর্ট বসে।
গত ১ জুন পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় বাদী আবদুল হান্নান মোল্লাসহ ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে গতকাল ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল। গত ২৪ মে আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান। এরপর চার্জশিটটি আমলে গ্রহণ করে বিচারের জন্য ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। একই দিন ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য ১ জুন দিন ধার্য করেন।