শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০৮ অপরাহ্ন

ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতি আরও তিন সপ্তাহ বাড়ল

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১১ বার

ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও তিন সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঘোষণা দিয়েছেন। ওয়াশিংটনে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আজ শুক্রবার স্থানীয় সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এই তথ্য জানান। খবর বিবিসির।

ট্রাম্প জানান, ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত আলোচনাটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র লেবাননের সঙ্গে কাজ করে দেশটিকে হিজবুল্লাহর প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করবে।

তিনি ইঙ্গিত দেন, এই প্রক্রিয়া বৃহত্তর আঞ্চলিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ, যার মধ্যে ইরান সম্পর্কিত উদ্যোগও রয়েছে।

এর আগে গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর এই যুদ্ধবিরতির প্রথম ঘোষণাটি এসেছিল, যা রোববার শেষ হওয়ার কথা ছিল। সাত সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা ইসরায়েল ও ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর সংঘাত বন্ধ করাই ছিল এর মূল লক্ষ্য। গত কয়েক মাসে এই সংঘাত দ্রুত তীব্র আকার ধারণ করেছিল এবং সীমান্তজুড়ে নিয়মিত হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়েছিল।

ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোশেপ আউন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু শিগগিরই হোয়াইট হাউসে সফর করবেন।

তিনি মনে করেন, লেবাননের সামনে হিজবুল্লাহ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে মিলে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে।

বৈঠকে উপস্থিত লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদেহ মোয়াওয়াদ এবং ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েখিয়েল লেইটার ট্রাম্পের মধ্যস্থতাকে ঐতিহাসিক হিসেবে অভিহিত করেছেন।

লেইটার বলেন, ‘লেবানন থেকে হিজবুল্লাহর ক্ষতিকর প্রভাব দূর করাই উভয় দেশের প্রধান লক্ষ্য। এই লক্ষ্যেই তারা কাজ করে যাচ্ছেন।’

এদিকে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোশেপ আউন সতর্ক করে বলেছেন,’জোর করে নিরস্ত্রীকরণ করলে দেশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং এর একমাত্র সমাধান আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব।’

উল্লেখ্য, ৩০ বছরের মধ্যে এই বৈঠকটি ছিল ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে প্রথম সরাসরি উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ। বিশ্লেষকদের মতে, এই কূটনৈতিক উদ্যোগ ভবিষ্যতে বৃহত্তর সমঝোতার পথ খুলে দিতে পারে। তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা পুরোপুরি ভিন্ন। এখনো উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে।

এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে রকেট হামলার দাবি করেছে, যা ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে।

সংঘাতের এই পটভূমিতে মানবিক পরিস্থিতিরও চরম অবনতি হয়েছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এই সংঘাতে লেবাননে প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় এক পঞ্চমাংশ। দক্ষিণাঞ্চলের বহু গ্রাম ও বসতবাড়ি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ২৯৪ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েলের তথ্য অনুযায়ী, হিজবুল্লাহর হামলায় বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক ও অন্তত ১৫ জন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।

প্রসঙ্গত, হিজবুল্লাহ লেবাননের রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী একটি শক্তি। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং লেবাননের অনেক রাজনৈতিক গোষ্ঠী তাদের নিরস্ত্রীকরণের দাবি জানিয়ে আসছে। তবে হিজবুল্লাহ এ বিষয়ে আলোচনায় এখনো অনাগ্রহী।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ