মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০৩ পূর্বাহ্ন

কৃষক কার্ডে যে দশটি সুবিধা পাবেন কৃষক

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩ বার

দেশের ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য নতুন এক সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে যাচ্ছে সরকার। ২০ হাজার ৬৭১ জন কৃষকের হাতে তুলে দেওয়া হবে ‘কৃষক কার্ড’। এর মাধ্যমে একজন কৃষক বছরে দুই হাজার ৫০০ টাকা নগদ সহায়তাসহ নানা ধরনের কৃষি সুবিধা পাবেন। শুধু নগদ সহায়তাই নয়; কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ ও সেচসুবিধা, সহজ শর্তে কৃষি ঋণ, স্বল্পমূল্যে যন্ত্রপাতি, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, মোবাইলের মাধ্যমে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বাজার তথ্য, কৃষি প্রশিক্ষণ, রোগবালাই দমনের পরামর্শ, কৃষি বীমা সুবিধা ও ন্যায্য দামে কৃষিপণ্য বিক্রির সুযোগ পাবেন।

পহেলা বৈশাখে টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল রবিবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখ এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী, যা কৃষি খাতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। মন্ত্রী জানান, ১১ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ভূমিহীন (৫ শতকের কম জমির মালিক) ২ হাজার ২৪৬ জন, প্রান্তিক (৫-৪৯ শতক) ৯ হাজার ৪৫৮ জন, ক্ষুদ্র (৫০-২৪৯ শতক) ৮ হাজার ৯৬৭ জন, মাঝারি (২৫০-৭৪৯ শতক) ১ হাজার ৩০৩ জন ও বড় (৭৫০ শতকের বেশি) ৯১ জন।

এ তালিকায় ফসল উৎপাদনকারী কৃষক রয়েছেন ২১ হাজার ১৪১ জন, মৎস্যজীবী ৬৬ জন, প্রাণিসম্পদ খামারি ৮৫৫ জন ও লবণচাষি ৩ জন। তবে মোট বাছাই করা ২২ হাজার ৬৫ জনের মধ্যে প্রণোদনার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র শ্রেণির ২০ হাজার ৬৭১ জন কৃষক।

প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ে এই কৃষক কার্ডের মাধ্যমে নির্বাচিত কৃষকদের বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি কার্ড ব্যবহার করে কৃষকরা নির্ধারিত ডিলারের মাধ্যমে সার, বীজ, মৎস্য ও প্রাণিখাদ্যসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ ক্রয়সহ অন্যান্য সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে সরকারের ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। প্রাক-পাইলটিং সফল হলে দেশের ১৫টি উপজেলায় পাইলট প্রকল্প চালু করা হবে। এরপর ধাপে ধাপে আগামী চার বছরের মধ্যে সারাদেশে কৃষক কার্ড বিতরণ ও একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষক ডাটাবেজ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, এই উদ্যোগের আওতায় দেশের সব কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও নগদ সহায়তা থাকবে শুধু ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য। এই কৃষক কার্ড শতভাগ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা হবে জানান তিনি। সব মিলিয়ে ‘কৃষক কার্ড’ শুধু একটি পরিচয়পত্র নয়Ñ সরকার কৃষকের হাতে তুলে দিচ্ছে সুরক্ষা, সহায়তা ও সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্ত।

প্রাক-পাইলট পর্যায়ে কৃষক কার্ড বিতরণের জন্য দেশের বিভিন্ন জেলার নির্দিষ্ট কৃষি ব্লক নির্বাচন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পঞ্চগড় সদর উপজেলার কমলাপুর, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার উথলি, ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার কৃপালপুর, পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার রাজাবাড়ি, কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার রাজারছড়া, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সুরুজ, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার তেনাপচা, মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার ফুলতলা, পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার পাঁচপির ও জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ব্লক। তবে কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার অরণ্যপুর ব্লকে কার্ড বিতরণ হবে ১৭ এপ্রিল, আর বাকি নয়টি ব্লকে উদ্বোধনের দিনই বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ