সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয়, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধসহ ৪টি অধ্যাদেশ অধিকতর যাচাই-বাছাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল মঙ্গলবার বিকাল তিনটায় জাতীয় সংসদ ভবনের সরকারদলীয় সভায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এ ছাড়া সভায় এই অধ্যাদেশগুলো এখন পাস না হলেও পরবর্তীতে তা সংশোধন বা সংযোজন-বিয়োজন করে সংসদ বিল আকারে উত্থাপন করা হবে বলে সভায় জানানো হয়েছে। তাই এসব অধ্যাদেশ সম্পর্কে বক্তব্য, বিবৃতি ও নোটিশ দিতে সতর্ক থাকতে হবে বলে নির্দেশনা দিয়েছেন সংসদনেতা।
বৈঠকে অংশ নেওয়া সরকার দলীয় একজন সংসদ সদস্য জানান, ৪টি অধ্যাদেশ রহিত করার পর বিরোধীদল ও তাদের অনুগতরা বুঝে না বুঝে সামাজিক মাধ্যমে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা এমনভাবে দাঁড় করাতে চাইছে যে বিএনপি সংস্কারই চায় না। এ অবস্থায় সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি পরিষ্কার করা হবে। এ জন্য আগামী শুক্র অথবা শনিবার সংবাদ সম্মেলন করা হতে পারে।
সরকার দলীয় একজন সংসদ সদস্য বলেন, ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, গুম, উচ্চ আদালতের সচিবালয় এবং বিচারপতি নিয়োগ সংক্রান্ত ৪টি অধ্যাদেশ অধিকতর যাচাই-বাছাই করে পাস করা হবে। সেক্ষেত্রে তাদেরকে এসব বিল
নিয়ে দলের অবস্থান কী হবে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া চলতি অধিবেশনের ১৩৩ অধ্যাদেশ, বিভিন্ন বিল, বিভিন্ন বিধি ও রাষ্ট্রপতির ভাষণের আলোচনায় কেউ কাউকে কটাক্ষ করে বক্তব্যদান থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
এর বাইরে সরকার দলীয় সংসদ সদস্যদের সঠিক সময়ে সংসদে উপস্থিত থাকা, আক্রমণাত্মক কিংবা ভুল তথ্য দিয়ে বক্তব্য না দেওয়া, তথাভিত্তিক বক্তব্য রাখতেও নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সরকার দলীয় একাধিক সংসদ সদস্য জানান, প্রধানমন্ত্রী সভায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন। সভায় কারো নাম উল্লেখ না করে তিনি সংসদে অসত্য তথ্য উত্থাপন না করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। কোনো আক্রমনাত্মক বক্তব্য না দিয়ে গঠনমূলক বক্তব্য দিতে বলেছেন। এ ছাড়া যে যে বিষয়ে দায়িত্বশীল তাকেই সে বিষয়ে কথা বলার নির্দেশ দিয়েছেন।
বিশেষ করে যার যতটুকু বক্তব্য কিংবা পয়েন্ট উত্থাপন করা প্রয়োজন তিনি ততটুকুই দেবেন। অতিরিক্ত বক্তব্য কিংবা মন্তব্য করা যাবে না বলে সভা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সরকার দলীয় সংসদ সদস্যদের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। তিনি বলেন, সংসদে বিলগুলো পাসের ক্ষেত্রে সবার ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে এবং সবাই যেন যথা সময়ে সংসদ অধিবেশনে উপস্থিত থাকেন এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় অংশ নেওয়া একাধিক সংসদ সদস্য জানান, সংসদীয় দলের সভার শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাম্প্রতিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে সংসদ সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সভায় সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনার পাশাপাশি সংসদ অধিবেশনের কার্যক্রম, বিভিন্ন বিল ও প্রস্তাবনা পর্যালোচনা নিয়েও আলোচনা হয়। এ ছাড়া সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে আরও গতিশীল হওয়ার ও জনগণের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখার নির্দেশনা দেন সংসদ নেতা।
সভায় সংসদীয় কার্যক্রমে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং গঠনমূলক আলোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিএনপির সংসদ সদস্যরা আরও জানান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ‘১১ দলীয় ঐক্য’ জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কারে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে দেশব্যাপী যে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে তা দলীয় সংসদ সদস্যদের পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেন সংসদ নেতা।