বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০২:০৮ অপরাহ্ন

মন্ত্রীদের বাসা প্রস্তুত, উঠছেন শিগগির

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪ বার

নতুন সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং সংসদ সদস্যদের (এমপি) জন্য সরকারি বাসা প্রস্তুত করা হয়েছে। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীদের অনেকেই সরকারি বাসায় উঠেছেন। অল্প সময়ের মধ্যে আরও কয়েকজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী সরকারি বাসায় উঠবেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে সরকারি বাসা বরাদ্দ দেওয়ার কাজ শুরু করেছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়। ইতোমধ্যে এমপিদের বাসা প্রস্তুত করা হয়েছে। যাদের ঢাকায় বাসা নেই তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে ১০ এপ্রিলের মধ্যে সরকারি বাসায় উঠার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সংসদ সচিবালয়ের আবাসন পরিদপ্তর। ইতোমধ্যে এমপিদের মধ্যে অগ্রাধিকার প্রাপ্তদের তালিকা করে কার কোন বাসা সেটাও প্রস্তুত করা হয়েছে। সরকারি আবাসন পরিদপ্তর

ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের আবাসন পরিদপ্তরের সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, মন্ত্রিসভার অন্তত ১০ থেকে ১২ জন মন্ত্রী ইতোমধ্যে তাদের নামে বরাদ্দ করা বাসা বুঝে নিয়েছেন। খুব অল্প সময়ের মধ্যে আরও ১৫ জন মন্ত্রী, উপদেষ্টা সরকারি বাসায় উঠবেন বলে জানা গেছে। সংসদ সদস্যদের জন্য ন্যাম ভবনের বাসাগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে। মন্ত্রীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সরকারি বাসায় বসবাস শুরু করেছেন।

সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক নাহিদ উল মোস্তাক আমাদের সময়কে বলেন, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপদেষ্টাদের মধ্যে যারাই বাসার জন্য আবেদন করেছেন তাদের প্রত্যেকের সরকারি বাসা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টারা বরাদ্দের চিঠি গ্রহণ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এবারের মন্ত্রিসভায় ২৫ জন মন্ত্রী, ২৩ জন প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রী মর্যাদার ৫ জন উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী মর্যাদার ৫ জন উপদেষ্টা রয়েছেন। অর্থাৎ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপদেষ্টা নিয়ে সর্বমোট ৫৮ জন সদস্য রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩ জন বাদে সবাই সরকারি বাসার জন্য আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে।

মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীদের সরকারি বাসভবনগুলো ঢাকার হেয়ার রোড, মিন্টো রোড ও বেইলি রোড এলাকায়। এই এলাকা ‘মন্ত্রিপাড়া’ নামে পরিচিত। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারাও ‘মন্ত্রিপাড়ায়’ ছিলেন। গেল ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে বিএনপি। শপথের মধ্য দিয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার গঠন করে।

সরকারি আবাসন পরিদপ্তর সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ৩৫ হেয়ার রোড, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে ২৪ বেইলি রোড, সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনকে ২৫ বেইলি রোড, ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদকে ৭ মিন্টো রোড, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুকে ২ মিন্টো রোড, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীকে ৫ মিন্টো রোড, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানকে ১ হেয়ার রোড, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে ৬ হেয়ার রোডের বাংলোবাড়ি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্পিকার হওয়ার আগে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমদকে (বীর বিক্রম) ৫ হেয়ার রোডের বাসা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। পরে স্পিকার নির্বাচিত হওয়ায় বাসাটি নতুন মন্ত্রীর জন্য বরাদ্দ রাখা হয়। স্পিকারের জন্য সংসদ চত্বরের ভেতরে অবস্থিত স্পিকারের বাসভবন প্রস্তুত করা হচ্ছে। সংসদে স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ এবং হুইপদের বাসা রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্পিকারের বাসার পাশের বাংলোতেই থাকতেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সেই বাসাটি এবার কোনো মন্ত্রী উঠবেন কিনা সেই তথ্য এখনও জানা যায়নি।

এ ছাড়া বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতাকে ১ মিন্টো রোড, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনকে ৪ মিন্টো রোড, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে ৩৪ মিন্টো রোড; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামকে ৪১ মিন্টো রোড, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহকে ২ হেয়ার রোডের বাংলোবাড়ি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

মির্জা আব্বাস ও নজরুল ইসলাম খানকে বেইলি রোডে বাংলোবাড়ি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে গুলশান, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীকে গুলশান, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমকে ধানমন্ডিতে সরকারি বাসা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

অবশ্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান আগে থেকেই মিন্টো রোডের ৩৩ নম্বর বাংলোতে থাকছেন। তিনি মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছিলেন। তাকে টেকনোক্র্যাট কোটায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী করে বিএনপি। এ ছাড়া প্রতিমন্ত্রীদের হেয়ার রোডে অবস্থিত মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্টে বাসা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর। হেয়ার রোডে মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট নামে তিনটি দশতলা ভবন রয়েছে। প্রতিটি ভবনে ১০টি করে ৩০টি ফ্ল্যাট রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি বাসভবন যমুনায় উঠবেন কিনা তা এখনো চূড়ান্ত নয়। তাই ৩০ হেয়ার রোডে অবস্থিত যমুনা সংস্কার বা পরিবর্তন পরিমার্জনের কাজে হাত দেয়নি গণপূর্ত অধিদপ্তর। যমুনায় না উঠলেও প্রধানমন্ত্রী তার ইচ্ছা অনুযায়ী সেখানে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান করছেন। গত ঈদুল ফিতরে তিনি সেখানেই শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

এ বিষয়ে গণপূর্ত নগর বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ আমাদের সময়কে বলেন, মন্ত্রীদের মধ্যে অন্তত ১০-১২ জন বাসায় উঠেছেন। অল্প সময়ের মধ্যে আরও ১০-১৫ জন উঠবেন। বাকিদের উঠতে কিছুটা সময় লাগবে। কারণ অনেকেই তাদের চাহিদা মোতাবেক বাসা ঠিকঠাক করাতে আবেদন করেছেন। এ জন্য কিছুটা সময় লাগবে।

প্রধানমন্ত্রী যমুনায় উঠবেন কিনা জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিষয়ে উচ্চপর্যায় থেকে আমাদের পরিষ্কার কোনো বার্তা দেওয়া হয়নি। তিনি যমুনায় থাকবেন কী থাকবেন না সেটা বলা হয়নি। তাই যমুনা যেমন ছিল তেমনই আছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী চাইলে বিভিন্ন অনুষ্ঠান সেখানে করতে পারবেন।

এমপিদের বাস ভবনের বিষয়ে সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা আমাদের সময়কে জানান, বাসা প্রস্তুত করা হয়েছে। আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে এমপিদের বাসা বুঝিয়ে দিতে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে প্রথম দফায় প্রাধান্য পাচ্ছে ঢাকায় যাদের নিজস্ব বাসা নেই এমন এমপিদের আবেদন।

সংরক্ষিত আসনের ৫০ জন নারী সদস্য এবং ৩০০টি সংসদীয় আসনের মোট ৩৫০ জন এমপির জন্য ঢাকায় বাসা রয়েছে ২৬৫টি। আগের সংসদগুলোয় এই ২৬৫টি বাসার মধ্যেই যারা থাকার আবেদন করতেন তাদের মধ্যে বরাদ্দ দেওয়া হতো। অনেক এমপির ঢাকায় নিজের বাড়ি থাকায় তারা সরকারি বাসা নিতেন না। এমপিদের বাসভবনের মধ্যে শেরেবাংলা নগর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে কয়েকটি ভবনে রয়েছে ২১৬টি ফ্ল্যাট আর পশ্চিম নাখালপাড়ায় রয়েছে ৪৯টি ফ্ল্যাট। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে এমপিদের সরকারি বাসায় ব্যাপক হামলা করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাসাগুলো। লুটপাট হয় বাসার আসবাবপত্র। তাই বাসাগুলো নতুন করে প্রস্তুত করতে একটু সময় লাগছে। সব বাসা প্রস্তুত হলে চাহিদা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে প্রাপ্তিসাপেক্ষে সবাইকে বাসা বরাদ্দ দেবে সংসদ সচিবালয়। এ জন্য সংসদের আবাসন সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটি রয়েছে। এই কমিটির প্রধান থাকেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ। এ ছাড়া বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ এবং অন্য সংসদ সদস্য রয়েছেন। ইতোমধ্যে সংসদীয় কমিটির সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ