বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ০৪:৪০ অপরাহ্ন

মামদানি প্রশাসনে কাজ করতে ৭০ হাজার আবেদন

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৪৬ বার

নিউইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি নির্বাচনের দুই দিন পর তার প্রশাসনে নিয়োগপ্রত্যাশীদের জন্য একটি অনলাইন পোর্টাল চালু করেন। ইতোমধ্যে সেখানে ৭০ হাজারেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে বলে ২৪ নভেম্বর সোমবার তার টিম জানিয়েছে।
তবে কতগুলো পদ, কোন ধরনের চাকরি বা কতজনকে নেওয়া হবে, তা এখনো জানানো হয়নি। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নিউইয়র্ক সিটিতে স্থায়ী সরকারি চাকরি পাওয়ার আইনগত ও প্রধান পথটি এই পোর্টাল নয়, বরং ঐতিহ্যগত সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, সিটির ১০০টিরও বেশি সংস্থা ও বিভাগে বর্তমানে হাজার হাজার পদ খালি রয়েছে। জনপ্রিয় কিছু পদ হলো-ক্লারিক্যাল, কম্পিউটার, পুলিশ, ট্রাফিক এনফোর্সমেন্টসহ বিভিন্ন কাজ। এই পদগুলো পেতে হলে আবেদনকারীদের লিখিত পরীক্ষা, শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা যাচাই, মেধার ভিত্তিতে তালিকাভুক্তি, “১-এবং-৩” নিয়মে সাক্ষাৎকার, সবগুলো ধাপ অতিক্রম করতে হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ায় সময় লাগতে পারে মাস থেকে বছর।
যারা সরাসরি সিটি হলে কাজ করতে চান, তাদের জন্য মামদানি পোর্টালটি কার্যকর হতে পারে। তবে এসব পদ সাধারণত খুব সীমিত এবং অনেক সময় রাজনৈতিক সমর্থক, প্রচার টিম বা ইউনিয়ন কার্যক্রমে যুক্তদের মধ্যেই বরাদ্দ হয়। সিভিল সার্ভিস কর্মীদের একটি অংশ সিটি হলে থাকলেও অধিকাংশ পদ প্রশাসন পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে নিয়োগ পায়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ- শুধু পোর্টালে আবেদন করলেই হবে না। সিটি হলে বা বাইরে, সব সুযোগ ধরতে হলে সব পথেই আবেদন করা উচিত।
নিয়ম অনুযায়ী নিয়োগের দায়িত্ব পালন করে ডিপার্টমেন্ট অব সিটিওয়াইড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসেস (ডিকাস)।
১৮৮৩ সাল থেকে চালু এই ব্যবস্থা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত সরকারি নিয়োগ নিশ্চিত করে। প্রতি বছর DCAS প্রায় ১০০টির মতো ওপেন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা নেয়, যার মধ্যে রয়েছে- পুলিশ অফিসার, স্টক ওয়ার্কার, ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট এজেন্ট, কম্পিউটার অ্যাসোসিয়েট ও স্টাফ অ্যানালিস্ট।
পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা চার বছর পর্যন্ত কার্যকর মেধাতালিকায় থাকেন। নিয়োগকারী কর্মকর্তারা তালিকার শীর্ষ তিন প্রার্থীর অন্তত একজনকে সাক্ষাৎকারে ডাকতে বাধ্য-এটাই “১-এবং-৩” নিয়ম।
যেসব পদে নিয়মিত শূন্যতা তৈরি হয়, সেগুলো হলো- পুলিশ অফিসার, কারেকশন অফিসার, ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট এজেন্ট, কম্পিউটার অ্যাসোসিয়েট, পাবলিক হেলথ নার্স, বিভিন্ন ক্লারিক্যাল পদ। এছাড়া বিশেষ ডিগ্রি বা অভিজ্ঞতা প্রয়োজন এমন দক্ষতাপূর্ণ পদের মধ্যে রয়েছে- স্থপতি, ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল স্পেশালিস্ট, প্রোকিউরমেন্ট অ্যানালিস্ট।
প্রতিটি পদে আবেদন করতে হয় একটি নোটিশ অব এক্সমিনেশন (এনওই) অনুযায়ী। এতে উল্লেখ থাকে- বেতন কাঠামো, ন্যুনতম যোগ্যতা ও আবেদন ফি।
ধৈর্য এখানে সবচেয়ে বড় বিষয়। কিছু চাকরির পরীক্ষা প্রতি ৩-৪ বছর পরপর হয়। পরীক্ষার পর তালিকা যাচাই করতে মাস লাগে। বিভাগগুলোকে বাজেট অনুমোদন নিতে হয়। বিশেষ করে এনওয়াইপিডি-এর মতো বিভাগে একাধিক তালিকায় হাজারো আবেদনকারী থাকে।
ডিকাস-এর সাইটে নিয়মিত খালি পদের তালিকা থাকে এবং অনেক সংস্থা তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটেও বিজ্ঞপ্তি দেয়।
এছাড়া সিটি এজেন্সিগুলো প্রভিশনাল কর্মী নিয়োগ দিতে পারে, যারা সিভিল সার্ভিস সুরক্ষা পান না। পরে পরীক্ষা হলে স্থায়ী হওয়ার সুযোগ থাকে, যদিও অনেক সময় তা বছরের পর বছর বিলম্বিত হয়।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ