রাখাইনের বেসামরিক প্রতিরক্ষা ও উদ্ধারকারী বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ওয়াই হুন অং এপির কাছে এই ভয়াবহতার চিত্র নিশ্চিত করে বলেন, ‘হামলার শিকার বাজারটি এই অঞ্চলের প্রধান পাইকারি কেন্দ্র ছিল, যেখানে রাজ্যজুড়ে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় থাকত। রাখাইনে সাম্প্রতিক সময়ে দেখা সবচেয়ে ভয়াবহ বিমান হামলাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পরা ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, বেশ কয়েকটি ভবনে আগুন জ্বলছে, বহু যানবাহন দুমড়ে-মুচড়ে গেছে এবং নিকটস্থ ব্রিজের কিছু অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে।
তবে বরাবরের মতোই সামরিক জান্তা সরকার এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। ইতিপূর্বে এ ধরনের হামলার জবাবে জান্তা দাবি করে আসছিল যে তারা কেবল বৈধ ‘সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে’ আঘাত হানে এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ হিসেবে আখ্যা দেয়।
অন্যদিকে, রাখাইন রাজ্যের জাতিগত সংখ্যালঘু জনগণের স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে লড়তে থাকা আরাকান আর্মি (এএ) ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ব্যাপক আক্রমণ শুরু করে। তারা ইতোমধ্যে রাখাইনের ১৭টি শহরের মধ্যে ১৪টি এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সদর দফতর দখল করে নিয়েছে। এর প্রতিশোধ হিসেবে সেনাবাহিনী সেখানে কঠোর অবরোধ আরোপ করায় খাদ্য সংকট চরম আকার ধারণ করেছে।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, এই সংঘাতের ফলে রাখাইনেই গৃহহীন হয়ে পড়েছেন প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ। আগস্টে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমারে মানবাধিকার পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। এসিএলইডি-এর তথ্য অনুযায়ী, এই গৃহযুদ্ধে এ পর্যন্ত ১ লাখেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।