মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৩ অপরাহ্ন

খালাসের পরও আট বছর কারাগারে, ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ কেন নয়

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৩ বার

আদালত থেকে খালাস পাওয়ার পরও প্রায় আট বছর অতিরিক্ত কারাবন্দি রাখার ঘটনায় খুলনার বটিয়াঘাটার ইব্রাহিম শেখকে কেন ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন।

একই সঙ্গে আদালতের খালাসের আদেশ থাকার পরও তাকে দীর্ঘদিন কারাবন্দি রাখার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার বাসিন্দা ইব্রাহিম শেখ পেশায় নৈশপ্রহরী ছিলেন। ২০০৩ সালে রাতে দায়িত্ব পালন শেষে সকালে বাড়ি ফেরার পথে হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তিনি আইনজীবী নিয়োগ করতে পারেননি।

পরে একটি মামলায় দায়রা আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড এবং অন্য একটি মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এসব রায়ের বিরুদ্ধে ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিলের শুনানিতে মামলার সাক্ষ্য ও প্রমাণে ব্যাপক অসঙ্গতি দেখতে পান হাইকোর্ট।

পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ না থাকায় ২০১৭ সালের ২০ জুলাই হাইকোর্ট একটি মামলায় ইব্রাহিম শেখকে খালাস দেন। অপর মামলায় দেওয়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড থেকেও তাকে খালাস দেওয়া হয়।

কিন্তু হাইকোর্টের খালাসের আদেশের কপি বা রিলিজ অর্ডার কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছাতে প্রায় আট বছর লেগে যায়। ফলে খালাস পাওয়ার পরও ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাকে কারাগারে থাকতে হয়।

রিটে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্টদের গাফিলতি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে আদালতের খালাসের আদেশ বাস্তবায়নে এই দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়। এতে খালাসপ্রাপ্ত ইব্রাহিম শেখকে প্রায় আট বছর অতিরিক্ত কারাভোগ করতে হয়েছে।

দীর্ঘ প্রায় ২২ বছর কারাবন্দি থাকার সময়ে ইব্রাহিম শেখ তার মাকে হারিয়েছেন। তার স্ত্রীও অন্যত্র চলে গেছেন। দীর্ঘ কারাবাসের কারণে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও নিতে পারছেন না তিনি।

সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট ইব্রাহিম শেখকে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ, পূর্ণ পুনর্বাসন, বাসস্থান ও চিকিৎসাসেবা দেওয়ার দাবি জানায়। পাশাপাশি অতিরিক্ত কারাবাসের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও জবাবদিহির ব্যবস্থা চেয়ে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট করা হয়।

বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের পক্ষে রিটটি দায়ের ও শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ হাসান শহীদ কারুজ্জামান।

রুলে সরকারের গাফিলতি ও অবহেলার কারণে হাইকোর্টে খালাস পাওয়ার পরও ইব্রাহিম শেখকে প্রায় আট বছর অতিরিক্ত কারাবন্দি রাখার ঘটনায় তাকে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

এছাড়া তার অতিরিক্ত কারাবাসের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ