মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আগামীকাল কুড়িগ্রাম যাচ্ছেন এনসিপির ৩ নেতা ময়মনসিংহে ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষ, নিহত ৩ মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি : ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে সবসময় থাকার প্রতিশ্রুতি ডা. জুবাইদা রহমানের প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে যোগ দিলেন রাশেদ খাঁন দিল্লিমুখী হাজারো কৃষক, নতুন চাপে মোদি সরকার ভিডিও ইস্যুতে এবার মুখ খুললেন জামায়াত এমপির ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ পারফর্ম করতে না পারলে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন স্বাভাবিক-তথ্য উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘বার্থা’ সরকারের ঋণ বেড়েছে ২৩ হাজার ৫৩২ কোটি টাকা আফগানিস্তানে আকস্মিক বন্যায় নিহত ২০, নিখোঁজ শতাধিক

২০৩০ সালের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড পাবে দেড় কোটির বেশি পরিবার

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬
  • ৫ বার

দেশের নিম্নআয়ের ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনতে ২০২৯-৩০ অর্থবছরের মধ্যে ১ কোটি ৬১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির অধীনে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই দেশব্যাপী ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে প্রকৃত উপকারভোগী নির্ধারণে দেশজুড়ে একটি সমন্বিত পরিবার শুমারি পরিচালনা করে আধুনিক ডাটাবেজ তৈরির কাজ শুরু হচ্ছে।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনের পক্ষে সংসদে এ তথ্য জানান সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল।

সংসদে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সমাজসেবা অধিদফতরের আওতায় দেশের ৪৪টি জেলার ৫৫টি উপজেলায় তিন ধাপে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ৬৯ হাজার ৩৮৭ জন নারী-প্রধান পরিবারের মাঝে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে ভাতা বিতরণ করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ের এই তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে।

তিনি জানান, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরুতেই সারা দেশে সমন্বিত পরিবার শুমারি পরিচালনা করা হবে, যার মাধ্যমে ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এই শুমারির ওপর ভিত্তি করে ১ কোটি ৬১ লাখ পরিবারকে আধুনিক ডাটাবেজের আওতায় এনে আগামী ৪ বছরের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা দেওয়া হবে। মাঠপর্যায়ের জরিপ এবং প্রক্সি মিনস টেস্ট বা পিএমটি স্কোরের মাধ্যমে শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের নির্বাচন করা হবে।

তিনি আরও জানান, সরকারের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন কার্ড দেওয়া হবে। এই লক্ষ্যে তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগের জন্য ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং ‘ফ্যামিলি কার্ড শুমারি নির্দেশিকা, ২০২৬’ জারি করা হয়েছে। এছাড়া, ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’-এর খসড়া মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন শেষে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের জন্য মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদফতরে পাঠানো হয়েছে।

ঢাকা-১৮ আসনের ফ্যামিলি কার্ডের অগ্রগতি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, পাইলট প্রকল্প হিসেবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কড়াইল, সাততলা, ভাষানটেক, অলিমিয়ার টেক ও বাগানবাড়ী বস্তি এলাকার কিছু অংশে ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে উত্তরা ও এর সংলগ্ন এলাকায় পরিবার শুমারি শেষ করে চলতি অর্থবছরেই ব্যাপকভাবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে। শুমারি সম্পন্ন হওয়ার পর ওয়ার্ডভিত্তিক উপকারভোগীদের তালিকা সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের দফতরে সরবরাহ করা হবে।

উল্লেখ্য, বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের অন্যতম প্রধান সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ছিল এই ফ্যামিলি কার্ড। ইশতেহারে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে একটি একক ডিজিটাল ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় এনে সব ধরনের সরকারি ভাতা, খাদ্য সহায়তা ও সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা সমন্বিতভাবে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সরকার গঠনের পর প্রথমে সীমিত পরিসরে পাইলট প্রকল্প চালু করা হলেও এখন ধাপে ধাপে উপকারভোগী নির্বাচন, কেন্দ্রীয় এমআইএস ডাটাবেজ তৈরি এবং দেশব্যাপী সম্প্রসারণের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

সরকারের বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৯-৩০ অর্থবছরের মধ্যে যোগ্য ১ কোটি ৬১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় এনে সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম সম্পূর্ণ একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থায় পরিচালনা করা হবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ