সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ১২:১৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সারাদেশে হাম ও উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে ৬৪ দলে সম্প্রসারণের ভাবনায় ফিফা প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় শীর্ষে ঢাকা, সবচেয়ে কম বান্দরবানে সরকারের মোট ঋণ ২২ লাখ ৬ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা : অর্থমন্ত্রী টেকনাফ সীমান্তে বন্যার্ত ২০০ পরিবারকে বিজিবির ত্রাণ সহায়তা খাদ্য সহায়তা পাচ্ছে বান্দরবানে বন্যাকবলিত ১৫ হাজার পরিবার ঢাকা সিটির বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক বললেন মাহ্দী আমিন, শিক্ষাক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘদিনের চিন্তা ও কর্মযজ্ঞেরই প্রতিফলন চারটি নতুন বই কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যু জনসংখ্যাকে উৎপাদনশীল মানবসম্পদে রূপান্তরের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

কানাডায় লাতিন উৎসবে বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত ২

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬
  • ৬ বার

কানাডার বৃহত্তম লাতিন সাংস্কৃতিক উৎসব ‘সালসা অন সেন্ট ক্লেয়ার’ চলাকালে দুই বন্দুকধারীর গুলিতে অন্তত দুইজন নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছেন। শনিবার টরন্টোতে বিপুল জনসমাগমের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

টরন্টো পুলিশ সার্ভিসের ডেপুটি চিফ ফ্র্যাঙ্ক বারেডো এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, দুই ব্যক্তি একে অপরকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তবে তাদের গুলিতে আশপাশে থাকা সাধারণ মানুষও হতাহত হন।

তিনি জানান, মোট ছয়জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত কয়েকজন সন্দেহভাজন এখনো পলাতক। পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে তিনটি পৃথক অপরাধস্থল চিহ্নিত করেছে এবং সেখান থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে। তবে বর্তমানে জনসাধারণের জন্য কোনো তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা হুমকি নেই বলেও জানান তিনি।

গোলাগুলি শুরু হওয়ার পর উৎসবে অংশ নেওয়া শত শত মানুষ প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। স্থানীয় টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা যায়, পুলিশ এলাকা ঘিরে ফেলেছে এবং ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য, সাঁজোয়া যান ও অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গোলাগুলি শুরুর প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও তদন্তের স্বার্থে টরন্টোর মিডটাউন এলাকার ঘটনাস্থল এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হওয়া ‘সালসা অন সেন্ট ক্লেয়ার’ উৎসবটি গত ২২ বছর ধরে লাতিন সংস্কৃতি উদযাপনের অন্যতম বড় আয়োজন হিসেবে পরিচিত। হাজারো মানুষ এতে অংশ নিতে বিভিন্ন এলাকা থেকে টরন্টোতে আসেন।

ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে টরন্টোর মেয়র অলিভিয়া চো বলেন, ‘জনাকীর্ণ একটি উৎসবে এটি ছিল অত্যন্ত বেপরোয়া ও জঘন্য সহিংসতার ঘটনা। দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে টরন্টো পুলিশকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে শহরের সড়ক থেকে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র অপসারণে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ চালিয়ে যাবে।’

মেয়র ও পুলিশ প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে ঘটনার ভিডিও ফুটেজ বা যেকোনো তথ্য থাকলে তা তদন্তকারীদের হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘টরন্টোর এই ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনায় আমি মর্মাহত। নিহতদের পরিবারের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা এবং এই ভয়াবহ ঘটনার শিকার সবার জন্য প্রার্থনা করছি।’

যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় কানাডায় বন্দুক সহিংসতার ঘটনা তুলনামূলক কম হলেও সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে এমন কয়েকটি প্রাণঘাতী হামলা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তিন সপ্তাহেরও কম সময় আগে মন্ট্রিয়লেও এক বন্দুকধারীর হামলা ও পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলিতে দুইজন নিহত হন। এর আগে ২০২০ সালে নোভা স্কশিয়ায় কানাডার ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্দুক হামলায় ২২ জন নিহত হওয়ার পর দেশটি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন আরও কঠোর করে এবং অ্যাসল্ট-স্টাইল অস্ত্রের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ