শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বিএনপি সরকার বারবার ফিরে আসে: তথ্যমন্ত্রী সিসিটিভি ক্যামেরা নিয়ে স্কুল-কলেজকে জরুরি নির্দেশনা পাকিস্তান ভাঙতে চাননি শেখ মুজিব, তাই স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি-স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা হচ্ছে: কৃষিমন্ত্রী ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা কেন, এখনই দেশে ফিরুন-হাসিনাকে আসিফ নজরুল পলাতক হাসিনা কেরানীগঞ্জে গ্রেপ্তার হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর লড়াইয়ে টস জিতে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ ট্রাম্পকে ইরানে ফের হামলায় রাজি করায় ইসরায়েলের যে গোয়েন্দা তথ্য হাম ও উপসর্গ নিয়ে প্রাণহানি দাঁড়াল ৭৫০ জনে

পাকিস্তান ভাঙতে চাননি শেখ মুজিব, তাই স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি-স্পিকার হাফিজ উদ্দিন

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬
  • ০ বার

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তান ভাঙার কোনো ইচ্ছা বা বিচ্ছিন্নতাবাদী হওয়ার কোনো বাসনা শেখ মুজিবুর রহমানের ছিল না। তাই ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর ক্র্যাকডাউনের আগে তাজউদ্দিন আহমেদের অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি।

আজ শনিবার ‘রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া)’ আয়োজিত ‘দি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্পিকার বলেন, ‘তাজউদ্দীন আহমদ শেখ মুজিবুর রহমানকে বলেছিলেন, পাকিস্তানি বাহিনী আক্রমণ করতে যাচ্ছে এবং মানুষ স্বাধীনতা চায়। কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, তিনি বিচ্ছিন্নতাবাদী হতে পারেন না এবং পাকিস্তান ভাঙতে তার কোনো অবদান থাকুক, তা তিনি চান না। এ কারণে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি।’

তিনি আরও বলেন, ‘পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরোচিত আক্রমণের মুখে যখন জাতি দিশেহারা ও অবদমিত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল, তখনই ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট সাহসের সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এই সংকটময় মুহূর্তে মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যা জাতিকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্দীপ্ত ও অনুপ্রাণিত করেছিল।’ তিনি দাবি করেন, ‘এটিই হলো প্রকৃত সত্য।’

মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের যুদ্ধ ছিল না, এটি ছিল জনতার যুদ্ধ। তিনি অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার পর একটি বিশেষ গোষ্ঠী ইতিহাস বিকৃত করে শুধু ৭ মার্চের ভাষণের ভিত্তিতে স্বাধীনতার কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করেছে, যা ছিল অন্যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাজনীতিবিদেরা সাধারণত অন্যের কৃতিত্ব নিজেদের করে নিতে চান এবং নিজেদের দলের নেতার বাইরে অন্য কাউকে কৃতিত্ব দিতে চান না।’

আলোচনায় তিনি মুক্তিযুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ভূমিকার কথা তুলে ধরে ‍স্পিকার বলেন, ‘সে সময় পূর্ব পাকিস্তানে রেজিমেন্টটির মাত্র পাঁচটি ব্যাটালিয়ন ছিল। বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্টে তারা কোনো পূর্বপরিকল্পনা বা যোগাযোগ ছাড়াই পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার প্রতিবাদে বিদ্রোহ করে এবং জনগণকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের আহ্বান জানায়। এই প্রতিরোধই ছিল ৯ মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তি।’

সেনাবাহিনীতে যোগদানের স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে তিনি জানান, তিনি মূলত ফুটবল খেলার টানেই সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের অনুপ্রেরণাতেই তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি স্বাধীনতার মহান ঘোষক এদেশের মহান রাষ্ট্রপতি জেনারেল জিয়াউর রহমানকে, যিনি আমাকে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদানের জন্য উৎসাহিত করেছিলেন।

সভায় মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রধান সংগঠক মেজর আব্দুল গনি এবং ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের রেজিমেন্ট কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার মাহমুদুর রহমান মজুমদারের অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। সবশেষে, তিনি সৈনিকদের সঙ্গে অফিসারদের সম্পর্কের যে চিরাচরিত বন্ধন তা পুনরায় শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ