হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে হামলার জেরে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন দফার সামরিক অভিযানের পর বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বুধবার (৮ জুলাই) দেওয়া এক বিবৃতিতে এ দাবি জানায় বাহিনীটি।
আইআরজিসি জানায়, যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অভিযানে বাহরাইনের বন্দর সালমানে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের স্থাপনা এবং কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এ সময় অভিযানে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোনও ভূপাতিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।
হামলার পর বাহরাইন ও কুয়েতে বিমান হামলার সতর্কসংকেত (সাইরেন) বেজে ওঠে। কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘শত্রুপক্ষের’ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ যৌথ সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে ‘স্পষ্ট আগ্রাসন’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর ‘চূর্ণবিচূর্ণ জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তারা বলেছে, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের মার্কিন হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ, কেশম দ্বীপ, সিরিক এবং বান্দার আব্বাস এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। প্রেস টিভি জানিয়েছে, খার্গ দ্বীপে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে সেন্টকম এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
রয়টার্সের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মার্কিন হামলায় ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি অবকাঠামো, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো লক্ষ্যবস্তু ছিল।