এদিকে রংপুরের ৮ উপজেলায় অতিরিক্ত দামে নিত্যপণ্যের বিক্রয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, উপজেলা প্রশাসন এসব বাজার মনিটরিং করছে।
একই বাজারের ডিম বিক্রেতা রনি মিয়া জানান, গত এক মাসের তুলনায় ডিমের দাম অনেকটাই কমেছে। পাইকারি বাজারে ১০০টি ডিম কিনতে ৮৫০ টাকা খরচ হচ্ছে।
তবে কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। শজনে ১৮০-২০০ টাকা, লাউ ৪০-৫০ টাকা, কার্ডিনাল আলু ২০-২৫ টাকা এবং আমদানি করা আদা ১৪০-১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচের দামও বেড়ে ৫০-৬০ টাকায় পৌঁছেছে। পেঁয়াজ-৩০-৩৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
মুলাটোল বাজারের সবজি বিক্রেতা হায়দার মিয়া বলেন, সপ্তাহের ব্যবধানে দু-একটি সবজির দাম বাড়লেও বেশির ভাগ সবজির দাম কমেছে। বর্তমানে ২০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে অনেক ধরনের সবজি পাওয়া যাচ্ছে। এতে ক্রেতাদের চাপ কিছুটা কমেছে।
তিনি আরো বলেন, দাম কমলে বিক্রি বাড়ে। তখন ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েই লাভবান হন।
মাংসের বাজারে গরুর মাংস ৭২০-৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
চালের বাজারেও বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন নেই। স্বর্ণা (মোটা) চাল ৪৮-৫০ টাকা, স্বর্ণা (চিকন) ৫৫-৬০ টাকা, বিআর-২৮ ৬৫-৭০ টাকা, বিআর-২৯ ৬০-৬৫ টাকা, জিরাশাইল ৬০-৬৫ টাকা এবং মিনিকেট ও নাজিরশাইল চাল ৮৫-৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ডাল ও ভোজ্য তেলের বাজারও স্থিতিশীল রয়েছে। এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ২০৫-২১০ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল ২০০-২২০ টাকা, মসুর ডাল ১০০-১৮০ টাকা, মুগডাল ১৫০-১৬০ টাকা এবং বুটের ডাল ১১০-১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারে রুই মাছ ৩০০-৩৮০ টাকা, কাতল ৩০০-৫০০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০-২৫০ টাকা, পাঙাশ ১৫০-২৫০ টাকা, টেংরা ৪০০-৫৬০ টাকা এবং শিং মাছ ৩০০-৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অধিকাংশ মাছের দাম গত সপ্তাহের মতোই রয়েছে।
সার্বিকভাবে ডিম ও বেশ কয়েকটি সবজির দাম কমায় রংপুরের বাজারে স্বস্তির আভাস মিললেও মুরগি, কাঁচা মরিচ ও কিছু পণ্যের দাম বাড়ায় ক্রেতাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে রয়েছে। তবে বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় আগামী সপ্তাহগুলোতে দাম আরো সহনীয় পর্যায়ে আসতে পারে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ী ও ভোক্তারা।
রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোনো অসাধু ব্যবসায়ী যাতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অতিরিক্ত মূল্য আদায় করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে নিয়মিত অভিযান ও মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরো বলেন, সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক থাকলে আগামী দিনগুলোতেও নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বাজার ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।