যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক চুক্তি ইতোমধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং খুব শিগগিরই এর বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে। বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানান হয়।
সোমবার কানাডায় অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে বৈঠককালে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সবকিছুই সম্পন্ন হয়েছে।’
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা চুক্তির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার জেনেভায় আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের দিনই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে। এছাড়া ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চলতি সপ্তাহেই শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ কিংবা ইরানের জব্দ করা সম্পদ মুক্তির বিষয়টি নির্ভর করবে তেহরান চুক্তির শর্ত পূরণ করছে কি না তার ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) মাত্র দেড় পৃষ্ঠার একটি সাধারণ কাঠামোগত নথি।’ তিনি জানান, চুক্তির অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ভবিষ্যতের কারিগরি আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে।
ভ্যান্স বলেন, ‘চুক্তির প্রথম অনুচ্ছেদে ইরান আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মধ্যে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর অর্থায়ন বন্ধ করার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি ইরান যাচাইযোগ্যভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার অঙ্গীকার করেছে।’
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, চুক্তিটি ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ গালিবাফের স্বাক্ষর করেছেন।
তারা আরও জানিয়েছেন, বুধবারের মধ্যেই চুক্তির কিছু অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশ করা হতে পারে। তবে ট্রাম্প বলেছেন, ‘শুক্রবারের আনুষ্ঠানিকতার পর পুরো নথিই জনসমক্ষে আনা হবে।’
চুক্তির আওতায় বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানো হবে। এই সময়ের মধ্যে উভয় পক্ষ একটি চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবে।
এর আগে যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানান, চুক্তির অংশ হিসেবে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান তাৎক্ষণিক ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে।
তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির কাঠামোর আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত থাকলেও সেখান থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার চুক্তির শর্ত নয়। তারা বলেন, ইসরায়েল আত্মরক্ষার অধিকার বজায় রাখবে।
এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সোমবার রাতে বলেছেন, ‘লেবানন, সিরিয়া ও গাজায় নিরাপত্তা অঞ্চলগুলোতে ইসরায়েলি বাহিনী যতদিন প্রয়োজন ততদিন অবস্থান করবে।’ তিনি জোর দিয় বলেন, ‘চুক্তি থাকুক বা না থাকুক, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।’
নেতানিয়াহুর বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগে দক্ষিণ লেবাননে একটি গাড়িতে ইসরায়েলি হামলায় প্রাণহানির খবর প্রকাশিত হয়। শান্তি চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার পর এটিই ছিল প্রথম প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা। এর প্রতিক্রিয়ায় হিজবুল্লাহ ইসরায়েলি বাহিনীর লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে।