মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:২০ পূর্বাহ্ন

শাহজালাল বিমানবন্দরে বাড়ছে পাখির উপদ্রব

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৩০ বার

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় শীতের সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে যায় পাখির উপদ্রব। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকির পাশাপাশি উড়োজাহাজ চলাচলও বিঘ্নিত হয়। পাখির আঘাতের ফলে ফ্লাইট বাতিল, উড়োজাহাজের ইঞ্জিনের ক্ষতি কিংবা উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে প্রাণহানির মতো ঘটনাও ঘটে থাকে। এক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ উড়োজাহাজ উড্ডয়ন-অবতরণের এলাকা থেকে পাখি ও বন্যপ্রাণীদের দূরে রাখতে আধুনিক প্রচলিত প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেরও এ ধরনের সরঞ্জাম রয়েছে। কিন্তু এখানে পাখি তাড়াতে যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল এবং ঠিকমতো কাজ না করায় ঝুঁকি নিয়েই উড়োজাহাজ চলাচল করে। শাহজালালে বন্যপ্রাণী ও পাখি তাড়ানোর জন্য রয়েছে বার্ড মনিটরিং কন্ট্রোল সিস্টেম ও বার্ড শুটার। জানা গেছে, এ সিস্টেম ঠিকমতো কাজ করছে না। উপরন্তু রয়েছে বার্ড শুটারের স্বল্পতা। এ ছাড়া নিজস্ব বন্দুক না থাকায় পাখি তাড়াতে গিয়ে বিপাকে পড়ছে বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

সিভিল এভিয়েশনের এটিএম বিভাগের পরিচালক একেএম সাইদুজ্জামান গত ৫ নভেম্বর সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড স্টোর ইউনিটের (সেমসু) নির্বাহী পরিচালককে চিঠি দিয়ে জানান, বিমান উড্ডয়নের রানওয়ে ও তৎসংলগ্ন এলাকায় পাখির উপস্থিতি ও উড্ডয়ন হুমকিস্বরূপ। পাখির উপদ্রব নিয়ন্ত্রণের জন্য ২০২২ সালে কর্তৃপক্ষ বার্ড মনিটরিং সিস্টেম স্থাপন করে। যন্ত্রটির বিভিন্ন যন্ত্রাংশের কার্যকারিতা আগের চেয়ে কমে যাওয়ায় পাখির উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে যথাযথ ফল পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বিমানবন্দরে বিমান উড্ডয়ন অবতরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। চিঠিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

বেবিচক ও শাহজালাল কর্তৃপক্ষও পাখি ও বন্যপ্রাণী তাড়াতে বার্ড শুটারের স্বল্পতা এবং বার্ড মনিটরিং কন্ট্রোল সিস্টেমে সমস্যার কথা স্বীকার করছেন। তারা বলছেন, বার্ড মনিটরিং কন্ট্রোল সিস্টেমে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। এর সমাধানে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে বলা হয়েছে। বিমানবাহিনীর বার্ড শুটার প্রতিদিন পাখি তাড়াতে কাজ করছে। এক্ষেত্রে বন্দুকের স্বল্পতা রয়েছে। এটা নিয়ে রয়েছে আইনি জটিলতাও। তা নিরসনে মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেবিচক সদস্য (এটিএম) নূর-ই-আলম বলেন, পাখির উপদ্রবের বিষয়ে গত কয়েক মাস ধরে আমরা তৎপর। আমাদের বার্ড শুটারের কিছুটা স্বল্পতা রয়েছে। বিমানবাহিনীর সহায়তায় আমরা এটা কভার করছি।

বিমানবাহিনীর বার্ড শুটার প্রতিদিনই আমাদের সহায়তা করছেন। তিনি আরও বলেন, পাখি তাড়ানোর জন্য আমাদের একটি বার্ড মনিটরিং কন্ট্রোল সিস্টেম আছে। সেখানে ক্যামেরা, গ্যাস কামান, লেজার, শব্দ তৈরি করা গাড়িসহ নানা যন্ত্রপাতি রয়েছে। বেবিচক চেয়ারম্যান রানওয়ের বিভিন্ন পয়েন্ট পরিদর্শন করে দেখেছেন সিস্টেমটি ঠিকমতো কাজ করছে কিনা। দুয়েকটা জিনিসে সমস্যা পাওয়া গেছে। ঠিকাদারকে এগুলো ঠিক করার জন্য ডাকা হয়েছে। তিনি বলেন, গত ২ সপ্তাহ আগে বার্ড মনিটরিং সিস্টেমটির ওয়ারেন্টি পিরিয়ড শেষ হয়ে গিয়েছিল। সেটা আরেক বছরের জন্য নবায়ন করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে চেয়ারম্যান স্যার মিটিং করেছেন।

এ বিষয়ে অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, শাহজালালে বন্যপ্রাণী ও পাখির আঘাতে দুর্ঘটনা রোধে দ্রুত গ্যাস কামান যন্ত্র সচল করা এবং অত্যাধুনিক যন্ত্র স্থাপন করা জরুরি। বিশ্বের অন্যান্য দেশের বিমানবন্দরে যানবাহনের গতি নির্ণয় এবং মনিটরিং করা হয় নিয়মিত। শাহজালালে এখনও এ প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু না-হওয়াটা অবাক করার মতোই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম রাগীব সামাদ জানান, এখানে বন্যপ্রাণী তাড়ানোর সিস্টেমটা চালু আছে। আমরা বন্যপ্রাণী তাড়ানোর বিষয়ে এর মধ্যে সভাও করেছি। নতুন সিস্টেম কেনার পরিকল্পনা করেছি। বার্ড মনিটরিং সিস্টেমটায় কিছুটা সমস্যা দেখা দিয়েছে। এর সমাধানে ইতোমধ্যে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগোযোগ করা হয়েছে। দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে, বলেন তিনি।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ