রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:০০ অপরাহ্ন

জন্মদিনের দু’দিন আগে বাবা হারালো বুলেটের শিশুপুত্র

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৭ বার

জন্মদিনের আনন্দে ঘর ভরে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই নেমে এলো গভীর শোক। আগামী ২৭ এপ্রিল এক বছরে পা দেওয়ার কথা বুলেট বৈরাগীর শিশুপুত্র অব্যয় বৈরাগীর। এর ঠিক দু’দিন আগেই বাবাকে হারালো সে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ময়নাতদন্ত শেষে রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে বুলেট বৈরাগীর মরদেহ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় নিয়ে যাওয়া হবে দাফনের জন্য।

এর আগে চট্টগ্রাম থেকে প্রশিক্ষণ শেষে কুমিল্লার বাসায় ফেরার পথে নিখোঁজ হওয়া কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীর (৩৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজের প্রায় সাত ঘণ্টা পর শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল পৌনে ৮টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকায় একটি হোটেলের পাশের ফুটপাত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশ।

নিহত বুলেট বৈরাগী কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি চট্টগ্রামে ৪৪তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছিলেন।

পারিবারিক সূত্র জানায়, গত ১১ এপ্রিল সরকারি প্রশিক্ষণে যোগ দিতে তিনি চট্টগ্রামে যান। গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে প্রশিক্ষণ শেষে চট্টগ্রামের অলঙ্কার মোড় থেকে বাসে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। পথিমধ্যে পরিবারের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। সর্বশেষ রাত ১টা ২৫ মিনিটে ফোন করে তিনি জানান, কুমিল্লা নগরীর টমছমব্রিজ চৌরাস্তার মোড়ে পৌঁছেছেন।

এরপর দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও তিনি বাসায় না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন, কিন্তু ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও কোনো তথ্য না পেয়ে শনিবার সকালে তার বাবা সুশীল বৈরাগী কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মোমিন জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ মহাসড়কের আইরিশ হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের পাশের ফুটপাত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে। পরে দুপুর ১টার দিকে পরিবারের সদস্যরা থানায় গিয়ে মরদেহটি বুলেট বৈরাগীর বলে শনাক্ত করেন।

তিনি আরও জানান, মরদেহে বড় কোনো আঘাতের চিহ্ন না থাকলেও মুখমণ্ডলে কিছু রক্তের দাগ ছিল।

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, নিখোঁজের বিষয়ে পরিবার আগে জিডি করেছিল। পরে মরদেহ উদ্ধারের পর স্বজনরা সেটি শনাক্ত করেছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা যাবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ