শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০২:০৫ অপরাহ্ন

পাকিস্তানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরাও

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩ বার

ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য পাকিস্তানে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ।এদিকে গতকাল শুক্রবারইপাকিস্তানে পৌঁছেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির নেতৃত্বে ইরানের প্রতিনিধিদল।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শুক্রবার সন্ধ্যায় ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তানের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন জানিয়ে ইসমাইল বাঘায়ি বলেন, ‘ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা নেই। ইরানের পর্যবেক্ষণগুলো পাকিস্তানের কাছে তুলে ধরা হবে।’

বাঘায়ির এই মন্তব্যের আগে তেহরানের কাছে একটি ‘ভালো চুক্তি’ করার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তিনি বলেছেন, ‘তাদের যা করতে হবে তা হলো পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করা এবং তা হতে হবে অর্থবহ ও যাচাইযোগ্য উপায়ে।’

শুক্রবার এক ব্রিফিংয়ে হেগসেথ বলেন, তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অবরোধ বাড়ছে এবং বৈশ্বিক হয়ে উঠছে।

এদিকে ‘ইরানিরা আলোচনা করতে চায়’ জানিয়ে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট বলেছেন, ‘আলোচনা সফল হচ্ছে প্রমাণিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স তাতে অংশ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছেন।’

বিবিসি বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর হামলা শুরু করে এবং এর পরপরই তেহরান হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে। যুদ্ধরত পক্ষগুলোর এমন পদক্ষেপের ফলে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে।

শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে লিভিট বলেন, ট্রাম্প উইটকফ এবং কুশনারকে ইসলামাবাদে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ‘ইরানিদের কথা শোনার জন্য।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট সবসময় কূটনীতিকে একটি সুযোগ দিতে প্রস্তুত। গত কয়েক দিনে আমরা ইরানের পক্ষ থেকে কিছু অগ্রগতি অবশ্যই দেখেছি।’

জ্যারেড কুশনার ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ

এদিকে ইসলামাবাদে ইরানি দূতাবাস জানিয়েছে, আরাঘচি ‘দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলো পর্যালোচনা’ করার পরিকল্পনা করেছেন এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন।

এই সপ্তাহে ট্রাম্প এবং হেগসেথ জোর দিয়ে বলেছিলেন যে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র কোনো চাপ অনুভব করছে না। তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা চলতে থাকার খবরে এটি বোঝা যাচ্ছে যে, প্রশাসনের প্রকাশ্য বক্তব্য এবং হোয়াইট হাউসের নেপথ্যে যুদ্ধ শেষ করার উপায় খোঁজার প্রচেষ্টার মধ্যে পার্থক্য আছে।

এসব থেকে এই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, ট্রাম্পের মিশ্র বার্তা এবং তেহরানের আক্রমণাত্মক অবস্থান সত্ত্বেও উভয় পক্ষই সামনে এগোনোর একটি পথ খুঁজছে। এখন মূল প্রশ্ন হলো, পাকিস্তানে এই আলোচনা থেকে দুই দেশ কতটা অগ্রগতি অর্জন করতে পারবে।

এই মাসের শুরুতে প্রথম দফার আলোচনায় জেডি ভ্যান্স যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তবে এবারের আলোচনায় তিনি যাচ্ছেন কি- না তা এখনো নিশ্চিত নয়।

ভ্যান্স যদি না যান, তাহলে সেটি এই ইঙ্গিত দিতে পারে যে দুই দেশই বড় কোনো অগ্রগতির প্রত্যাশা করছে না। তবে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া থেকেই বোঝা যায় যে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান-উভয় পক্ষই একটি চুক্তিতে উপনীত হতে আগ্রহী।

বুধবার ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সতর্ক করে বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘স্পষ্ট যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের’ কারণে তাদের পক্ষে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব নয়।

তিনি বলেছেন, ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ বৈশ্বিক অর্থনীতিকে ‘জিম্মি’ করে রাখার শামিল এবং ইসরায়েলের ‘সার্বিক যুদ্ধংদেহী মনোভাব’।

এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য এখনো প্রস্তুত, তবে ‘প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, অবরোধ এবং হুমকি’-এসবই সত্যিকার আলোচনার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা।

এর আগে এই সপ্তাহে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দেন, যাতে আলোচনা অব্যাহত রাখা যায়। যুদ্ধবিরতি বুধবার শেষ হওয়ার কথা ছিল।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ