রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১৬ অপরাহ্ন

পাহাড়ে ফুলপূজায় বিজু-বিষু উৎসব

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৬ বার
পাহাড়ের নীরব সকাল। চারদিকে কুয়াশা ভেজা বাতাস। পাহাড়ের ভেতর দিয়ে বয়ে চলা সাঙ্গু নদের শান্ত জলরাশি। নদের তীরে রঙিন ঐতিহ্যবাহী পোশাকে চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের মানুষ।

ফুলপূজা দিতে ভোরের আলো ফোটার আগেই সেখানে জড়ো হন তারা।
সাঙ্গু নদে ফুলপূজার মাধ্যমে গঙ্গাদেবী ও জলবুদ্ধের কাছে ফুলপূজা নিবেদন করা হয়। পুরনো বছরের ভুলভ্রান্তি, অশুভ, দুঃখ-কষ্ট ও হতাশাকে বিদায় দিতে এবং নতুন বছরের সুখ-শান্তি ও মঙ্গল কামনায় এই আয়োজন। এর মধ্য দিয়েই শুরু হয়েছে পার্বত্য জনপদের ঐতিহ্যবাহী বিজু ও বিষু উৎসব।

রবিবার (১২ এপ্রিল) ভোরে বান্দরবান পৌর এলাকার কালাঘাটা রোয়াংছড়ি বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন সাঙ্গু খেয়াঘাটে এ আয়োজন ঘিরে শুরু হয় উৎসবের আবহ।
নানা রকম ফুল আর প্রাকৃতিক উপকরণ দিয়ে সাজানো কলাপাতায় স্রোতের জলে গঙ্গাদেবী ও জলবুদ্ধের উদ্দেশে নিবেদন করেন। আর মনে মনে উচ্চারণ করেন ‘পুরনো বছরের সব গ্লানি দূর হোক, নতুন বছর বয়ে আনুক সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি’। নদের তীরজুড়ে তখন মিলনমেলা।

ঐতিহ্যবাহী পোশাকে তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতিতে উৎসব পায় ভিন্ন মাত্রা।
পাহাড়ি সংস্কৃতির আবহে নদের তীরে তৈরি হয় অন্যরকম দৃশ্য। শিশুরা কৌতূহলী চোখে দেখছে, তরুণরা ছবি তুলছে; আর প্রবীণরা প্রার্থনায় ব্যস্ত—সব মিলিয়ে উৎসবের আনন্দে মুখর হয়ে উঠে পুরো এলাকা।

সুপল চাকমা নামের একজন অংশগ্রহণকারী বলেন, আমরা প্রতিবছর সাঙ্গু নদের জলে ফুল দিয়ে গঙ্গাদেবী ও জলবুদ্ধের কাছে নিবেদনের মাধ্যমে পুরনো বছরের ভুলভ্রান্তি, পাপ ও অশুভ, কষ্ট যেন চলে যায়; নতুন বছর যেন ভালো কাটে—এই প্রার্থনা করি।

জ্ঞানমনি তঞ্চঙ্গ্যা নামের আরেক অংশগ্রহণকারী বলেন, বিজু ও বিষু আমাদের সংস্কৃতির অংশ।

সবাই মিলে এই উৎসব পালন করতে পারা আমাদের জন্য অনেক আনন্দের।
বান্দরবান শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ এই আয়োজনে অংশ নেন। তাদের বিশ্বাস—নতুন বছরের শুরুতে নদের জলে ফুলপূজায় বছরের দিনগুলোতে মঙ্গল আসে, জীবনে সুখ-সমৃদ্ধি আসে।

১৩ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত এই উৎসবে রয়েছে নানা আয়োজন। ঐতিহ্যবাহী ঘিলা খেলা, বিভিন্ন সবজি দিয়ে তৈরি পাচন রান্না, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজন ঘিরে পাহাড়জুড়ে এখন উৎসবের আমেজ।

উদযাপন কমিটির সভাপতি উজ্জ্বল তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, ফুলপূজার মধ্য দিয়ে আমরা উৎসবের সূচনা করেছি। এটি শুধু বর্ষবরণ নয়, আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই উৎসব পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দেয়।

এদিকে, পাহাড়ে বর্ষবরণের উৎসব দেখতে ভোর থেকেই নদীতীরে ভিড় করছে পর্যটক ও স্থানীয় দর্শনার্থীরা। অনেকেই ঐতিহ্যবাহী পোশাকে ছবি তুলছে, কেউ উৎসব উপভোগ করছে।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক সুমিয়া বলেন, পাহাড়িদের উৎসব দেখতে আটজনের একটি বন্ধুর দল বান্দরবান শহরে এসেছে। এখানকার এত সুন্দর ও ভিন্নধর্মী উৎসব আগে দেখিনি। পাহাড়ি সংস্কৃতি কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়ে খুব ভালো লাগছে।

উৎসবের ধারাবাহিকতায় আজ বিকেল সাড়ে ৫টায় রোয়াংছড়ি উপজেলা সদরের হাইস্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহ্যবাহী ঘিলা খেলা।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ