মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪৭ অপরাহ্ন

শিক্ষার্থীদের পাতে পচা কলা, নষ্ট ডিম-রুটি

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১১ বার

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝরে পড়া রোধ, উপস্থিতি বাড়ানোসহ শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে চালু হয়েছে বহুল কাঙ্ক্ষিত মিড ডে মিল কর্মসূচি। এ কর্মসূচিতে মানসম্মত খাবার দেওয়ার কড়া বার্তা থাকলেও ঘটছে উল্টো। শিক্ষার্থীদের পাতে পরিবেশন করা হচ্ছে পচা কিংবা অপরিপক্ব কলা, নষ্ট ডিম, ফাঙ্গাস ধরা পাউরুটিসহ মানহীন খাবার। ওজনেও রয়েছে গরমিলের অভিযোগ। এসব খাবার খেয়ে বিভিন্ন জায়গায় শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হওয়ারও খবর পাওয়া যাচ্ছে।

এ ছাড়া প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মেনু বা তালিকা অনুযায়ী খাবার বিতরণ না করার অভিযোগ রয়েছে প্রায় সব বিদ্যালয়েই। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষা বিশ্লেষকরা। তারা বলেছেন, সরকার যে উদ্দেশ্য নিয়ে এই কর্মসূচি চালু করেছে, ঠিকাদারদের দায়িত্বহীনতা ও সংশ্লিষ্টদের খামখেয়ালিপনার কারণে তা ভেস্তে যাচ্ছে। আর স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, পচা কিংবা অপরিপক্ব কলা ও নষ্ট ডিম-রুটি খেলে শিক্ষার্থীরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারে।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গত বছরের ১৫ নভেম্বর শুরু হয় প্রাথমিকের মিড ডে মিল বা স্কুল ফিডিং কার্যক্রম। ওইদিন নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) সূত্র জানায়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় প্রথম মেয়াদে ১৫০টি উপজেলার ১৯ হাজার ৪১৯টি বিদ্যালয়ের স্কুল ফিডিং কার্যক্রম চলছে। এর মতো গত নভেম্বর শুরু হয়েছে ৫৭টি উপজেলায় আর বাকি উপজেলায় স্কুল ফিডিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে গত ২৯ মার্চ। এতে উপকারভোগী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩১ লাখ ৩০ হাজার।

মাঠের বাস্তব চিত্র: মিড ডে মিলে মানসম্মত খারাপ সরবরাহ করার কথা থাকলেও বাস্তবে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। দেশের অন্তত ২৫ উপজেলায় কয়েকশ বিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ কর্মসূচিতে নিম্নমানের খাবার সরবরাহের কথা। কোথাও বিতরণ করা হচ্ছে পচা কিংবা অপরিপক্ব কলা। কোথাও বিতরণ করা হচ্ছে ফাঙ্গাসযুক্ত রুটি। কোথাও নষ্ট কিংবা সিদ্ধ করা ছাড়া ডিম। নিম্নমানের খাবার বিতরণের অভিযোগের পাশাপাশি দেশের অধিকাংশ বিদ্যালয়েই প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) মেনু অনুযায়ী খাবার বিতরণ করা হচ্ছে না।

গত শনিবার হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার ১০৪টি বিদ্যালয়ে নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী ডিম ও রুটি সরবরাহের কথা থাকলেও উপজেলার অর্ধেকের বেশি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোনো কিছুই পায়নি। কয়েকটি বিদ্যালয়ে শুধু ডিম দিয়ে দায়সারা কাজ করেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার।

উপজেলার বড়গাও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, ‘শুধু একটি ডিম দিয়েছে। তাও ভাঙা, নষ্ট ডিম।’ গোলগাও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, তাদের শিক্ষার্থীদের ভাগ্য নেই মিড ডে মিলের কিছুই। তাদের নামে বরাদ্দ থাকলেও তারা কিছু পায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানালেন বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল রায়।

একই অভিযোগ পিরোজপুরের নেছারাবাদ ও স্বরূপকাঠি উপজেলায়ও। গত ২৯ মার্চ নেছারাবাদ উপজেলার দুই শতাধিক বিদ্যালয়ের কর্মসূচির শুরুতেই সরবরাহকৃত ডিমের ওজন নিয়ে গরমিলের অভিযোগ উঠেছে। স্বরূপকাঠি উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুজন সমদ্দার বলেন, ‘সরবরাহ করা ডিমের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ছোট, যা নির্ধারিত ওজনের কম।’

এই দুই উপজেলায় মিড ডে মিলের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে গ্রামীণ উন্নয়ন সংস্থার ডেপুটি ডিরেক্টর অ্যাডভোকেট গোপাল চন্দ্র শীল বলেন, ‘এটি একটি বড়ো প্রকল্প। একসঙ্গে এতগুলো বিদ্যালয়ে কাজ করতে গিয়ে প্রাথমিকভাবে কিছু ত্রুটি থাকতে পারে। তবে দ্রুতই খাবারের মান ও নির্ধারিত ওজন নিশ্চিত করা হবে। এখানে কোনো গাফিলতি নেই।’

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় বিতরণকৃত খাবারে সিদ্ধ ডিমের পরিবর্তে কাঁচা ডিম, কোনো কোনো দিন ডিম ও কলা দেওয়াই হয়নি। গত বৃহস্পতিবার পৌরশহর ও উপজেলার বেশ কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে এমন অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৮৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত ২৯ মার্চ থেকে টিফিনের খাবার বিতরণ শুরু করা হয়। ঢাকার সততা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ কাজের দায়িত্ব পায়। তবে মোহনগঞ্জ এলাকায় ঠিকাদারের মনোনীত প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জেলার পূর্বধলা উপজেলার মো. ওলিউল্লাহ নামে এক ব্যক্তি। তিনি ময়মনসিংহের গৌরিপুর উপজেলায় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। সরকারি চাকরির পাশাপাশি করছেন ঠিকাদারিও।

উপজেলার মাইলোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘বুধবার বিকেলে বনরুটি আর ডিম নিয়ে আসে ঠিকাদার। ওই সময় অর্ধেক শিক্ষার্থীকে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারপরও খাবার রিসিভ করে উপস্থিত অর্ধেক শিক্ষার্থীকে দিয়েছি। বাকি শিক্ষার্থীদের বৃহস্পতিবার সকালে কাঁচা ডিম ও বনরুটি দিয়েছি। বেলা সাড়ে ১২টায় খাবার নিয়ে এসেছিল, তাই গ্রহণ না করে ফেরত দিয়েছি।’

একই উপজেলার গলগলি মল্লিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কৌশিক তালুকদার বলেন, ‘গত বুধবার আমার বিদ্যালয়ে যেসব রুটি ও ডিম দেওয়া হয়েছে, ওই খাবার খেয়ে অনেক শিক্ষার্থী বমি করেছে। অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছে।’ মানসম্মত খাবার দেওয়ার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

মোহনগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল হোসেন বলেন, ‘খাবার বিতরণে নানা অনিয়ম-অসংগতির বিষয়টি জানার পর ঠিকাদারকে ডাকা হয়েছিল। ইউএনওসহ আমরা বসে তাকে সতর্ক করে দিয়েছি। যথাসময়ে খাবার সরবরাহ করতেও বলা হয়েছে।’

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় উপজেলায় গত সোমবার শিক্ষার্থীদের রুটি ও দুধ দেওয়ার কথা থাকলেও শুধু রুটি দিয়েই মনরক্ষার চেষ্টা করে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নকারী সংস্থা ‘স্বদেশ পল্লী’। পরদিন মঙ্গলবার বিভিন্ন স্কুলে বিস্কুট ও কলা পাঠালেও কলার অধিকাংশই কাচা ও পচা থাকার কারণে খাবার উপযোগী না হওয়ায় ফেরত পাঠায় স্কুল কর্তৃপক্ষ। একই অবস্থা মৌলভীবাজারের কুলাউড়া ও চাঁদপুর সদর উপজেলায়ও।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই দুই উপজেলার কোনো কোনো স্কুলে শুধু বিস্কুট বিতরণ করা হচ্ছে; অনেক স্কুলে বিস্কুটও দেওয়া হচ্ছে না। মিড ডে মিল শুরু হয়নি এমন কয়েকটি স্কুলের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, স্কুলে বিস্কুট এসেছে, কিন্তু বিতরণের অর্ডার না হওয়ায় আমরা বিতরণ করছি না।

কুলাউড়া উপজেলা শিক্ষা অফিসের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘মিড ডে মিল নিয়ে জগাখিচুড়ি অবস্থা। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’ সিলেটের গোলাপগঞ্জের একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক রত্না বেগম বলেন, ‘কলার অবস্থা এতটাই খারাপ যে, এগুলো পেয়ে আরও বেশি হতাশ হয়েছি। না পাওয়াই ভালো ছিল।’

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মান্দারতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী গতকাল সোমবার মিড ডে মিলের রুটি খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার বাবা কামাল হোসেন প্রধান বলেন, ‘বাড়িতে এসে দেখি আমার মেয়ে বমি করছে। পরে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায়, স্কুলে দেওয়া রুটি খেয়ে তার এমন অবস্থা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিই। পরে প্যাকেটে থাকা আরেকটি রুটি দেখে বুঝতে পারি সেটি পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত ছিল।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জোহরা আক্তার বলেন, ‘অভিভাবকদের কাছ থেকে জেনে আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।’ ওই উপজেলায় খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘প্রত্যাশী’র প্রজেক্ট ম্যানেজার আহাম্মেদ তাসনীন আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সুনামগঞ্জ জেলার ৬ উপজেলার প্রায় সাড়ে ৭০০ বিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে এই কার্যক্রম। বিস্কুট ও রুটি ছাড়া অন্য কোনো খাবার এখনো দেওয়া হয়নি। আবার সব স্কুলে ঠিকমতো পৌঁছানো হচ্ছে না খাবার। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাস জানান, এখনো মিড ডে মিলের রুটিন অনুযায়ী খাবার বিতরণ করা হচ্ছে না। কারণ সব টেন্ডার এখনো শেষ হয়নি। তিনি বলেন, ‘বিস্কুট ভালো। তবে রুটি নিয়ে যে অভিযোগ রয়েছে, তা সরেজমিন যাচাই করে দেখব।’

এর বাইরে বরগুনার তালতলী, মুন্সীগঞ্জ সদর; ভোলার দৌলতখান, বোরহানউদ্দীন, তজুমুদ্দীন ও মনপুরা, ময়মনসিংহের ফুলপুর, ঈশ্বরগঞ্জ, ধোবাউড়া ও হালুয়াঘাট, পটুয়াখালীর বাউফল, বরিশালের বাকেরগঞ্জ, বানারীপাড়া, গৌরনদী, হিজলা, মুলাদী, উজিরপুর এবং ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া ও নলছিটি উপজেলা নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাকেরগঞ্জ পৌর শহরের সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী রাফিজা আক্তারের ভাষ্য, ‘কলা পচা, ডিম আগের দিন সিদ্ধ করা; খাওয়া যায় না।’

মিড ডে মিলের খাবার বিতরণে অনিয়ন দেখে মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী নিজেই সরেজমিন তদন্তে নামেন। পরে আরও অধিকতর যাচাইয়ের জন্য ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করে দেন।

মুন্সীগঞ্জ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের যে ঠিকাদার কাজ পেয়েছে সে ২৯টি উপজেলার ঠিকাদার। খাবার সরবরাহ করতে গিয়ে একটা হযবরল অবস্থা ছিল শুরুতে। যেমন দিনাজপুর থেকে রুটি বানিয়ে এনে এখানে সরবরাহ করছে। আবার উপজেলার একটি জায়গায় সব ডিম সিদ্ধ করে বিভিন্ন স্কুলে বিতরণ করছে। জেলা প্রশাসকসহ আমরা গত রোববার ঠিকাদারকে ডেকে এনে সাত দিনের সময় দিয়েছি। স্থানীয়ভাবে সমন্বয় না করে কাজ করলে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে রিপোর্ট করব। সরকারের টাকার অপচয় হোক আমরা চাই না।’

মিড ডে মিলের মেনু নিয়ে প্রশ্ন: ডিপিই সূত্র জানায়, নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী প্রতি রোব, বুধ ও বৃহস্পতিবার বনরুটি (১২০ গ্রাম) ও সিদ্ধ ডিম (৬০ গ্রাম); সোমবার বনরুটি ও ইউএইচটি (প্রক্রিয়াকরণ) দুধ (২০০ গ্রাম) এবং মঙ্গলবার ফর্টিফায়েড বিস্কুট (৭৫ গ্রাম) ও মৌসুমি ফল বা কলা (১০০ গ্রাম) দেওয়ার কথা।

এর মধ্যে সারা দেশে দুধ সরবরাহ করছে ৮টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, আর বিভিন্ন উপজেলা নিয়ে ২০টি গুচ্ছে ভাগ করে ২০টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সরবরাহ করছে ডিম, কলা ও রুটি। আর বিস্কুট ৮টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সরবরাহ করার কথা থাকলেও একটি প্রতিষ্ঠান কাজ পেয়েছে। মামলা জটিলতার কারণে বাকি ৭টি টেন্ডার এখনো হয়নি।

এদিকে দেশের জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষকরা এই খাবার মেনু তৈরি করা নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। তারা বলেছেন, যে মেনুগুলো তৈরি করা হয়েছে তার মধ্যে অনেকটি খাদ্যপণ্য প্রতিদিন জোগান দেওয়া কঠিন। যেমন একদিনে এত ডিম সংগ্রহ কিংবা রুটি তৈরি করা কষ্টসাধ্য। আবার একটি উপজেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অনেক দূরে দূরে থাকে। সেখানে গাড়ি দিয়ে কলা বিতরণ করতে গেলে পরিবহনের সময় অনেক কলা নষ্ট হয়ে যায়। আবার যে দুধ বিতরণ করা হচ্ছে তা প্যাকেটজাত। শিক্ষার্থীকে প্যাকেট কেটে দুধ খেতে গিয়ে অনেক সময়ে পড়ে নষ্ট হয়ে যায়। তাই জুসের বোতলের মতো বোতলে দুধ সরবরাহ করা গেলে ভালো। সবমিলিয়ে সহজে পরিবহণযোগ্য খাবার দেওয়া উচিত বলে মনে করছেন তারা।

বিশেষজ্ঞ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য: ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদ কালবেলাকে বলেন, দীর্ঘদিন পর চালু হওয়া মিড ডে মিলে দেখলাম বেশ দুর্নীতি ও অনিয়ম হচ্ছে। অধিকাংশ জায়গাই আরেকটা ভাগ-ভাটোয়ারার ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে। সরকারকে এটা কঠোরভাবে দেখা উচিত।

গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, এখানে রাষ্ট্রীয় অর্থের শুধু অপচয় নয়, আমাদের শিক্ষার্থীদের প্রতারিত করা হচ্ছে। এসব ঘটনায় যে বা যারা জড়িত আছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এটার সঙ্গে স্থানীয় ও অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, শিশুরা খুবই সংবেদনশীল। এটা তাদের বেড়ে উঠার বয়স। যদি তাদের খাবারটি ভালো না হয় তাহলে শিশুর পুষ্টি চাহিদা পূরণ হবে না তার গ্রোথ বাড়বে না। দ্বিতীয়ত, শিশু পেটে পীড়াজনিত রোগ দেখা দেবে। এতে স্কুলে উপস্থিতি বাড়ার বিপরীতে স্কুলে অনুপস্থিতি বাড়বে। তাই শিশুদের যে খাবার দেওয়া হোক না কেন, তা হতে হবে অবশ্যই মানসম্মত।

এ প্রসঙ্গে জানতে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ হারুন উর রশীদের মুঠোফোনে অন্তত ৫০ বার ফোন ও খুদে বার্তা দিলেও তিনি সাড়া দেননি। মিরপুর-২ এ তার অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যানি। তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব নুরুন্নাহার কালবেলাকে বলেন, ‘বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব। কোনো অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ কালবেলাকে বলেন, ‘বড় দাগের না হলেও কিছু কিছু ভুলত্রুটি হচ্ছে, এটা ঠিক। আমরা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অফিসকে বলেছি, কোন কোন ঠিকাদার পচা ও খারাপ মানের খাবার সরবরাহ করছে, তাদের তালিকা দিতে। তালিকা পাওয়ার পর আমরা অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ