রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ০২:২০ পূর্বাহ্ন

দীর্ঘ ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরছে কর্মজীবী মানুষ

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬
  • ১২ বার

পবিত্র ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটি শেষে রাজধানী ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবী মানুষ। আগামীকাল রবিবার থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার তারিখকে সামনে রেখে গতকাল শুক্রবার সপরিবারে লোকজনকে ফিরতে দেখা গেছে। এর ফলে রাজধানীর বাস টার্মিনাল ও রেলস্টেশনগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। তবে দীর্ঘ ছুটি শেষে মাঝে দুই দিন অফিস খোলার পর আবারও স্বাধীনতা দিবস ও সপ্তাহিক ছুটি থাকায় রাজধানীতে এবার ধাপে ধাপে ফিরছে মানুষ। ফলে বড় ধরনের কোনো বিড়ম্বনার খবর পাওয়া যায়নি।

গতকাল শুক্রবার মহাখালী ও গাবতলী বাসস্টেশন ঘুরে দেখা যায়, দূরপাল্লার বাসগুলো একের পর এক এসে নামাচ্ছে যাত্রী। আবার একই সঙ্গে অনেকে ঢাকায় ঈদ উদযাপন শেষে গ্রামের পথে রওনা দিচ্ছেন। ফলে গাবতলী এলাকায় প্রবেশ ও বহির্গমন উভয় পথেই বেড়েছে ব্যস্ততা। বেশ কয়েকদিন পর যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে টার্মিনালগুলো। পরিবহন শ্রমিকদের কর্মচাঞ্চল্যও ছিল চোখে পড়ার মতো। গাবতলী বাস টার্মিনালের বিপরীতে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় দূরপাল্লার গণপরিবহন। পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ শেষে নগরবাসী ফিরছেন রাজধানীতে। যাত্রীদের ভিড় সামাল দিতে হিমশিম খেতে দেখা গেছে সংশ্লিষ্টদের।

মাগুরা থেকে আসা যাত্রী আলাল উদ্দিন জানান, সরাসরি কোনো গাড়িতে টিকিট না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে তাকে। তিনি বলেন, লোকাল গাড়িতে করে ঘাটে এসে নদী পার হয়ে সেলফিতে চড়ে ঢাকায় এসেছি। ভাড়াও বেশি নেওয়া হয়েছে, আমার কাছ থেকে ১০০ টাকা বেশি নিয়েছে।

ডিলাক্স পরিবহনের এক হেলপার জানান, সারাদিনই যাত্রীদের চাপ ছিল। কোনো গাড়ি খালি যায়নি। আগামীকাল চাপ আরও বাড়তে পারে।

অন্যদিকে মহাখালী আন্তজেলা বাস টার্মিনালে উত্তরবঙ্গ, ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনা ও টাঙ্গাইল অঞ্চল থেকে আসা যাত্রীদের ভিড় লক্ষ করা গেছে। অনেকেই টার্মিনালে পৌঁছানোর আগে বনানী, মহাখালী কাঁচাবাজার ও কলেরা হাসপাতাল গেট এলাকায় নেমে পড়ছেন। যাত্রীদের হাতে ছিল গ্রামের বাড়ি থেকে আনা নানা পণ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী ভরা ব্যাগ।

ছুটির বাড়তি সুযোগে অনেকেই এবার দীর্ঘ সময় গ্রামে কাটিয়ে ফিরছেন। ২৪ ও ২৫ মার্চ অফিস খোলা থাকলেও ২৬ থেকে ২৮ মার্চ টানা ছুটি থাকায় অনেকে অতিরিক্ত ছুটি নিয়ে ঈদের আনন্দ দীর্ঘায়িত করেছেন।

কুমিল্লা থেকে আসা রফিকুল ইসলাম রিফাত বলেন, পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটিয়ে এখন কর্মস্থলে ফিরছি। বেসরকারি একটা প্রতিষ্ঠানে এরিয়া ম্যানেজার হিসেবে কাজ করি।

নোয়াখালীর হাতিয়া থেকে ফেরা মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম জানান, তিনি গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানে প্রোডাকশন ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত এবং ঈদের ছুটি শেষে কাজে যোগ দিতে ফিরছেন। তিনি বলেন, নোয়াখালী থেকে সরাসরি গাজিপুরের কোনো বাস না পেয়ে মহাখালী আসতে হলো। এখান থেকে লোকাল বাসে চলে যাব। আমার কাছে কোনো ভোগান্তি লাগেনি। সবকিছু ভালোই ছিল।

সড়কপথে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে অনেক যাত্রী জানিয়েছেন, বড় ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই তারা ঢাকায় ফিরতে পেরেছেন। পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি শেষে নিরাপদে ফিরতে পেরে স্বস্তিও প্রকাশ করেছেন তারা।

পরিবহন-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঈদ-পরবর্তী ছুটি শেষে আরও কয়েকদিন রাজধানীমুখী যাত্রীদের চাপ অব্যাহত থাকতে পারে। তাদের মতে অনেকেই যামেলা এড়াতে ঈদের ছুটি শেষ হওয়ার পর ঢাকা আসেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ