ইরানের প্রধান জ্বালানি কেন্দ্র ‘খারগ দ্বীপ’-এ এক ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।স্থানীয় সময় শুক্রবার গভীর রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ অভিযানের কথা নিশ্চিত করেছেন।
ইরানের জ্বালানি খাতের প্রাণকেন্দ্র এবং ‘মুকুটের মণি’ হিসেবে পরিচিত এই দ্বীপে হামলার ঘটনায় বিশ্বব্যাপি জ্বালানি তেলের যে অস্তিরতা তা আরও প্রকট হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হামলার সময় দ্বীপটির তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করা হয়নি। তবে, বিশেষজ্ঞদের দাবি, তার এই দাবি বাস্তবসম্মত নয়।
আজ শনিবার আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ক্ষুদ্র দ্বীপটি দেশটির অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে।
হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্বালানি অর্থনীতিবিদ এড হিরস আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘খারগ দ্বীপ খুবই ছোট। সেখানে সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে তেল রপ্তানি অবকাঠামো অক্ষত রাখা প্রায় অসম্ভব। ট্রাম্পের দাবি কল্পনা করা কঠিন। জেপি মরগানের এক নোট অনুযায়ী, ম্যানহাটনের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ আয়তনের এই দ্বীপে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় আঘাত হানবে।’
শনিবার ভোরে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প গর্ব করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী বোমা হামলা চালিয়েছে এবং ইরানের ‘ক্রাউন জুয়েল’ খারগ দ্বীপের সব সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমি এখনো দ্বীপটির তেল অবকাঠামো ধ্বংস করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেইনি। তবে ইরান যদি হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের পথে বাধা দেয়, তবে আমি দ্রুত সেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করব।’
এদিকে খারগ দ্বীপে এই ভয়াবহ হামলার পর তেহরানে জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক ডেকেছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব।
এর আগে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছিলেন শুক্রবার রাতেই ইরানে সর্বোচ্চ হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র। ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই হুমকি দিয়েছিলেন।