শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:০১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
প্রেমিকাকে অর্থ দেওয়ার অভিযোগ, অস্বীকার ইনফান্তিনোর জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে দলীয় নয়, জাতীয় ইতিহাস থাকতে হবে: নাহিদ ইসলাম জাপানে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী টাইফুন ‘ডলফিন’, চীনে সর্বোচ্চ সতর্কতা তনু হত্যা : অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমান ফের গ্রেপ্তার জ্বালানি-বিদ্যুৎ সেক্টরকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে একটি চক্র: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেন ভারত থেকে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারে ‘হাসিনা কার্ড’ খেলবেন আর বন্ধুত্ব চাইবেন, দুটো বিপরীতমুখী-ভারতকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানে মোসাদের ২১ গুপ্তচর আটক সিলেট ও বগুড়ায় বাস দুর্ঘটনায় নিহত ১৭, আহত ৫০ কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার

পরিবারসহ আ. লীগ নেতার ৬৫ কোটি টাকার সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৩৪৭ বার

রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী ইরাদত আলী এবং স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে ও জামাতাসহ পরিবারের ৫ সদস্যের অবৈধভাবে অর্জিত ৬৫ কোটি ৬৫ লাখ ৫৫ হাজার ৮৬৩ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন রাজবাড়ী বিশেষ জজ আদালত।

সোমবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ফরিদপুর জেলা কার্যালয়ের পক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর এ্যাড. বিজন কুমার বোসের পক্ষে আবেদনের প্রেক্ষিতে রাজবাড়ীর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আনিসুর রহমান এ আদেশ দেন।

এর আগে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ফরিদপুরের সহকারী-পরিচালক মোস্তাফিজ মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে কাজী ইরাদত আলীসহ তার পরিবারের সদস্যদের অনুসন্ধান শুরু করে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে কাজী ইরাদত আলী, স্ত্রী রাবেয়া পারভীন, ছেলে কাজী রাকিবুল ইসলাম শান্তনু, মেয়ে কাজী সিরাজুম মনিরা ও জামাতা মো. নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ৬৫ কোটি ৬৫ লাখ ৫৫ হাজার ৮৬৩ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পায় দুদক।

সোমবার দুপুরে রাজবাড়ী জজ আদালত প্রাঙ্গনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে দুদক পিপি এ্যাড. বিজন কুমার বোস সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের মধ্যে রাজবাড়ী গোল্ডেশিয়া জুট মিল, পেট্রোল পাম্প, রাজধানী ঢাকার বসুন্ধরা এলাকায় বহুতল ভবনসহ বিভিন্ন সম্পদ রয়েছে বলে জানা গেছে।

দুদক কর্মকর্তার প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, কাজী ইরাদত আলীসহ পরিবারের সদস্যদের নামে অবৈধ সম্পদ হস্তান্তর করে অপরাধলব্ধ আয়ের অবৈধ প্রকৃতি, উৎস, অবস্থান, মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ গোপনের উদ্দেশ্যে স্থানান্তর বা রুপান্তর বা হস্তান্তর করে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন মর্মে প্রতীয়মান হয়। আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দুদকের অনুসন্ধান শুরুর পর থেকে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ তাদের নামে উপায়ে অর্জিত ব্যাংক হিসাব সমূহ নগদায়ন করার চেষ্টা করছেন ও স্থাবর সম্পদ হস্তান্তরের চেষ্টা করছেন মর্মে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে।

আরও জানা গেছে, কাজী ইরাদত আলীর নিজ নামে ঢাকা ও রাজবাড়ীর ১০টি হিসাবে ১ কোটি ৬৫ লাখ ৮৭ হাজার ৮২২ টাকা, স্ত্রী রাবেয়া পারভীনের ৭টি ব্যাংক হিসাবে ১ কোটি ২৮ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৪ টাকা, ছেলে জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক কাজী রাকিবুল ইসলাম শান্তনুর ১৩টি ব্যাংক হিসাবে ৪৬ লাখ ৬৫ হাজার ২১৮ টাকা, পুত্রবধূ আফসানা নওমী তাকিনার ৮টি হিসাবে ১১ লাখ ১১ হাজার ১১১ টাকা, মেয়ে কাজী সিরাজুম মুনিরার ১১টি ব্যাংক হিসাবে ২ কোটি ৩ লাখ ৮১ হাজার ২১২ টাকা এবং জামাতা মো. নুরুল ইসলামের ১০টি ব্যাংক হিসাবে ১ কোটি ৯০ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭৫ টাকা রয়েছে।

এ ছাড়া কাজী ইরাদত আলীর পারিবারিক ডেভোলপার কোম্পানি মিডল্যান্ড লিমিটেড-এর নামে ৬টি ব্যাংকে ২ কোটি ৮ লাখ ৯১ হাজার ৬৭৫ টাকা, ব্যবসায়িক হিসাবে ১০ লাখ ৩৭ হাজার ১৩৯ টাকা, পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন মেয়াদে ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র এবং পরিবারের সদস্যদের নামে ২ কোটি ২০ লাখ ৭৮ হাজার টাকা মূল্যের ৭টি গাড়ি রয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানে কাজী ইরাদত আলী ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্টদের নামে স্থাবর সম্পদের মধ্যে ভূমি, দালান, ফিলিং স্টেশনসহ ৫২ কোটি ৩৩ লাখ ২৭ হাজার ৫৫৭ টাকার সম্পদের উল্লেখ করা হয়েছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ