ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রসহ উত্তর আমেরিকার প্রবাসীদের ভোট গ্রহণের জন্য ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নিবন্ধন ২৪ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে। আগামী ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত এই অ্যাপে যারা নিবন্ধন করতে পারবেন, তারা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে পারবেন। তবে মাত্র ৫ দিন নিবন্ধনের সুযোগ থাকায় বহু প্রবাসী ভোট দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন।
এদিকে অ্যাপ চালুর পর ৭ দিনে প্রবাসী ভোটারদের নিবন্ধন সংখ্যা ৩২ হাজার ছাড়িয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে। ইসি বলছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যারা নিবন্ধন করবেন তাদের ঠিকানায় ব্যালট পেপার পাঠিয়ে দেওয়া হবে। ২৫ নভেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইসির ওয়েব সাইট থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।
ইসির ওয়েবসাইট থেকে আরো জানা যায়, বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার রাত ৮টা পর্যন্ত মোট নিবন্ধন করেছেন ৩২ হাজার ৭৯৩ জন প্রবাসী ভোটার। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২৮ হাজার ৪৯৯ জন, নারী ভোটার ৪ হাজার ২৯৪ জন।
গত ১৯ নভেম্বর থেকে পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা এবং আফ্রিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের নিবন্ধন শুরু হয়েছে, চলবে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত। আর ২৩ নভেম্বর রাত ১২টার পর (২৪ নভেম্বর) শুরু হয়েছে উত্তর আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে বসবাসরত বাংলাদেশিদের নিবন্ধন, যা চলবে একই সময় পর্যন্ত।
এদিকে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে ভোটারের তথ্য কতটা সুরক্ষিত থাকবে জানতে চাইলে ইসির অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের সিস্টেমে এই ডেটা লিকের সম্ভাবনা কম। ভোটারদের কোনও তথ্য যেন লিক না হয়, সে জন্য আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি।’
এদিকে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপ প্রসঙ্গে আউট অব কান্ট্রি ভোটিং সিস্টেম অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন (ওসিভি-এসডিআই) প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক ও ইসির সিস্টেম অ্যানালিস্ট মামুনুর হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, অ্যাপটি পুরোপুরি দেশীয় প্রযুক্তিবিদদের তৈরি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দেড় কোটি প্রবাসী বাংলাদেশি রয়েছে। তবে বৈশ্বিক নিবন্ধনের হারকে মাথায় রেখে প্রাথমিকভাবে ৫০ লাখ ভোটারের নিবন্ধন সক্ষমতা রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে তা এক কোটিতে উন্নীত করার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।
এ সময় অ্যাপের নিরাপত্তা বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ইকেওয়াইসি, লাইভলিনেস চেক এবং কিউআর কোড যাচাইকরণের মাধ্যমে সম্পূর্ণ নিরাপদ ভোট প্রদান নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। মাল্টিফাংশনাল অথেন্টিকেশন, ওয়েব ও মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন টেস্টিং টুল, বিভিন্ন নিরাপত্তা স্তর সংযোজনসহ বিস্তৃত পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এছাড়াও অ্যাপ চালুর আগে বিজিডি ই-গভ সিআইআরটি এবং বিসিসি থেকেও ভলনারেবিলিটি অ্যাসেসমেন্ট ও প্রয়োজনীয় টেস্টিং করা হয়েছে, যোগ করেন এই সিস্টেম অ্যানালিস্ট।