শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
২ বছরের সম্পর্কের পর অনন্যা-ওয়াকার বিচ্ছেদ! বৃষ্টিবিঘ্নিত লর্ডসে শুরুতেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে ইংল্যান্ড ৬৪ জেলায় ৬৪ জন ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী’ থাকলে মন্দ হতো না : রুমিন ফারহানা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বপালনে সম্পূর্ণভাবে দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করব: রাষ্ট্রপতি নেপালে ভয়াবহ বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৭০ খুলনায় ভাড়া বাসায় মিলল অস্ত্রসহ একাধিক চেকবই, হেফাজতে স্বামী-স্ত্রী-ছেলে ১০ হাজার কনস্টেবল, ৪ হাজার এসআই ও ৪০০ সার্জেন্ট নিয়োগ করা হবে প্রস্তাব পেলে মক্কা প্যাক্টে যোগদানে ইতিবাচক থাকবে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাম উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু ১০ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ বিএসটিআইয়ের

স্থায়ী সুরাহা হোক

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২৮০ বার

সাত কলেজ ঘিরে সংকটের স্থায়ী সুরাহা না হওয়া অত্যন্ত হতাশার। এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে কয়েক দিন পরপরই বিক্ষোভ-আন্দোলন ও অস্থিরতার সূত্রপাত হচ্ছে। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে জনদুর্ভোগ। আর ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে রাজধানীবাসীকে। গত বৃহস্পতিবার আবারও সাত কলেজের জন্য প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ জারির দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো রাজধানীতে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। এতে রাজধানী প্রায় অচল হয়ে পড়ে। সীমাহীন দুর্ভোগ সৃষ্টি হয় শহরজুড়ে।

এদিন দুপুর থেকে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব ও টেকনিক্যাল মোড়ে সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। ফলে যান চলাচল বন্ধের পাশাপাশি তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে নগরবাসীর যে দুর্ভোগ পোহাতে হয়, সে চিত্র ছিল দুঃসহ। হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয় মানুষকে। আটকে পড়া মানুষের বিক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া শোনা যায়। সেসব প্রতিক্রিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এসব তীব্র প্রতিক্রিয়ার লক্ষ্যবস্তু যেমন একদিকে শিক্ষার্থীরা; আবার সরকারও। যত্রতত্র যানবাহন কিংবা রাস্তা আটকানোয় শিক্ষার্থীদের ওপর তীব্র কটাক্ষের পাশাপাশি সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বহীনতা ও বিষয়টি নিয়ে উদাসীনতার প্রশ্নও তুলতে দেখা যায়। শিক্ষার্থীদের প্রতি অসহায় ভুক্তভোগীদের অনুরোধ করতে দেখা যায় রাস্তা ছেড়ে অন্য উপায়ে তাদের দাবিদাওয়া পূরণের। কিন্তু শিক্ষার্থীদের তরফ থেকে রাস্তা না ছাড়ার ব্যাপারে অনড় অবস্থানের কথা জানানো হয়। সব মিলিয়ে এমন এক স্থবিরতার সৃষ্টি হয়, সব প্রয়োজন হয়ে পড়ে অসহায়।

এদিন সোয়া চার ঘণ্টা পর বিকেল ৫টার দিকে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেন। তবে রোববারের মধ্যে দাবি না মানলে সোমবার সায়েন্স ল্যাব মোড়ে আবারও অবরোধ করবেন বলে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়। ছাত্রদের দাবি, রোববারের মধ্যে সরকার ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ জারি না করলে আবারও অবরোধ করবেন তারা। অধ্যাদেশ জারি না হলে সেদিন শিক্ষার্থীরা অধ্যাদেশ মঞ্চ তৈরি করবেন। পরবর্তী কর্মসূচি সেই মঞ্চ থেকে ঘোষণা করবেন।

প্রশ্ন হচ্ছে, সাত কলেজ নিয়ে বারবার এমন পরিস্থিতি কেন সৃষ্টি হচ্ছে? বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে জল গড়িয়েছে অনেক। সংকট নিরসনে ২০১৭ সাল থেকে নেওয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ। যত দূর জানা যাচ্ছে, প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশের পরিমার্জিত খসড়া গত মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। খসড়াটি দ্রুত মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নীতিগত সম্মতি ও আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে উপদেষ্টা পরিষদে উত্থাপন করা হবে। নতুন প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, কলেজগুলোর নিজস্ব বৈশিষ্ট্য বজায় রেখেই অনেকটা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে এ নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংযুক্ত থেকে কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তবে শিক্ষার্থীরা পূর্ণাঙ্গ স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে অনড়। তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা তথা অধ্যাদেশ দাবি করছেন।

আমরা মনে করি, সাত কলেজ ঘিরে উদ্ভূত সংকটের দ্রুত সমাধান জরুরি। কেননা, সমস্যা জিইয়ে রাখলে তা ঘনীভূত হয়। এখন পর্যন্ত সরকারের পদক্ষেপে এ বিষয়ে যে অগ্রগতি, তা নিশ্চয়ই প্রশংসার দাবি রাখে। তবে যে বিষয় বারবার পরিস্থিতিকে জটিল করছে, শিক্ষার্থীদের বারবার রাস্তায় নামতে বাধ্য করছে আর দুর্ভোগ পোহাতে মানুষের, তা দ্রুত সমাধানই কি শ্রেয় নয়? আমাদের প্রত্যাশা, এ নিয়ে নতুন কোনো সংকট যেন সৃষ্টি না হয়, শিক্ষার্থীরাও যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন—সরকারসংশ্লিষ্টরা আন্তরিকভাবে এমন একটি পথ বের করবেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ