স্ত্রীরা রান্না পারেন না-এমন এক অদ্ভুত অজুহাতে গত তিন বছরে তিনটি বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে পিন্টু বার্নওয়াল নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
তবে ঘটনাটি কেবল রান্নাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; দুই স্ত্রীর করা যৌতুক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন এই যুবক।
আইনি কোনো বিচ্ছেদ ছাড়াই একের পর এক বিয়ে করার অভিযোগে স্থানীয় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তার হওয়ার পর পিন্টু সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে আনা যৌতুকের দাবিগুলো মিথ্যা।
তার দাবি অনুযায়ী, তার ৬০ বছর বয়সী মা হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। বাড়িতে রান্নার লোক না থাকায় এবং পূর্বের স্ত্রীরা তার মায়ের দেখাশোনা বা রান্না না করায় তিনি নিরুপায় হয়ে তৃতীয় বিয়ে করেছেন।
পিন্টু বলেন, আমার আগের দুই স্ত্রীর কেউ দুই দিনও রান্না করেনি। উল্টো আমি আর মা মিলে তাদের খাইয়েছি। এমনকি প্রথম স্ত্রী তাকে ও তার মাকে ছুরি নিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলেও পাল্টা অভিযোগ করেন তিনি।
পিন্টুর প্রথম স্ত্রী খুশবুর অভিযোগ, ২০২২ সালের ২ ডিসেম্বর তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় উপহার হিসেবে তার বাবা পিন্টুকে ৩ লাখ টাকা, ২০ গ্রামের সোনার হার ও ১৫ গ্রামের আংটিসহ অনেক মূল্যবান সামগ্রী দেন।
কিন্তু এরপরও পিন্টু ও তার পরিবার নিয়মিত খুশবুর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতে থাকে। এক পর্যায়ে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। খুশবু বাপের বাড়ি থাকাকালীনই জানতে পারেন, পিন্টু তাকে তালাক না দিয়েই দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন।
দ্বিতীয় স্ত্রী গুড়িয়া কুমারী জানান, পিন্টু তার কাছে ৫ লাখ টাকা ও একটি গাড়ির দাবি করেছিলেন। যৌতুক দিতে না পারায় তাকেও বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। গুড়িয়ার অভিযোগ, পিন্টু কেবল বিয়ের নামে প্রতারণা করে আর্থিক ফায়দা লুটছেন।
তিনি বলেন, পিন্টু অনেক মেয়ের জীবন নষ্ট করেছে। দ্বিতীয় বিয়ের পর আমাকে না জানিয়ে সে তৃতীয় বিয়ে করেছে। আমার ১০ মাসের একটি সন্তান আছে, অথচ সে আমাদের কোনো খোঁজ নেয় না।
প্রথম দুই স্ত্রীর করা এফআইআর-এ নির্যাতনের পাশাপাশি ধর্ষণের অভিযোগও আনা হয়েছে, যদিও পিন্টু এগুলোকে ‘ভুয়া’ বলে দাবি করেছেন। দ্বিতীয় স্ত্রী গুড়িয়া পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
তিনি জানান, এর আগে গ্রেপ্তারের পর পিন্টু কীভাবে জামিন পেলেন তা নিয়ে তাদের মনে সংশয় রয়েছে।
বর্তমানে পুলিশ পিন্টু বার্নওয়ালকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। ভুক্তভোগী স্ত্রীরা জানিয়েছেন, তারা কেবল ন্যায়বিচার এবং এই প্রতারক স্বামীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এভাবে নারীদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে।