শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:৩২ পূর্বাহ্ন

আইনি লড়াইয়ে ৮৪ মামলায় মুক্ত হয়ে পেয়েছেন স্বাভাবিক জীবন

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ২১ বার

২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগ সরকার আমলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সারা দেশে ৮৪টি মামলা হয়। দেশ ছাড়ার আগমুহূর্তে ১৮ মাস কারাগারে ছিলেন তিনি। ওই সময়ে রিমান্ডে অমানবিক নির্যাতনেরও শিকার হন। কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে আদালতে হাজিরা দেওয়া ছিল নিয়মিত ঘটনা। পরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার জন্য ২০০৮ সালে দেশ ছাড়েন তিনি। যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত জীবন চলাকালে ৫টি মামলায় তারেক রহমানকে সাজা দেন বাংলাদেশের আদালত। এসব মামলায় পলাতক থাকায় তারেক রহমানকে গণমাধ্যমে বক্তব্য, বিবৃতি প্রচার এবং প্রকাশেও নিষেধাজ্ঞা দেন হাইকোর্ট। গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর একে একে সব মামলায় মুক্ত হন তারেক রহমান। গণমাধ্যমে বক্তব্য প্রচারের নিষেধাজ্ঞাও তুলে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মামলামুক্ত হয়ে দেশে প্রত্যাবর্তনের পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন তারেক রহমান।

বিএনপির আইনজীবীরা জানান, বিগত সেনাসমর্থিত ওয়ান-ইলেভেন সরকারের আমলে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ১৭টি মামলা করা হয়। এরপর পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সারা দেশে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে আরও ৬৭ মামলাসহ মোট ৮৪টি মামলা করা হয়। এ ছাড়া খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ৩৭টি মামলা করার তথ্য মিলেছে। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, মানি লন্ডারিং, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ, মানহানি, রাষ্ট্রদ্রোহ ও নাশকতার অভিযোগে এসব মামলা করা হয়।

৫ মামলায় তারেক রহমানের সাজা: ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা হয়। এতে তখনকার বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা বেঁচে গেলেও ২৪ জন নিহত হন। আহত হন ৪ শতাধিক নেতাকর্মী। এ মামলায় ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর তারেক রহমানের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া ২০০৮ সালে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে ৫ বছর ও তারেক রহমানের ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিচারিক আদালত। ২০০৭ সালে তারেক রহমান, তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও জুবাইদা রহমানের মা সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আরেকটি মামলা করে দুদক। এ মামলায় ২০২৩ সালের আগস্টে তারেক রহমানকে ৯ বছর ও তার স্ত্রী জুবাইদা রহমানকে ৩ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার আদালত। এ ছাড়া ২০১৩ সালের ১৭ নভেম্বর সিঙ্গাপুরে অর্থ পাচারের একটি মামলায় ঢাকার একটি আদালত তারেক রহমানকে খালাস দেন। পরে ২০১৬ সালে খালাসের রায় বাতিল করে তারেক রহমানকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেন হাইকোর্ট। অন্যদিকে ২০১৪ সালে লন্ডনে এক সমাবেশে শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে কটূক্তির অভিযোগে হওয়া মামলায় তারেক রহমানকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন নড়াইলের আদালত।

গণমাধ্যমে বক্তব্য প্রচারে ছিল নিষেধাজ্ঞা: যুক্তরাজ্যে নির্বাসনে থাকাকালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য-বিবৃতি গণমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা দেন হাইকোর্ট। তারেক রহমানকে মামলায় পলাতক দেখিয়ে আইনের বেড়াজালে পেঁচিয়ে ২০১৫ সালের ৬ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাসরিন সিদ্দিকী বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট করেন। পরদিন হাইকোর্ট রুলসহ নিষেধাজ্ঞার এ আদেশ দেন। শুধু তাই নয়, ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট রিট আবেদনকারী এ আইনজীবীর সম্পূরক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আরেক আদেশে হাইকোর্ট তারেক রহমানের বক্তব্য, বিবৃতি, অডিও ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউব থেকে সরাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বিটিআরসিকে নির্দেশ দেন। গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২২ আগস্ট আদালতে রিট আবেদনকারী আইনজীবী রিটটি আর না চালানোর কথা জানান। এরপর ওইদিনেই রুল খারিজ (ডিসচার্জ) করা হয়। এরপর থেকে গণমাধ্যমে তারেক রহমানের বক্তব্য-বিবৃতি প্রচারে বাধা কাটে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-আইনবিষয়ক সম্পাদক জয়নুল আবেদীন মেজবাহ কালবেলাকে বলেন, ‘সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগ সরকার তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সারা দেশে ৮৩টি ও বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৭টি মামলা করে। রাজনীতি থেকে চিরতরে সরিয়ে দিতে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ সরকার বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপ করে তারেক রহমান ও তার পরিবারকে মিথ্যা মামলায় সাজাও দিয়েছে; কিন্তু ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর এসব মামলা যে মিথ্যা, তা প্রমাণিত হয়েছে। সাজা হওয়া মামলাগুলো আপিল শুনানিতে খারিজ হয়ে গেছে। বর্তমানে তারেক রহমান, বেগম খালেদা জিয়াসহ তার পরিবারের সদস্যরা মামলা মুক্ত।’

এ আইনজীবী বলেন, ‘ষড়যন্ত্রকারীদের এ আইনি জাল ছিল অনেক কঠিন। অবশেষে সব ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে তারেক রহমান দেশে এসেছেন। তারেক রহমান মিথ্যা মামলায় যেহেতু জেল খেটেছেন, তিনিই বুঝবেন দেশে ন্যায়বিচার, আইনের শাসন ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।’

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ