মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১২ অপরাহ্ন

সরকার ঐক্য চাইছে, একটি মহল বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৪ বার

বর্তমান সরকার যখন দেশের সব মানুষকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে চাইছে, একটি মহল তখন বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানকে বিতর্কিত না করারও আহ্বান তিনি।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর ধর্মসভা (রাধাগোবিন্দ মন্দির) পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে এসে মন্দিরে শারদীয়া শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

এর আগে বেলা ১২টা ৪ মিনিটে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে মন্দির প্রাঙ্গণে এসে পৌঁছালে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান হয়। ছোট শিশুরা প্রধান অতিথিকে নৃত্য পরিবেশনা করে অভ্যর্থনা জানায়।

প্রধানমন্ত্রী মন্দিরে এসে পুজারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। মন্দিরের পক্ষ থেকে সভাপতি ভবতোষ সরকার ও সাধারণ সস্পাদক খোকন সরকার প্রধানমন্ত্রীকে ক্রেস্ট উপহার দেন। এ সময় তারেক রহমান তাদের হাতে ১০ লাখ টাকার চেক প্রদান করেন।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘কিছুদিন যাবৎ আমরা দেখেছি আমরা যেই ঐক্যটি তৈরি করতে চাচ্ছি, বর্তমান সরকার যে ঐক্যটিকে তৈরি করতে চাচ্ছে, বর্তমান সরকার সকলকে নিয়ে যেখানে চলতে চাইছে, আমরা দেখছি একটি মহল বিভিন্ন রকম বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।’

তিনি বলেন, ‘আজকে পরিষ্কারভাবে আমি সকলের উদ্দেশে একটি কথা বলতে চাই… বিশেষ করে যারা বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেছেন। আমরা দেখেছি অতীতে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধকে কেউ একজন বিতর্কিত করতে চেয়েছিল, কোন একটি দল বিতর্কিত করতে চেয়েছিল। কিন্তু সেই ফলাফলটা খুব শুভ হয়নি। বাংলাদেশের মানুষ সেই ফলাফলটিকে বা সেই লক্ষ্য বা উদ্দেশ্যটিকে ভালোভাবে গ্রহণ করেননি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঠিক একইভাবে আমরা দেখেছি ২৪ এর যে ছাত্র জনতার গণ-অভ্যুত্থান, সেই গণঅভ্যুত্থান থেকেও কোনো কোনো মহল বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। আমি সকলকে সঙ্গে নিয়ে, গণতন্ত্রকামী সকল জনগণকে একসঙ্গে নিয়ে, গণতন্ত্রকামী জনগণের পক্ষ থেকে বলতে চাই যে দয়া করে আপনারা কেউ ২৪ এর ছাত্র জনতার যে গণঅভ্যুত্থান, সেটিকে দয়া করে আপনারা বিতর্কিত করবেন না।’

‘আসুন আপনাদের যদি কিছু বলার থাকে জনগণ সিদ্ধান্ত নিয়ে সংসদ গঠন করেছে সেই সংসদে জনগণ তাদের প্রতিনিধিদেরকে পাঠিয়েছে। আপনাদের যদি কিছু বলার থাকে, যদি কিছু তুলে ধরার থাকে আসুন আমরা সংসদে সেই কাজটি করি, সেই বিতর্কিতটুকুই সেই সিদ্ধান্তটি জনগণের পক্ষে জনগণ রাষ্ট্রের পক্ষে যেটি ভালো হবে সেই সিদ্ধান্ত আমরা গ্রহণ করি’, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমরা অতীতের মতো এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি করতে না করি যাতে করে জনগণের যে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা আছে জনগণের যে সন্তানদের যে শিক্ষা আছে, স্বাস্থ্য সুবিধা আছে ,জনগণের ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি বাকরি আছে, এগুলো যাতে কোনোভাবে ব্যাঘাত না ঘটে এ দেশে। বর্তমানে জনগণ দেশে একটি স্থিতিশীলতা চায়, জনগণ চায় শান্তিতে থাকতে, জনগণ যায় নিরাপদে থাকতে এবং বর্তমান সরকার তার জন্যই কাজ করছে।’

দেশটি আমাদের সকলের জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘এই দেশকে গড়ে তুলতে হলে আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে, দেশটিকে গড়ে তুলতে হলে আমাদেরকে সকল বিভ্রান্তি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা অতীতে আমরা যে রাজনীতি দেখেছি, তার পরিবর্তন আমরা করতে চাই। কিন্তু এই পরিবর্তন সরকার চেষ্টা করছে করার জন্য। কিন্তু এই পরিবর্তনে সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে জনগণ।এই জনগণকে আমরা বর্তমান সরকার অতীতের মতন বর্তমানে পাশে পেতে চায়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যেমন সকলে মিলে সকল ধর্মের মানুষ মিলে এদেশকে স্বাধীন করেছিলাম। সকল ধর্মের মানুষ একসঙ্গে আমরা এদেশে মানুষের রাজনৈতিক অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম। আমরা যদি আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাই, তাহলে আমাদের সকল ধর্ম-মতের মানুষকে একসঙ্গে দেশের জন্য কাজ করে আমাদের প্রত্যাশিত সেই বাংলাদেশকে আমাদের গড়ে তুলতে হবে।’

বর্তমান সরকারকে এই দেশের মানুষ নির্বাচিত করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হতে পারে কোন অঞ্চলে আমাদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছে, কোন অঞ্চলে আমাদের সদস্য নির্বাচিত হয় নাই। কিন্তু বর্তমান সরকার এমন একটি সরকার হতে চায় এই সরকারকে যে ভোট দিয়েছে তারও সরকার হতে চায় এই সরকার। যে ভোট দেয়নি তারও এই সরকার সরকার হতে চায়।’

‘অর্থাৎ আমরা সকল এলাকা বা সকল মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। সকল এলাকার উন্নয়ন আমরা সমানভাবে রাষ্ট্রের যে অর্থনৈতিক অবস্থা আছে তার উপরে বিবেচনা করে আমরা সকল এলাকার সম বন্টন করে সকল এলাকার সমানভাবে উন্নয়ন করতে চাই’, যোগ করেন তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রংপুর মহানগরের উন্নয়নের জন্য গত দুই সপ্তাহ আগে একাধিক মিটিংয়ে ১৮‘শ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, লোকাল গভর্মেন্টের মাধ্যমে জেলা পরিষদকে দিয়ে আমরা এই জেলার বিভিন্ন উপজেলাগুলোতে বিভিন্ন ইউনিয়নগুলোতে, বিভিন্ন গ্রামগুলোতে মানুষের প্রয়োজনীয় যে ইনফ্রাস্ট্রাকচার দরকার, ব্রিজ-কালবার দরকার, স্কুল কলেজ দরকার সেগুলো ইনশআল্লাহ আমরা পর্যায়ে ভাবে গড়ে তুলবো যাতে মানুষ সকল প্রকার রাষ্ট্রের সকল সুযোগ সুবিধা পেতে পারে।’

‘কিন্তু এই কাজগুলো যদি করতে হয় তাহলে আমাদের সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, এই কাজগুলো যদি করতে হয় তাহলে আমাদের ভেতরে ভেদাভেদকে ভুলে থাকতে হবে, এই কাজগুলো যদি করতে হয় আমাদেরকে একসঙ্গে হাত ধরে সামনে এগিয়ে যেতে হবে’, যোগ করেন সরকারপ্রধান।

হিন্দু সম্প্রদায়কে শুভ নবমীর শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই নবমীর দিনে আমার প্রত্যাশা থাকবে সকল মানুষের কাছে এই দেশের সকল মানুষের কাছে সকল ধর্মের মানুষের কাছে আসুন, আমরা আমাদের প্রত্যাশিত সেই বাংলাদেশ গড়ার জন্য একসঙ্গে কাজ করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের সন্তান শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করি, আমরা আমাদের দেশের মানুষের স্বাস্থ্যের সুবিধা নিশ্চিত করি, আমরা আমাদের দেশের মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করি। সর্বোপরি আমরা দেশে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য যেভাবে প্রয়োজন আমরা সেভাবেই কাজ করি সকলে মিলে। আসুন প্রতিটা ধর্মের মানুষ আমরা যাতে আগামী হাজার বছর সুন্দরভাবে শান্তি একসঙ্গে থাকতে পারি সেই প্রত্যাশা রাখছি।’

মন্দিরের পেছনের হোস্টেলের মতো অবকাঠামো যেটি আছে তৈরিতে আর্থিক সহযোগিতার বিষয়টি দেখতে সংস্থাপন প্রতিমন্ত্রীকে নির্দেশনা প্রদানের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি বিজন কান্তি সরকার, বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্তু ‍কুমার কুন্ড, সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, নিপুণ রায় চৌধুরী, ছাত্র দলের পার্থ দেব্, গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, রংপুর ধর্মসভার স্বপন কুমার ভুট্টচার্য প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ রংপুরের সংসদ সদস্য ও জেলা নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তারেক রহমানের প্রথম রংপুর সফর। মন্দিরের অনুষ্ঠানের পর প্রধানমন্ত্রী সড়ক পথে সৈয়দপুরের উদ্দেশে রওনা হন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ