মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২৮ অপরাহ্ন

সাত ধাপে ইউপি নির্বাচন, শুরু নভেম্বরে

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৪ বার

প্রায় এক দশক পর স্থানীয় সরকারে নির্দলীয় নির্বাচন হতে যাচ্ছে। নভেম্বর মাসে ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্দলীয় নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করবে এএমএম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন কমিশন। সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে নির্বাচন উপযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোয় সাত ধাপে ভোট নেওয়া হবে।

গতকাল রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে ভোটগ্রহণের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি- নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করব এবং এই আলোচনা তিন ধাপে সম্পন্ন করার আশা করছি। ২৩, ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর রেজিস্ট্রেশন সিকোয়েন্স অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলোকে ইনভাইট করব।

সানাউল্লাহ বলেন, দলগুলোর দুজন করে প্রতিনিধি থাকবেন। তাদের সঙ্গে আলোচনার অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে, মূলত সহযোগিতা চাওয়া; যাতে করে সংসদ নির্বাচন যে রকম সুশৃঙ্খলভাবে এবং কোনো ধরনের গণ্ডগোল ছাড়া সম্পন্ন করতে পেরেছি, সেভাবে যেন স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু এবং শেষ করতে পারি।

সাত ধাপে ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় তুলে ধরে সানাউল্লাহ বলেন, দেশে ৪৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪২৭২টি আইন অনুযায়ী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে তফসিলে আসবে। সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ধাপ ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর। চতুর্থ ধাপ আগামী বছর ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ধাপ ২৭ মে অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি বলেন, ভোটের তারিখ নিয়ে প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে; চূড়ান্ত নয়। নির্বাচন কমিশনের আরেকটি প্রস্তুতিমূলক সভা আছে ১৭ সেপ্টেম্বর, সেখানে চূড়ান্ত করা হবে।

সানাউল্লাহ বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি- বিভিন্ন বাৎসরিক ইন্টারভেনশন যেগুলো আছে; টেস্ট পরীক্ষা, বাৎসরিক পরীক্ষা, জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা, এসএসসি পরীক্ষা, এইচএসসি পরীক্ষা, দুর্গাপূজা, রোজার ঈদ এবং সবশেষে ঈদুল আজহা- এসব বিবেচনায় নিয়ে যে স্লটগুলো পেয়েছি, সেখান থেকে আমরা আশা করছি, সাত ধাপে আমরা এই নির্বাচন সম্পন্ন করতে পারব। সম্ভব হলে পাঁচ ধাপের মধ্যেই নির্বাচন উপযোগী সিংহভাগ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন করে ফেলার পরিকল্পনা রয়েছে। শেষের দুটো ধাপে বাকি ইউনিয়ন পরিষদ এবং কোনো কারণে আটকে থাকা ইউনিয়ন পরিষদগুলোর নির্বাচন করা হবে।

তিনি জানান, এ মুহূর্তে আইনি জটিলতার মধ্যে রয়েছে ৫৬টি ইউনিয়ন পরিষদ। সেগুলোতে শেষের ধাপগুলোতে নির্বাচন করা হবে।

সানাউল্লাহ বলেন, প্রথম ধাপে কোন ইউনিয়নে নির্বাচন হবে, তা আরও পরে ওয়ার্কআউট করা হবে। রাফলি যে গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে, আজকে কমিশন থেকে- প্রথম ধাপে আনুমানিক ৮০টি উপজেলার সব ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন করতে পারব। প্রাইমারি ক্রাইটেরিয়া হচ্ছে-যেসব ইউনিয়ন ম্যাচিউর হয়ে গেছে, সেগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রথম দিকের ধাপে শেষ করা।

তিনি বলেন, প্রথম ধাপে ঠাকুরগাঁও বাদ থাকবে। কারণ ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচন হচ্ছে। আমরা চাই না দুটো নির্বাচনের প্রচার একসঙ্গে শুরু হোক। এ জেলা দ্বিতীয় ধাপে হবে। সদর উপজেলাগুলো প্রথম ধাপে থাকবে।

তিনি বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সহজ করতে আন্তঃজেলা, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কাজ করবে কমিশন। ২১ সেপ্টেম্বর আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বৈঠকও হবে।

এক প্রশ্নে সানাউল্লাহ বলেন, বিদ্যমান আইনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আইনের বিষয়গুলো নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বিস্তারিতভাবে ব্রিফ করবেন।

দলীয় প্রতীকে সবশেষ ইউনিয়ন পরিষদ ভোট হয়েছে ২০২১ সালের এপ্রিল, নভেম্বর, ডিসেম্বর এবং ২০২২ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে; সেবারও সাত ধাপে ভোট হয়েছিল।

আওয়ামী লীগ সরকার ২০১৫ সালে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদে দলীয় প্রতীকে ভোটের বিধান রেখে আইন সংশোধন করে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার স্থানীয় সরকার আইন সংশোধন করে অধ্যাদেশ জারি করে। অধ্যাদেশটি আইনে রূপান্তর করে গত ৯ এপ্রিল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিল পাস করা হয়েছে। ফলে এবার নির্দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হচ্ছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ