মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৪ অপরাহ্ন

ইন্দোনেশিয়ায় যাত্রীবাহী জাহাজডুবিতে এখনো নিখোঁজ ১২৯

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৪ বার

ইন্দোনেশিয়ার জাভা সাগরে ঝড়ো আবহাওয়ার মধ্যে যাত্রীবাহী একটি জাহাজ উল্টে যাওয়ার পর ১২৯ জনের সন্ধানে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। সোমবার দেশটির কোস্টগার্ড, নৌবাহিনীসহ শত শত উদ্ধারকর্মী দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয়জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

উদ্ধার সংস্থা জানিয়েছে, ‘ভিরগো ট্রান্সপোর্ট ৮’ নামের জাহাজটিতে ২৪৩ জন যাত্রী ও ক্রু ছিলেন। রোববার ভোরে খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে জাহাজটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে ১০৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। জাহাজটি পূর্ব জাভার সুরাবায়া থেকে দক্ষিণ কালিমান্তানের বানজারমাসিনের দিকে যাচ্ছিল। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

জাতীয় উদ্ধার সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ শ্যাফি বলেন, সোমবারও সাগর উত্তাল থাকায় উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। সেখানে বড় বড় ঢেউ ও প্রবল বাতাস রয়েছে। জাহাজটিতে পৌঁছানো গেলেও সেটির ভেতরে ঢুকে উদ্ধারকাজ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি জানান, নিখোঁজদের উদ্ধারে অন্তত ৬২২ জন উদ্ধারকর্মী, ১৭টি জাহাজ এবং পাঁচটি হেলিকপ্টার ও বিমান মোতায়েন করা হয়েছে। পানির নিচে উদ্ধারকাজে দক্ষ কর্মীদেরও পাঠানোর প্রস্তুতি রয়েছে। তবে বর্তমান সাগর পরিস্থিতিতে তাদের নামানো সম্ভব হচ্ছে না।

উদ্ধার সংস্থার প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, লাল-কালো রঙের বড় জাহাজটি উত্তাল নীল পানিতে কাত হয়ে আংশিক ডুবে আছে। জাহাজটির নিচের লাল অংশ পানির ওপরে দেখা যাচ্ছে। কাছাকাছি দুটি ছোট নৌকায় কয়েকজন মানুষকে অবস্থান করতে দেখা যায়।

উদ্ধার সংস্থার কর্মকর্তা আরিয়ান্তো আরদি জানান, দুর্ঘটনাস্থলটি বানজারমাসিনের ত্রিসক্তি বন্দর থেকে প্রায় ৮০ নটিক্যাল মাইল বা প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে। সেখানে প্রবল বাতাস থাকায় উদ্ধারকারী জাহাজগুলোকে দুর্ঘটনাস্থলের কাছে ভেড়ানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

শ্যাফি বলেন, দুর্ঘটনার সময় আবহাওয়া অত্যন্ত খারাপ ছিল। প্রায় তিন মিটার উচ্চতার ঢেউ জাহাজটিতে আঘাত করছিল। স্বাভাবিক আবহাওয়ায় ত্রিসক্তি বন্দর থেকে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগে। তবে উত্তাল সাগরে সময় লাগছে আট থেকে নয় ঘণ্টা পর্যন্ত।

রোববার উদ্ধার সংস্থার আরেক কর্মকর্তা এডি প্রাকোসো জানিয়েছিলেন, প্রবল ঢেউ জাহাজটির ডান পাশে আঘাত করার পর সেটি একদিকে ব্যাপকভাবে কাত হয়ে যায়।

ইন্দোনেশিয়ার পরিবহনমন্ত্রী দুডি পুরওয়াগান্ধি জানিয়েছেন, জাহাজটির ধারণক্ষমতা ছিল ৫০০ যাত্রী। ফলে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেনি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রায় ১৭ হাজার দ্বীপের দেশ ইন্দোনেশিয়ায় দ্বীপগুলোর মধ্যে যাতায়াতে ফেরি ও নৌযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিমান ভ্রমণের তুলনায় সমুদ্রপথ সস্তা ও সহজলভ্য হওয়ায় দেশটিতে নৌযানে বিপুলসংখ্যক মানুষ যাতায়াত করেন। তবে প্রায়ই নৌযান দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়।

গত মাসেও পৃথক দুটি ঘটনায় শত শত যাত্রী বহনকারী দুটি ফেরিতে আগুন লাগে। মাদুরা দ্বীপের কাছে একটি ফেরিতে আগুনে পাঁচজন নিহত হন। আর পর্যটন দ্বীপ বালি থেকে ছেড়ে যাওয়া আরেকটি ফেরিতে আগুন লেগে একজনের মৃত্যু হয়।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ