বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১১ অপরাহ্ন

নেপালে বন্যায় এখনও নিখোঁজ ৪ হাজার, জীবিত উদ্ধারের আশা ক্ষীণ

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১ বার

হিমালয়ে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত নেপালে হাজারো নিখোঁজ মানুষের জীবিত উদ্ধারের আশা দিন দিন ক্ষীণ হয়ে আসছে। ভয়াবহ এই দুর্যোগের এক সপ্তাহ পর বুধবার দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৪ হাজার মানুষ।

চীন সীমান্তের কাছে পাহাড়ি শহর ও উপত্যকাগুলোর ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ভয়াবহ বন্যার স্রোতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। অনেক মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন কর্মকর্তারা। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

নেপালের জাতীয় জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্রের (এনইওসি) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ফণীন্দ্র পৌডেল বলেন, নিখোঁজদের মধ্যে জীবিত কাউকে খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা কমে আসছে। তবে উদ্ধারকারীরা এখনো আশা ছাড়েননি।

তিনি বলেন, ‘নিখোঁজদের জীবিত উদ্ধারের আশা কমছে। আমরা প্রার্থনা করছি এবং আশাবাদী। আশা তো আশাই।’

উদ্ধারকারীরা এখন কয়েকটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের টানেলের ভেতরে আটকে থাকা মানুষদের খুঁজছেন। এসব কেন্দ্রের পাওয়ারহাউসের ভেতরে কর্মীদের থাকার জন্য বিভিন্ন কক্ষ ও জায়গা রয়েছে।

নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেট জানিয়েছেন, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর ধ্বংসাবশেষ থেকে ২৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো অন্তত ৬৩৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের কয়েকজন টানেলের ভেতরে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০১৫ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের সময় নেপালের উদ্ধার অভিযান তদারক করা অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা বিনোজ বাসনেট বলেন, দুর্যোগের ধরন ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ব্যাপকতা বিবেচনায় সময় যত যাচ্ছে, জীবিত মানুষ উদ্ধারের সম্ভাবনাও তত কমছে।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, সরকার এখন ধীরে ধীরে অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম থেকে পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের দিকে মনোযোগ সরাচ্ছে।

মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষের জীবন রক্ষা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকার পুনর্বাসনে গুরুত্ব দিচ্ছে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় রোগের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে নজরদারি ও জরুরি প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ভয়াবহ এই বন্যায় প্রায় ২২ লাখ টন ধ্বংসাবশেষ জমেছে। এর মধ্যে রয়েছে ভবনের ধ্বংসাবশেষ, পাথর ও পলি। এই পরিমাণ ধ্বংসস্তূপ প্রায় ছয়টি এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের সমান।

ইউএনডিপি বলেছে, ধ্বংসস্তূপের বিপুল পরিমাণই এই দুর্যোগের ভয়াবহতা এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বাড়িঘর, সড়ক ও জনসাধারণের জায়গা পরিষ্কার করে পুনর্গঠনের বিশাল চ্যালেঞ্জের চিত্র তুলে ধরছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ