বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৩৪ অপরাহ্ন

জিম্বাবুয়ের লেক কারিবায় ফেরিডুবি, নিহত ৪৪

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬
  • ২ বার

জিম্বাবুয়ের লেক কারিবায় একটি ফেরি ডুবে অন্তত ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার দুর্ঘটনার পর ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ফেরিটিতে ৯০ জন যাত্রী ও পাঁচজন ক্রু বহনের সক্ষমতা ছিল। তবে দুর্ঘটনার সময় নৌযানটিতে ঠিক কতজন ছিলেন, তা নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। একটি হ্রদ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, ফেরিটিতে ১২ শিশুসহ প্রায় ১২০ জন ছিলেন।

জিম্বাবুয়ের সিভিল প্রটেকশন ইউনিট (সিপিইউ) জানিয়েছে, টিকিট বিক্রির নিবন্ধিত হিসাব অনুযায়ী ফেরিটিতে ১১৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রী ছিলেন। টিকিট কাটার বয়স হয়নি এমন আরও কতজন শিশু নৌযানটিতে ছিল, তা জানা যায়নি।

পুলিশ জানায়, শক্তিশালী একটি ঢেউয়ের আঘাতে ফেরিটি ভারসাম্য হারিয়ে উল্টে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে পানির ওপর উল্টে থাকা ফেরিটির কাঠামো দেখা গেছে।

দুর্ঘটনার পর এখন পর্যন্ত ৭৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হ্রদ থেকে ৪৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১৫ জনের মৃত্যুর কথা জানানো হয়েছিল।

দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ম্যাক্সটন কানহেমা এএফপিকে বলেন, খারাপ আবহাওয়ার মধ্যেই ফেরিটি যাত্রা করেছিল। একটি বড় ঢেউয়ের আঘাতে নৌযানটির ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে যাত্রীরা চরম বিপাকে পড়েছিলেন। পানিতে মরদেহ ভাসতে দেখা যায় এবং যারা উদ্ধার হওয়ার মতো অবস্থায় ছিলেন, তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য মুতসা মুরোমবেদজি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ফেরিটির যাত্রার শুরুতে ধারণ করা একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, স্থানীয় বাসিন্দারা প্রায় পাঁচ ঘণ্টার দূরত্বের কারিবা শহরে যাওয়ার জন্য হ্রদটি পার হচ্ছিলেন।

দুর্ঘটনায় ফেরিটিতে প্রকৃতপক্ষে কতজন যাত্রী ছিলেন, তা স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। মুরোমবেদজি বলেন, এ বিষয়ে কঠিন কিছু প্রশ্নের জাবাবদিহিতা প্রয়োজন এবং নৌযানে থাকা মানুষের সঠিক সংখ্যা কর্তৃপক্ষকে প্রকাশ করতে হবে।

দুর্ঘটনার পর জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট এমারসন নানগাগওয়া দেশটিতে রাষ্ট্রীয় দুর্যোগ ঘোষণা করেছেন। উদ্ধার অভিযান জোরদার করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সম্পদ ও জনবল মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড্যানিয়েল গারওয়ে জানান, উদ্ধার অভিযানে সেনাবাহিনীর নৌযান ইউনিট, পুলিশের ডুবুরি দল এবং একটি বেসরকারি হেলিকপ্টার যুক্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি সরকার গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে।

লেক কারিবা জিম্বাবুয়ে ও জাম্বিয়ার সীমান্তজুড়ে অবস্থিত। এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কৃত্রিম জলাধার। দুই দেশের মধ্যে পরিবহন ও মাছ ধরার পাশাপাশি জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে এই হ্রদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

দুর্ঘটনার পর ফেরিতে যাত্রী বহনের সক্ষমতা, প্রকৃত যাত্রীসংখ্যা এবং খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে নৌযান চলাচলের বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে উদ্ধার অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ