শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
২ বছরের সম্পর্কের পর অনন্যা-ওয়াকার বিচ্ছেদ! বৃষ্টিবিঘ্নিত লর্ডসে শুরুতেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে ইংল্যান্ড ৬৪ জেলায় ৬৪ জন ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী’ থাকলে মন্দ হতো না : রুমিন ফারহানা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বপালনে সম্পূর্ণভাবে দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করব: রাষ্ট্রপতি নেপালে ভয়াবহ বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৭০ খুলনায় ভাড়া বাসায় মিলল অস্ত্রসহ একাধিক চেকবই, হেফাজতে স্বামী-স্ত্রী-ছেলে ১০ হাজার কনস্টেবল, ৪ হাজার এসআই ও ৪০০ সার্জেন্ট নিয়োগ করা হবে প্রস্তাব পেলে মক্কা প্যাক্টে যোগদানে ইতিবাচক থাকবে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাম উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু ১০ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ বিএসটিআইয়ের

গ্রিন কার্ডের জন্য ১ লাখ ডলার ফি নেয়ার পরিকল্পনা ট্রাম্পের

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬
  • ৭১ বার

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে আবেদনকারীদের কাছ থেকে আগাম এক লাখ ডলার ফি নেয়ার পরিকল্পনা বিবেচনা করছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। কম আয়ের বিদেশিদের অভিবাসন নিরুৎসাহিত করতেই এই প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে আবেদনকারীদের নাগরিকত্ব পাওয়ার আগ পর্যন্ত এই অর্থ বন্ড হিসেবে জমা রাখতে হবে।

সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ বলছে, কম আয়ের বিদেশিদের অভিবাসন সীমিত করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে আগাম এক লাখ ডলার নেয়ার প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে বলা হয়েছে, স্থায়ী অভিবাসী ভিসার জন্য আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে উচ্চমূল্যের একটি বন্ড আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। কয়েকজন কর্মকর্তা এর পরিমাণ এক লাখ ডলার হতে পারে বলে প্রস্তাব দিয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুরুতে অল্প কয়েকটি দেশে পরীক্ষামূলকভাবে এই নীতি চালুর বিষয়টি বিবেচনা করছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। এই ব্যবস্থায় আবেদনকারীদের বন্ডের অর্থ আগাম জমা দিতে হবে। তবে ব্যক্তিভেদে বন্ডের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। পরে তারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেলে সেই অর্থ ফেরত দেয়া হবে। এই প্রক্রিয়ায় কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।

সূত্রগুলোর মতে, এই বন্ড জামানত হিসেবে কাজ করবে। যদি কোনও গ্রিন কার্ডধারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে নিজের আর্থিক ব্যয় বহন করতে সক্ষম না হন, সে ক্ষেত্রে এটি কাজে লাগানো হবে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগেই স্পষ্ট করেছেন যে যারা যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করতে চান, তাদের অবশ্যই আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হতে হবে।’

তিনি বলেন, আবেদনকারীদের নিজেদের ব্যয় বহনের মতো আর্থিক সক্ষমতা প্রমাণের উপায় হিসেবে কিছু ভিসা আবেদনকারীর কাছ থেকে বন্ড নেয়ার বিষয়টি পর্যালোচনা করছে পররাষ্ট্র দপ্তর।

বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ অঙ্কের এই বন্ড মূলত কম আয়ের দেশগুলোর গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের নিরুৎসাহিত করার জন্যই পরিকল্পনা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বেশি আয়ের আশায় যেতে চাওয়া অনেক বিদেশির পক্ষেই এই অর্থ জোগাড় করা সম্ভব নাও হতে পারে।

দ্য টেলিগ্রাফ বলছে, এই ধরনের ভিসা সাধারণত মার্কিন নাগরিকদের পরিবারের সদস্যদের জন্য ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে স্বামী বা স্ত্রী, বাবা-মা এবং ভাই-বোনও রয়েছেন। গত বছর এ ধরনের প্রায় পাঁচ লাখ ভিসা ইস্যু করা হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন সীমিত করার বিষয়ে হোয়াইট হাউস ধারাবাহিকভাবে যেসব উদ্যোগ নিয়েছে, তার অংশ হিসেবেই এই বন্ড প্রস্তাব এসেছে।

এর আগে গত জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন ৭৫টি নির্ধারিত দেশের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে। জাতীয়তার ভিত্তিতে ভিসা স্থগিত করার এই নীতি আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এছাড়া গত জুনে বিদেশি কর্মীদের জন্য এইচ-১বি ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে নিয়োগদাতাদের ওপর এক লাখ ডলার ফি আরোপের যে উদ্যোগ ট্রাম্প নিয়েছিলেন, সেটিও আদালতে আটকে যায়।

এ বিষয়ে একজন ফেডারেল বিচারক তার রায়ে বলেন, নতুন এইচ-১বি ভিসা ফি আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে। তার মতে, এটি কার্যত এমন একটি কর যা আরোপের ক্ষমতা কেবল কংগ্রেসের হাতেই রয়েছে।

এছাড়া গত বছর ‘ট্রাম্প গোল্ড কার্ড’ নামে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের একটি র‌্যাপিড কর্মসূচিও চালু করেন ট্রাম্প। এর জন্য ১০ লাখ ডলার এবং অতিরিক্ত আরও ১৫ হাজার ডলার প্রসেসিং ফি নির্ধারণ করা হয়েছিল।

তবে আগ্রহ কম থাকায় কর্মসূচিটি সমালোচনার মুখে পড়ে। চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত এতে মাত্র ৩৩৮টি আবেদন জমা পড়ে এবং সেগুলোর মধ্যে অনুমোদন পায় মাত্র একটি।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ