শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:১৪ অপরাহ্ন

রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের বাস চলাচল বন্ধ

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬
  • ৩৬ বার

রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নতুন কমিটি গঠন ও আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে বিরোধের জেরে রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে শ্রমিকদের একাংশের ডাকা কর্মবিরতির কারণে জেলার অভ্যন্তরীণ (লোকাল) রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এর আগে, সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে তার সম্মেলন কক্ষে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নতুন কমিটি গঠন ও আর্থিক হিসাব নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ইউনিয়নের নির্বাচন পরিচালনার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রস্তাব অনুযায়ী, কমিটির প্রধান হিসেবে জেলা প্রশাসনের একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এবং সদস্য হিসেবে শ্রম অধিদপ্তর, রাজশাহী মহানগর পুলিশ, শ্রমিক ফেডারেশন ও বাস মালিক সমিতির একজন করে প্রতিনিধিকে রাখার কথা ছিল।

তবে বাস মালিক সমিতির প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করেন জেলা শ্রমিকদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এরশাদ আলী পল্টু। এ সময় রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল প্রতিবাদ জানালে দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়।

বৈঠক শেষে শ্রমিকদের একটি অংশ রাজশাহী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে গিয়ে ঢাকাসহ সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়। এ সময় নজরুল ইসলাম হেলালের মালিকানাধীন স্বরণী স্পেশাল (নিউ হিমাচল) পরিবহনের কাউন্টারে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে তার একটি বাসেও ভাঙচুরের চেষ্টা করা হলে অন্য শ্রমিকরা বাধা দেন।

পরে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সোমবার রাত ৮টার দিকে দূরপাল্লার বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী মঙ্গলবার সকাল থেকে শ্রমিকদের একাংশ কর্মবিরতি শুরু করলে রাজশাহীর লোকাল রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক নেতা হারুন বলেন, প্রশাসনের মধ্যস্থতায় রাতেই দূরপাল্লার বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে কর্মবিরতির কারণে মঙ্গলবার সকালে জেলার অভ্যন্তরীণ বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। অন্যান্য জেলার বাস চলাচল স্বাভাবিক আছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের মধ্যে রাজনৈতিক বিভাজনও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রাজশাহী শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশন-সমর্থিত বর্তমান কমিটির নেতারা নির্বাচন ছাড়াই বিদ্যমান কমিটি বহাল রাখার পক্ষে তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল বলেন, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। শ্রমিকদের একটি পক্ষ এর বিরোধিতা করে। পরে তারা কাউন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। সেখানে অধিকাংশই বহিরাগত এবং আওয়ামী লীগ-সমর্থক ছিল বলে আমাদের ধারণা। আমরা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। শ্রমিকরা আয়-ব্যয়ের হিসাব চেয়েছেন, আমরা সেটিও দিতে প্রস্তুত ছিলাম।

এ বিষয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি মুস্তারি বেগম বলেন, গতকালের বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে। তবে মঙ্গলবারের কর্মবিরতি নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ