বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পুলিশের ছয় শীর্ষ পদে রদবদল, এসবি প্রধান হলেন কামরুল আহসান ইউপি নির্বাচন : পাঁচ ধাপে ভোট চায় বিএনপি বিডিআর হত্যার ৪ প্রত্যক্ষদর্শীকে গুলি করে পেট চিরে সিমেন্টের বস্তায় বেঁধে নদীতে ফেলেন জিয়াউল আহসান সংসদের তিন অধিবেশনে খরচ ৭০৩ কোটি টাকা ভালো অর্জনকে স্বীকৃতি দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী কসোভোর সাবেক প্রেসিডেন্টের ২৫ বছরের কারাদণ্ড মানুষ যে ধরনের আইন চায়, সে ধরনের আইনই আনবে সরকার: আইনমন্ত্রী ‘ভারতে পলাতক ফ্যাসিবাদী ও দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা যাতে অস্থিতিশীলতার চেষ্টা করতে না পারে’ নির্বাচনী এজেন্টের ব্যাংক হিসাব দাখিল বাধ্যতামূলক করল ইসি মেসির ১০০তম গোলে চ্যাম্পিয়ন মায়ামি

কসোভোর সাবেক প্রেসিডেন্টের ২৫ বছরের কারাদণ্ড

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৩ বার

সার্বিয়ার কাছ থেকে স্বাধীনতার দাবিতে ১৯৯০-এর দশকে কসোভোর যুদ্ধে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের চারটি অভিযোগে সাবেক প্রেসিডেন্ট হাশিম থাচিকে দোষী সাব্যস্ত করে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত কসোভো স্পেশালিস্ট চেম্বার্স (কেএসসি)।

৫৮ বছর বয়সী থাচি ১৯৯৮-৯৯ সালের যুদ্ধে জাতিগত আলবেনীয়দের কসোভো লিবারেশন আর্মির (কেএলএ) শীর্ষ কমান্ডারদের একজন ছিলেন। বুধবার দেওয়া রায়ে হত্যা, নির্যাতন ও বেআইনি আটকসহ বিভিন্ন অপরাধে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তবে থাচি শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। কাতারভিত্তিক বার্তাসংস্থা আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

আদালত জানিয়েছে, কেএলএর হাতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং সার্বীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সহযোগী হিসেবে বিবেচিত ৯৬ জনকে হত্যার ঘটনায় থাচির দায় প্রমাণিত হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় স্যুট ও টাই পরা থাচি নীরবে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

থাচির সঙ্গে কেএলএর আরও তিন সাবেক শীর্ষ কমান্ডারকেও বিভিন্ন অভিযোগে সাজা দেওয়া হয়েছে। জাকুপ ক্রাসনিকিকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড, কাদরি ভেসেলিকে ১৮ বছর এবং রেক্সেপ সেলিমিকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের ইতোমধ্যে কারাগারে কাটানো সময়ও সাজায় অন্তর্ভুক্ত হবে। চারজনই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন।

তবে মানবতাবিরোধী অপরাধের ছয়টি অভিযোগ থেকে চারজনকেই খালাস দেওয়া হয়েছে। বিচারকেরা বলেন, বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ও পরিকল্পিত হামলার অংশ হিসেবেই এসব অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল এমনটি প্রমাণ করতে প্রসিকিউশন ব্যর্থ হয়েছে।

রায়টি কসোভোতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। দেশটির অনেক জাতিগত আলবেনীয় কসোভোর স্বাধীনতা যুদ্ধে কেএলএ ও থাচির ভূমিকার কারণে তাদের শ্রদ্ধার চোখে দেখেন। রাজধানী প্রিস্টিনায় হাজারো মানুষ বড় পর্দায় সরাসরি রায় শুনছিলেন। সাজা ঘোষণার পর অনেকে কেএলএ ও থাচির সমর্থনে স্লোগান দেন।

কসোভোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী গ্লাউক কোনজুফকা রায়টিকে ‘ভয়াবহ ও কসোভোর জন্য ক্ষতিকর’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী এদি রামাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্য হেগের একটি ছবি প্রকাশ করে তাতে আলবেনীয় শব্দ ‘মারে’ লেখেন, যার অর্থ ‘লজ্জা’ বা ‘অপমান’।

অন্যদিকে সার্বিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভিকা দাচিচ রায়গুলোকে প্রিস্টিনার জন্য একটি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষ্য, সার্বিয়ার দাবি অনুযায়ী কেএলএ একটি অপরাধী ও সন্ত্রাসী সংগঠন ছিল এই রায় তারই ‘বিলম্বিত নিশ্চিতকরণ’।

১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি কেএলএর উত্থান হলেও ১৯৯৭ ও ১৯৯৮ সালে তাদের সশস্ত্র তৎপরতা তীব্র হয়। এর জবাবে সার্বীয় বাহিনী বড় ধরনের পুলিশ ও সামরিক অভিযান চালালে ১৯৯৯ সালে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হয়। ওই যুদ্ধে আনুমানিক ১৩ হাজার মানুষ নিহত এবং কয়েক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হন।

যুদ্ধের সময় থাচি কেএলএর রাজনৈতিক ও তথ্যবিষয়ক বিভাগের অন্যতম প্রধান ছিলেন। যুদ্ধ শেষে তিনি কসোভোর প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত দেশটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন। যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে কেএসসি তাকে অভিযুক্ত করার পর ২০২০ সালের নভেম্বরে তিনি প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগ করেন। একই মাসে তাকে ও অন্য অভিযুক্ত কমান্ডারদের দ্য হেগে আটক করা হয়।

আল জাজিরার প্রতিবেদক সোনিয়া গ্যালেগো বলেন, কসোভো বর্তমানে রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। স্থিতিশীল সরকার গঠনের জন্য বারবার নির্বাচন হলেও রাজনৈতিক সমঝোতা না হওয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরির প্রচেষ্টাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তার মতে, এই রায় কসোভোর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পথে আরও একটি বাধা তৈরি করতে পারে।

এদিকে, কসোভোর বালকান ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্টিং নেটওয়ার্কের পরিচালক জেটা জাররার অভিযোগ, কসোভো যুদ্ধে সব পক্ষের অপরাধ সমানভাবে বিচার করা হয়নি। তার দাবি, সার্বীয় বাহিনীর হাতে ১০ হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হলেও এসব অপরাধে অধিকাংশ দায়ী ব্যক্তি বিচারের মুখোমুখি হননি। তার মতে, কেএলএর চার সদস্যের দীর্ঘমেয়াদি সাজা কসোভোর আলবেনীয়দের মধ্যে এই ধারণাকে আরও জোরালো করবে যে আদালতটি মূলত এক পক্ষকেই বিচারের আওতায় আনছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ