সুপল চাকমা নামের একজন অংশগ্রহণকারী বলেন, আমরা প্রতিবছর সাঙ্গু নদের জলে ফুল দিয়ে গঙ্গাদেবী ও জলবুদ্ধের কাছে নিবেদনের মাধ্যমে পুরনো বছরের ভুলভ্রান্তি, পাপ ও অশুভ, কষ্ট যেন চলে যায়; নতুন বছর যেন ভালো কাটে—এই প্রার্থনা করি।
জ্ঞানমনি তঞ্চঙ্গ্যা নামের আরেক অংশগ্রহণকারী বলেন, বিজু ও বিষু আমাদের সংস্কৃতির অংশ।
১৩ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত এই উৎসবে রয়েছে নানা আয়োজন। ঐতিহ্যবাহী ঘিলা খেলা, বিভিন্ন সবজি দিয়ে তৈরি পাচন রান্না, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজন ঘিরে পাহাড়জুড়ে এখন উৎসবের আমেজ।
উদযাপন কমিটির সভাপতি উজ্জ্বল তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, ফুলপূজার মধ্য দিয়ে আমরা উৎসবের সূচনা করেছি। এটি শুধু বর্ষবরণ নয়, আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই উৎসব পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দেয়।
এদিকে, পাহাড়ে বর্ষবরণের উৎসব দেখতে ভোর থেকেই নদীতীরে ভিড় করছে পর্যটক ও স্থানীয় দর্শনার্থীরা। অনেকেই ঐতিহ্যবাহী পোশাকে ছবি তুলছে, কেউ উৎসব উপভোগ করছে।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক সুমিয়া বলেন, পাহাড়িদের উৎসব দেখতে আটজনের একটি বন্ধুর দল বান্দরবান শহরে এসেছে। এখানকার এত সুন্দর ও ভিন্নধর্মী উৎসব আগে দেখিনি। পাহাড়ি সংস্কৃতি কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়ে খুব ভালো লাগছে।
উৎসবের ধারাবাহিকতায় আজ বিকেল সাড়ে ৫টায় রোয়াংছড়ি উপজেলা সদরের হাইস্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহ্যবাহী ঘিলা খেলা।