রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪০ পূর্বাহ্ন

সকালে না খাওয়ার জেরেই বাড়ে অ্যাসিডিটি

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১০ বার

সকালে ঘুম থেকে উঠেই অফিসে যাওয়ার তাড়া থাকে। অনেক সময় ঘুম থেকে উঠতে দেরি হলে অফিসে যেতেও দেরি হয়। এরপর যদি নাস্তা খেতে গেলে আরও দেরি। পরে কিছু না খেয়েই বাসা থেকে বেরিয়ে যাওয়া।

আমরা এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হই অফিসগামী কমবেশি সবাই। প্রায় দিনই খালি পেটে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাই।

কেউ আবার ওজন ঝরাতে গিয়ে সকালের নাস্তা খাওয়া বাদ দেন। কিন্তু এ ধরনের অভ্যাস আমাদের কোনো উপকারে আসে না। বরং নষ্ট হয় বিপাকক্রিয়া।

এর জেরে ভুগতে পারেন ক্রনিক গ্যাস-অম্বলে। অনেক সময় স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া সত্ত্বেও গ্যাস-অম্বলের সমস্যা দেখা দেয়। সে কারণে প্রায়ই ভুগতে হয় পেটফাঁপা, বুক জ্বালা ও পেট ব্যথায়। সকালে না খাওয়ার করার জেরেই এমনটি দেখা দেয়। এতে অ্যাসিডিটির প্রবণতা বাড়ে।

তাই এমনভাবে খাওয়ার সময়টা নির্ধারণ করতে হবে যাতে অন্তত কিছু সময় থাকে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টার মধ্যে নাস্তা করে ফেলা সবচেয়ে ভালো। কারণ রাতে ঘুমানোর কারণে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা আমাদের পেট পুরো খালি থাকে। এই দীর্ঘবিরতির পর সকালে সঠিক সময় খাবার না খেলে শরীরে নানা বিরূপ প্রভাব পড়ে। যার মধ্যে অন্যতম হলো তীব্র অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা। অনেক সময়ে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া সত্ত্বেও গ্যাস-অম্বলের সমস্যা দেখা দেয়। এসব ব্রেকফাস্ট না করার জেরেই দেখা দেয়।

আপনার শরীরের জৈবিক ঘড়ি অনুযায়ী, সকালে ঘুম থেকে ওঠার আগেই পাকস্থলীতে গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিড তৈরি হতে থাকে। যখন ঘুম থেকে ওঠার কোনো সলিড ফুড খান না, তখন খালি পেটেই ওই অ্যাসিড জমতে থাকে। যার জেরে পেটে জ্বালা ভাব অনুভব হয়। তারপরেই বুক জ্বালা, ঢেকুর ওঠা, বমি বমি ভাব এবং জিভে টক ভাব সমস্যা দেখা দেয়।

এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যারাই গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজে ভোগেন, তাদের অধিকাংশই ব্রেকফাস্ট স্কিপ করেন। সে জন্য ঘুমানোর সময়ও পাকস্থলীতে ধীরে ধীরে অল্প পরিমাণে অ্যাসিড তৈরি হয়। সকালের নাস্তার অন্যতম কাজই হলো- রাতভর যে অ্যাসিড তৈরি হবে, তা দূর করা। তাই নাস্তা না করলে অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা হবেই। কিন্তু ঘুম থেকে উঠেই ভারি খাবার খাওয়া যায় না। তবে ঘুমভাঙার এক-দেড় ঘণ্টার মধ্যেই নাস্তা সারতে হবে। তবেই হজম প্রক্রিয়া সচল থাকবে। ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস পানি খান। তারপর ৬০-৯০ মিনিটের মধ্যে ব্রেকফাস্ট খেয়ে নিন।

সকালের বিশেষ ধরনের খাবার খাওয়া উচিত। অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা কমাতে ওটস, আটার রুটির মতো গোটাশস্য জাতীয় খাবার খেতে হবে। খালি পেটে তেল-মসলাদার, সাইট্রাস জুস বা কার্বোনেটেড পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত। আবার অনেকেই ভারি খাবার খাওয়ার বদলে চা-কফি খেয়ে দিন শুরু করেন। পেট ভরাতে দুটো বিস্কুট বা কেক খান। এটা মোটেও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস নয়। চা-কফি সকালের নাস্তার বিকল্প হতে পারে না। তাই ভারি খাবার খাওয়ার পরেই চা-কফি খাওয়া উচিত।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ