রবিবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৫, ০১:৪২ অপরাহ্ন

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পর্যটন ছাড়া সব খুলছে

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পর্যটন ছাড়া সব খুলছে

স্বদেশ ডেস্ক:

করোনা ভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণে দেশের পরিস্থিতি এখনো ভয়াবহ। এর পরও টানা ১৯ দিনের লকডাউনের সমাপ্তি টানতে হচ্ছে সরকারকে। কারণ জীবন-জীবিকার বাস্তবতা। এই কঠিন বাবস্তবতা বিবেচনায় চলমান বিধিনিষেধের বেশিরভাগ শর্ত আগামী বুধবার থেকে শিথিল করা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি অফিস, গণপরিবহন, শপিংমলসহ দোকানপাট সবই খুলছে। শুধু বন্ধ থাকছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পর্যটনকেন্দ্র, কমিউনিটি সেন্টার ও রিসোর্ট। গতকাল রবিবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

উপসচিব মো. রেজাউল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ১১ আগস্ট থেকে সব ধরনের সরকারি-বেসরকারি অফিস, যানবাহন, বিপণিবিতান ও দোকানপাট স্বাস্থ্যবিধি মেনে চালু করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। শিল্পকারখানা ১ আগস্ট থেকেই খোলা রয়েছে। গণপরিবহনের ক্ষেত্রে প্রত্যেক এলাকার প্রতিদিন মোট যানবাহনের অর্ধেক গাড়ি রাস্তায় নামানোর শর্ত দেওয়া হয়েছে। শপিংমল, মার্কেট, দোকানপাট সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে খোলা রাখা যাবে। খাবারের দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁ অর্ধেক আসন খালি রেখে সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। এ ছাড়া আদালতগুলোর কার্যক্রম বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন সুপ্রিমকোর্ট।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতামত উপেক্ষা করেই কোরবানির ঈদ উপলক্ষে ১৫ থেকে ২২ জুলাই ৯ দিন লকডাউন শিথিল করে সরকার। ঈদের একদিন পর ২৩ জুলাই থেকে ফের লকডাউন শুরু হয়। এর মধ্যেই হঠাৎ ১ আগস্ট থেকে শিল্পকারখানা খোলার সিদ্ধান্ত দেয় সরকার। কিন্তু ছুটিতে বাড়িতে চলে যাওয়া শ্রমিক-কর্মীদের ফেরাতে কোনো পরিবহনের ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে হেঁটেই হাজার হাজার মানুষকে ঢাকায় ফিরতে দেখা গেছে। পরে সমালোচনার মুখে দেড় দিনের জন্য বাস ও লঞ্চ চলাচলের অনুমতি দেয় সরকার।

গতকাল সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, কাজের প্রয়োজনে যারা বাড়ির বাইরে থেকে আসছে, তাদের টিকায় অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, যেহেতু দোকানপাট খুলতে হবে- সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। আমরা চাইব সবাই যেন মাস্ক পরে। দোকানদার, ইমাম-মুয়াজ্জিন, ড্রাইভার-হেলপারদের প্রাধান্য দিয়েছি টিকা কার্যক্রমে। কারণ তাদের বাইরে যেতে হয়। মানুষের সঙ্গে মিশতে হয়।

হেলথ অ্যান্ড হোপ স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী আমাদের সময়কে বলেন, লকডাউন তুলে দেওয়ার বাস্তবতা রয়েছে। কারণ একটি দেশকে দীর্ঘ সময় অচল করে রাখা যায় না। মানুষের রুটি-রুজির ব্যাপার আছে। সে দৃষ্টিকোণ থেকে লকডাউন আর বেশি দিন চালানো যায় না। তিনি বলেন, অর্ধেক গণপরিবহন চালু হলে মানুষ গাদাগাদি করেই যাতায়াত করবে। ফলে করোনা সংক্রমণ বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। বরং গণপরিবহন যত বেশি চলবে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল করতে পারবে। করোনা নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যবস্থাপনা সব সময়ই উল্টো পথে হেঁটেছে। যেটি করার কথা সেটি না করে অন্যটি করা হয়েছে।

এই জনস্বাস্থ্যবিদ বলেন, টিকাদান কার্যক্রম বেগবান করার পাশাপাশি জনসাধারণকে মাস্ক পরার বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। এ জন্য পাড়া-মহল্লায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক টিম তৈরি করতে হবে। এসব টিম মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা নেওয়া ও মাস্ক পরার বিষয়ে সচেতন করবে।

ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, সামর্থ্যহীন মানুষের মধ্যে কাপড়ের মাস্ক বিতরণ করতে হবে। এ ছাড়া অভাবগ্রস্ত মানুষের ঘরে খাবার পৌঁছে দিয়ে তাদের বাইরে বের হওয়ার বিষয়ে সচেতন করতে হবে। এসব কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে চালাতে পারলে করোনা নিয়ন্ত্রণে আমরা সফল হতে পারব।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

© All rights reserved © 2019 shawdeshnews.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
themebashawdesh4547877