২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও স্বাভাবিক হয়নি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের যান চলাচল। শনিবার বিকেলেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। সড়ক সংস্কার কাজকে কেন্দ্র করে মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে যানবাহন চলছে ধীরগতিতে। কোথাও কোথাও সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজট। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দূরপাল্লার বাসের যাত্রী, পণ্যবাহী ট্রাকচালকসহ হাজারো মানুষ।
শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এ যানজট শনিবার বিকেল পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। কুমিল্লার পদুয়ার বাজার, আমতলীসহ মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে যানবাহনের চাপ বেশি থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই জায়গায় আটকে থাকতে হচ্ছে যাত্রী ও চালকদের।
ঢাকাগামী পণ্যবাহী ট্রাকচালক আবুল হোসেন বলেন, ‘চার-পাঁচ ঘণ্টা ধরে কুমিল্লার অংশেই আটকে আছি। কখন ঢাকায় পৌঁছাতে পারব জানি না। মালিক ও পণ্যগ্রহীতারা বারবার ফোন করে জানতে চাইছেন কখন পৌঁছাব। ভিডিও কলে তাদের আমার অবস্থান দেখিয়েছি।’
বাসযাত্রী সোনিয়া আক্তার বলেন, ‘ভোর সাড়ে পাঁচটার প্রথম ট্রিপেই বাসে উঠেছি। আশা ছিল দুপুর দুইটার মধ্যে ঢাকায় পৌঁছে বিকেল তিনটার মিটিংয়ে যাব। অথচ এখনো কুমিল্লার পদুয়ার বাজারেই আছি। এভাবে কর্মঘণ্টা নষ্ট হলে কীভাবে কাজ করব বুঝতে পারছি না।’
আরেক যাত্রী ইকবাল হোসেন জানান, ঢাকার শিশু হাসপাতালে তার মেয়ের চিকিৎসা চলছে। মেয়েকে দেখতে ও চিকিৎসার খরচের টাকা নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন তিনি। কিছু টাকা বিকাশে পাঠিয়েছেন। কিন্তু যানজটের কারণে সময়মতো ঢাকায় পৌঁছাতে পারবেন কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
চালকদের অভিযোগ, মহাসড়কে সংস্কারকাজ চললেও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য কার্যকর ব্যবস্থাপনা না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। একদিকে সড়কের খানাখন্দ ও সংস্কারকাজ, অন্যদিকে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ—দুইয়ে মিলে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজট।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, সংস্কারকাজ শেষ হলে ভোগান্তি কমে আসবে। যানজট ও ধীরগতি কমিয়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।
হাইওয়ে পুলিশ সুপার শাহিনুর আলম খান বলেন, মহাসড়কে যানবাহনের শৃঙ্খলা রক্ষায় হাইওয়ে পুলিশ কাজ করছে। সড়কের খানাখন্দ ও সংস্কারকাজের কারণে গত কয়েকদিন ধরে আমতলী এলাকায় যানবাহনের ধীরগতি দেখা দেয়, পরে তা যানজটে রূপ নেয়।