সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬, ১২:৫২ অপরাহ্ন

হলান্ডের জোড়া গোলে ব্রাজিলকে বিদায় করে কোয়ার্টারে নরওয়ে

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬
  • ৬ বার

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে শেষ মুহূর্তের দুই গোলে নরওয়েকে ইতিহাস গড়ার স্বাদ দিলেন আর্লিং হলান্ড। তার জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে ব্রাজিলকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে নরওয়ে। একই সঙ্গে ১৯৯০ সালের পর এবারই প্রথম এত দ্রুত বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হলো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে।

যুক্তরাষ্ট্রের মেট লাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে দীর্ঘ সময় গোলশূন্য থাকার পর ৭৯তম মিনিটে বাঁ দিক থেকে আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের বাড়ানো বল জালে পাঠিয়ে নরওয়েকে এগিয়ে দেন হলান্ড। এরপর নির্ধারিত সময়ের একেবারে শেষ মিনিটে নিচু ও শক্তিশালী শটে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের জয়ের নিশ্চিতকারী গোলটি করেন তিনি।

এই দুই গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় ৭ গোল নিয়ে লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের সমকক্ষ হয়েছেন হলান্ড। জাতীয় দলের হয়ে তার টানা গোল করার ধারাও পৌঁছেছে ১৪ ম্যাচে। এই সময়ে তিনি করেছেন ২৭টি গোল।

প্রথমার্ধে এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল ব্রাজিল। ভিডিও সহায়তায় নেওয়া সিদ্ধান্তে ক্রিস্টোফার আয়ারের ফাউলের জন্য পেনাল্টি পায় দলটি। কিন্তু ব্রুনো গিমারায়েসের নেওয়া শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক ওরইয়ান নিলান্দ।

দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে আবারও পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। কাসেমিরোর ওপর ফাউলের পর নেওয়া সেই পেনাল্টি থেকে নেইমার গোল করলেও তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। সেই গোল ব্রাজিলকে হার থেকে রক্ষা করতে পারেনি।

কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের প্রতিপক্ষ হবে মেক্সিকো অথবা ইংল্যান্ড।

অন্যদিকে, শিরোপা জয়ের অন্যতম দাবিদার হিসেবে বিশ্বকাপে আসা ব্রাজিল এবার প্রত্যাশার তুলনায় বড় ধরনের ব্যর্থতার মুখে পড়েছে। ১৯৯৪ থেকে ২০২২ পর্যন্ত প্রতিটি বিশ্বকাপেই তারা অন্তত কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছিল। সেই ধারাও এবার নরওয়ের কাছে হেরে ভেঙে গেল।

২০০২ সালে সর্বশেষ বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে ইউরোপের দলের বিপক্ষেই টানা ছয়বার বিদায় নিল ব্রাজিল। ফলে তাদের শিরোপা খরাও আরও দীর্ঘ হলো। ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হলে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে তাদের ২৮ বছর অপেক্ষা করতে হবে, যা তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ শিরোপা-খরা হবে।

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে পেনাল্টি মিস করা খেলোয়াড়দের তালিকায় ১৯৮৬ সালের পর প্রথম নাম যোগ করলেন ব্রুনো গিমারায়েস। তার বদলে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে দিয়ে পেনাল্টি না নেওয়ানোর সিদ্ধান্তও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

ম্যাচজুড়ে ব্রাজিল আরও কয়েকটি ভালো সুযোগ নষ্ট করেছে। বিশেষ করে কাসেমিরো এক পর্যায়ে নেইমারকে সঠিকভাবে বল বাড়াতে না পারায় সম্ভাব্য সমতার গোলের সুযোগ হাতছাড়া হয়।

নরওয়ের জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান রাখেন ৩৫ বছর বয়সী গোলরক্ষক ওরইয়ান নিলান্দ। ম্যাচের শুরুতেই তিনি ব্রুনো গিমারায়েসের পেনাল্টি রুখে দেন। পরে ম্যাচের শেষদিকে এন্দ্রিকের বিপজ্জনক শটও অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দলকে এগিয়ে রাখেন।

পুরুষদের বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি নরওয়ের অন্যতম স্মরণীয় সাফল্য। এর আগে ১৯৩৮ ও ১৯৯৮ সালে শেষ ষোলোতে উঠলেও তারা কখনো কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছাতে পারেনি। সর্বশেষ ১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপে খেলেছিল নরওয়ে।

চোট কাটিয়ে দলে ফেরা রক্ষণভাগের খেলোয়াড় ইউলিয়ান রিয়েরসন এবং বিরতির পর কোচ স্তোলে সোলবাক্কেনের কৌশলগত পরিবর্তনও নরওয়ের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বদলি হিসেবে নামা আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপই হালান্ডের দুটি গোলেই সহায়তা করেন।

গ্যালারিতে ব্রাজিলের সমর্থকের সংখ্যাই ছিল বেশি। তবে নরওয়ের সমর্থকদের বিখ্যাত ভাইকিং সারিবদ্ধ উল্লাসও ছিল চোখে পড়ার মতো। ম্যাচ শুরুর আগে ব্রাজিলের সমর্থকেরাও সেই উল্লাসে অংশ নিলেও শেষ বাঁশি বাজার পর তাদের মুখে নেমে আসে নীরবতা।

৮০ হাজার ৬৬৩ দর্শকের পূর্ণ গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিখ্যাত সংগীতশিল্পী জে-জেড, কৌতুকশিল্পী ক্রিস রক, অভিনেতা উডি হ্যারেলসন, অভিনেত্রী সোফিয়া ভারগারা এবং উত্তর আমেরিকার পেশাদার বাস্কেটবল লিগের চ্যাম্পিয়ন নিউ ইয়র্ক নিকস দলের তারকা জেলেন ব্রানসন। বড় পর্দায় তার ছবি ভেসে উঠলে দর্শকদের কাছ থেকে জোরালো করতালিও শোনা যায়।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ