বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আগামীকাল কুড়িগ্রাম যাচ্ছেন এনসিপির ৩ নেতা ময়মনসিংহে ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষ, নিহত ৩ মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি : ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে সবসময় থাকার প্রতিশ্রুতি ডা. জুবাইদা রহমানের প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে যোগ দিলেন রাশেদ খাঁন দিল্লিমুখী হাজারো কৃষক, নতুন চাপে মোদি সরকার ভিডিও ইস্যুতে এবার মুখ খুললেন জামায়াত এমপির ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ পারফর্ম করতে না পারলে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন স্বাভাবিক-তথ্য উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘বার্থা’ সরকারের ঋণ বেড়েছে ২৩ হাজার ৫৩২ কোটি টাকা আফগানিস্তানে আকস্মিক বন্যায় নিহত ২০, নিখোঁজ শতাধিক

সড়কেই ইফতার, দায়িত্বে অবিচল ট্রাফিক পুলিশ

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬
  • ১৩০ বার

রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা গুলশান-১। সারাদিনই এখানে লেগে থাকে যানজট, গাড়ির হর্ন আর মানুষের ব্যস্ততা। সন্ধ্যা নামার সময়ও এর ব্যতিক্রম ঘটে না। চারদিকে যখন যানবাহনের চাপ আর কোলাহল, ঠিক তখনই মসজিদ থেকে ভেসে আসে মাগরিবের আজান। সেই সময়টাতেই এক ভিন্ন দৃশ্য চোখে পড়ে- এক হাতে যানবাহনের সিগন্যাল দিচ্ছেন, অন্য হাতে পানির বোতল থেকে পানি মুখে দিচ্ছেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্য। রমজানজুড়ে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে এমন দৃশ্যই দেখা যায় প্রতিদিন।

যখন বিভিন্ন পেশার মানুষ পরিবারের সঙ্গে ইফতারের টেবিলে বসতে ব্যস্ত, তখন সড়কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। ইফতারির সময়েও দায়িত্ব পালনে বিরতি দেন না তারা।

গতকাল গুলশানে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট মনির হোসেন জানান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) থেকে তাদের জন্য ইফতার সরবরাহ করা হয়। তিনি বলেন, ‘এটা আমার দায়িত্ব। কষ্ট হলেও দায়িত্ব পালন করি, যাতে অন্যরা ভালোভাবে পরিবারের সঙ্গে ইফতার করতে পারে। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, বসার সুযোগ নেই। টানা তিন ঘণ্টা একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি।’

তিনি আরও জানান, পরিবারকে অবশ্যই মিস করেন। তবে যেদিন সকালে শিফট ডিউটি থাকে, সেদিন পরিবারের সঙ্গে ইফতার করার সুযোগ হয়। ‘দেশের মানুষকে ভালো রাখা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য,’ যোগ করেন তিনি।

দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা জানান, ইফতারের আগে যেন মানুষ নিরাপদে বাসায় পৌঁছাতে পারে, সেটিই তাদের প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, ‘আজানের সময়ও যদি রাস্তায় গাড়ির চাপ থাকে, তাহলে আমরা আগে পানি পান করে রোজা ভেঙে নিই। পরে যখন রাস্তা কিছুটা ফাঁকা হয়, তখন ইফতার করি। তাই হাতে সবসময় একটি পানির বোতল ও খেজুর থাকে।’

ট্রাফিক কনস্টেবল প্রদীপ বলেন, তিনি নিজে রোজাদার না হলেও সহকর্মীদের কথা বিবেচনা করে ইফতারের সময় দায়িত্ব পালন করেন। তার ভাষায়, ‘আমাদের যারা রোজা রেখেছেন, তাদের ইফতার করা জরুরি। তাই এই সময়টা আমি সড়কে দায়িত্ব পালন করছি। পরে আমি ইফতার করতে পারব, কিন্তু যারা সারাদিন রোজা রেখে কাজ করেছেন, তাদের বিষয়টি সহকর্মী হিসেবে দেখা আমার দায়িত্ব।’

ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা প্রতিদিন দুই শিফটে দায়িত্ব পালন করেন। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বেলা ২টা এবং বেলা ২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দুই পালায় তারা সড়কে কাজ করেন। বিকালের শিফটে যারা দায়িত্বে থাকেন, তাদের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে ইফতার সরবরাহ করা হয়।

সিগন্যালে দায়িত্ব পালনকারী এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘পরিবারের সঙ্গে আমাদের ইফতার হয় না। যদি আমরা বাসায় গিয়ে ইফতার করি, তাহলে দায়িত্ব পালনে সমস্যা হবে। তাই বেশিরভাগ সময় আমাদের ইফতার রাস্তাতেই হয়। অনেক সময় গাড়ির চাপ বেশি থাকলে শুধু পানি খেয়ে রোজা ভাঙতে হয়, পরে সুযোগ পেলে ইফতার করি।’

ইফতারের সময় সড়কে যানবাহনের চাপ কিছুটা কমলেও দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার সুযোগ নেই ট্রাফিক সদস্যদের। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তখনও তাদের সতর্ক থাকতে হয়।

রমজানের প্রতি সন্ধ্যায় রাজধানীর ব্যস্ত সড়কগুলোয় তাই দেখা যায় এক ভিন্ন চিত্র। পরিবারের সঙ্গে ইফতার করার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হলেও অন্যদের নিরাপদে ঘরে ফিরতে সহায়তা করেন ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ