ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করলেন রাহুল গান্ধীসহ ১১ বিরোধী নেতা। একই দাবিতে ‘সুপ্রিম কোর্ট চলো’ মিছিলও করেন তারা, যদিও মাঝপথে তা আটকে দেয় দিল্লি পুলিশ। খবর আনন্দবাজার।
এর ঠিক আগেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে তীব্র আক্রমণ করেন রাহুল। কংগ্রেস সদর দফতরে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, ‘জ্ঞানেশ কমার ভয়ে আছেন। রাতে ঘুমোতে পারছেন না। তিনি এই সাংবাদিক বৈঠকও দেখছেন।’
রাহুলের বার্তা, ‘রাজসাক্ষী হয়ে যান। পদত্যাগ করুন। সেটাই হবে আপনার দেশসেবা। আপনি অপরাধ করেছেন, কিন্তু মূল অপরাধী নন। আমরা জানি, আপনি কী পরিমাণ চাপের মধ্যে রয়েছেন।’
তার অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ, অজিত ডোভাল ও গৌতম আদানি জ্ঞানেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন।
পুলিশের ভূমিকা নিয়েও বিস্ফোরক দাবি করেন রাহুল। বলেন, ‘৫০ শতাংশ পুলিশ আধিকারিক বলছেন, বিরোধীরা ঠিক কাজ করছেন। পুলিশকর্মীরাও প্রশ্ন তুলছেন, ‘জ্ঞানেশ কুমারের মতো একজন চোরকে আমরা কেন রক্ষা করছি’?’
এদিন বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন ১১ নেতা। তারা হলেন – রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়্গে, সৌগত রায়, অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদব, সঞ্জয় রাউত, এমএ বেবি, ডি রাজা, মহুয়া মাজি, সুপ্রিয়া সুলে এবং ইটি মহম্মদ বশির। অভিযোগ ‘ভোটচুরি’ এবং ‘অসাংবিধানিক কার্যকলাপ’। দাবি – সিইসির অপসারণ এবং এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিল। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এই মামলার শুনানি হতে পারে।
অন্যদিকে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলন ঘিরেও উত্তেজনা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, যন্তর মন্তরে আর বিক্ষোভ করতে পারবে না সিজেপি। তাদের জন্য রামলীলা ময়দান, বুরারি মাঠ ও পূর্ব দিল্লির সিবিডি মাঠ নির্ধারণ করা হয়েছে। ১১ অক্টোবর পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমারের নির্দেশে যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভস্থল হিসেবে বাতিল করা হয়। অথচ ২৮ এপ্রিলের নির্দেশিকায় যন্তর মন্তরকেই প্রতিবাদস্থল করা হয়েছিল।
এই নির্দেশিকার পর ককরোচ প্রধান অভিজীত দিপক বলেন, ‘এবার পুরো দেশই যন্তর মন্তর হবে।’
এদিনের মিছিলে ব্যাটম্যানের মুখোশ পরে নজর কাড়েন রাহুল। এনএসইউআই কর্মীরা ওই মুখোশ বিলি করেন, যার মাধ্যমে রাহুলকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে যোদ্ধা হিসেবে তুলে ধরছে কংগ্রেস।