সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে উৎপাদন বাড়াতে জোর প্রধানমন্ত্রীর প্রেমভিত্তিক নাটক-সিনেমা নির্মাণ ও সম্প্রচার বন্ধ চেয়ে হাইকোর্টে রিট নারায়ণগঞ্জে হত্যা মামলায় ৭ জনের যাবজ্জীবন হাইকোর্টের রায় : আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে হরতাল ডাকা যাবে না নিষিদ্ধই থাকছে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম, রিট খারিজ সচল হলো আদানির বিকল ইউনিট, স্বাভাবিক হচ্ছে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফরের নতুন তারিখ ঘোষণা গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করতে হবে: রাষ্ট্রপতি কোন ডিসেম্বর আসবেন ক্লিয়ার করেন, শেখ হাসিনাকে হুইপ দুলু সবার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে: ডা. জুবাইদা রহমান

প্রেমভিত্তিক নাটক-সিনেমা নির্মাণ ও সম্প্রচার বন্ধ চেয়ে হাইকোর্টে রিট

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২ বার

প্রেমভিত্তিক নাটক ও সিনেমা নির্মাণ এবং সম্প্রচার বন্ধ চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। আজ রোববার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন।

রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিট আবেদনে বলা হয়েছে, দেশের বর্তমান চলচ্চিত্র ও নাটকশিল্পে কেবল প্রেম এবং মাত্রাতিরিক্ত রোমান্টিক কনটেন্টের অবাধ সম্প্রচার সমাজে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। মূলধারার এসব গণমাধ্যমে পরকীয়া, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, ব্যভিচার ও ধর্ষণের মতো বিষয়কে অত্যন্ত স্বাভাবিক ও মহিমান্বিত করে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এর ফলে যুবসমাজ ও শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার থেকে মারাত্মকভাবে বিচ্যুত হচ্ছে। একই সঙ্গে সমাজের ঐতিহ্যবাহী নৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ে চরম সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি হচ্ছে।

রিট আবেদনে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস, ডেইলি সাবাহ ও দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের বিভিন্ন গবেষণাধর্মী প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, লাগামহীন রোমান্টিক ও উসকানিমূলক সিনেমা যুবসমাজের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করে। একই সঙ্গে এসব কনটেন্ট সমাজে নারীদের প্রতি সহিংসতা ও অপরাধ বাড়াতেও সরাসরি ভূমিকা রাখে।

আবেদনে আরও বলা হয়েছে, সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে বাক্‌ ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলা হলেও তা শালীনতা বা নৈতিকতার স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসংগত বাধানিষেধের অধীন। জননৈতিকতা ধ্বংসকারী ও সামাজিক অপরাধে প্ররোচনা দেয়—এমন কোনো কনটেন্ট অবাধে সম্প্রচার করা সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদের সুরক্ষা পেতে পারে না। এ ছাড়া সংবিধানের ২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব।

রিটে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন আইন, ২০২৩’-এর ৫(২) ও ৮(১) ধারা অনুযায়ী পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষা করা এবং এর পরিপন্থী কনটেন্টের অনুমোদন বাতিল করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিধিবদ্ধ দায়িত্ব। অন্যদিকে, ‘কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন, ২০০৬’-এর ১৯ ও ২০ ধারা অনুযায়ী শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং যুবসমাজের মনস্তাত্ত্বিক ক্ষতি করে—এমন যেকোনো সম্প্রচার নিষিদ্ধ করার স্পষ্ট আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

তবে বিবাদীরা তাদের এই আইনি ও সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ক্রমাগত ও ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যর্থ হয়েছেন বলে রিট আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে বিষয়টিকে চরম প্রশাসনিক অবহেলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

রিটে প্রেমভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাণ ও সম্প্রচার নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি যুবসমাজের সৃজনশীল মেধার বিকাশ ও দেশপ্রেম জাগ্রত করতে বিজ্ঞান, শিক্ষা, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও প্রতিরক্ষাভিত্তিক চলচ্চিত্র এবং নাটক নির্মাণ ও সম্প্রচারের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশনা জারির আরজি জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন গণমাধ্যমকে জানান, গত ২৭ আগস্ট এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে বিবাদীদের আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। নোটিশের পরও কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নেওয়ায় জনস্বার্থে ও জাতীয় সংস্কৃতি রক্ষার লক্ষ্যে হাইকোর্টে রিটটি দায়ের করা হয়েছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ